তামিম-বিজয়দের আত্মবিশ্বাসের প্রদর্শনী

রঙ্গীন পোশাক, সাদা বল, ফ্লাড লাইটের চোখ ধাঁধানো আলো; দিবা-রাত্রির ম্যাচ ফিরলো কাল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে। তাতে সবুজ দল জিতলেও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে অন্যদের ছাড়িয়ে গেলেন লাল দলের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও এনামুল হক বিজয়। অবশ্য দিবা-রাত্রির ম্যাচ বললেই যেমন উত্তেজনা তৈরি করা আন্তর্জাতিক ম্যাচের কথা মনে পড়ে, তেমন কিছু নয়। জাতীয় দল ও আশপাশের খেলোয়াড়দের লাল-সবুজ দুই দলে ভাগ করে সেই প্রস্তুতি ম্যাচ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরকে সামনে রেখে এর আগেই একটা টেস্ট মেজাজের ম্যাচ খেলিয়েছেন বাংলাদেশ কোচ চন্দ্রিকা হাতুরাসিংহে। কাল ছিল ওয়ানডের জন্য প্রস্তুতির চূড়ান্ত পরীক্ষা। আর সেটাই দিবা-রাত্রির আয়োজন হলো। এইসব ম্যাচে ফলাফলটা কখনোই গুরুত্বপূর্ণ কিছু না। তাই ম্যাচ জিতে যাওয়ার পরও ব্যাট চালিয়ে গেল মুশফিকুর রহিমের দল। এই ফলাফলের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার ছিল, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সগুলো এবং খেলোয়াড়দের ম্যাচে মেজাজের পরীক্ষা। সেই ব্যক্তিগত পরীক্ষায় দারুণ মার্ক নিয়ে পাস করে গেলেন মুক্তার আলী, ইমরুল কায়েসরা। তবে সবাইকে ছাপিয়ে গেলেন লাল দলের দুই ওপেনার তামিম ও বিজয়। ইমরুলের ৫৯ ও মুক্তারের ৬১ রানে ভর করে ৪৪.১ ওভারে অল-আউট হওয়ার আগে ২০১ রান তুলেছিল লাল দল। জবাবে ৩৭.৫ ওভারেই দুই উইকেট হারিয়ে ম্যাচ জিতে গেল সবুজ দল। এরপরও চলতে থাকলো খেলা। এর মধ্যে তামিম এক দানবীয় ইনিংস খেললেন এবং বিজয় উপহার দিলেন অসামান্য এক ইনিংস। বিজয় ম্যাচ জেতা পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৯৩ রানে। পরে ১০৩ রান করে স্বেচ্ছা অবসরে যান তিনি। প্রথম অনুশীলন ম্যাচেও ফিফটি পেয়েছিলেন তামিম; কিন্তু সেটা ছিল একেবারেই স্বভাব বিরুদ্ধ ইনিংস। কার্যত গত বছর খানেকেও কোনো পর্যায়েই সেই মারকাটারি তামিমকে দেখা যাচ্ছিল না। অবশেষে গতকাল ফিরলেন সেই দানবীয় রূপে। লাল দলের হয়ে ২০২ রানের লক্ষ্যে ছুটতে গিয়ে এনামুল হক বিজয়ের সঙ্গে ১১৭ রানের জুটি করলেন এই বাহাতি ওপেনার। নিজে নাসিরের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৬৬টি বলে ৭০ রানের এক মন ভরানো ইনিংস খেললেন। এর মধ্যে ৪টি চার ও ৪টি ছক্কা। আব্দুর রাজ্জাক ও নাসির হোসেনকে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসে লং অফ দিয়ে যে দুটো ছক্কা মারলেন, তাই যথেষ্ট চেনা তামিমকে চেনাতে। দিনশেষে ইমরুল বললেন, ফলাফল যাই হোক না কেন, তাদের জন্য এই প্রস্তুতি ম্যাচটা দারুণ কাজে লেগেছে। তার মতে এখানেও রান করাটা আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে তাকে এবং বাকীদের, ‘প্রস্তুতি ম্যাচের আগে আমরা কঠোর অনুশীলন করেছি। সেটারই ফল দেখার জন্য আমাদের অনুশীলন ম্যাচ দুইটি করা অনেক দরকার ছিল। একজন ব্যাটসম্যান যেখানেই রান করুন না কেন আত্মবিশ্বাসটা আসলে থেকে যায়। পরবর্তীতে যে কন্ডিশেনেই খেলুক না কেন। আমার মনে হয়- এখানেই রান করি কিংবা অন্য যে কোন জায়গায় করি- আত্মবিশ্বাস থাকলে যে কোন কন্ডিশনে গিয়েই এটা মানিয়ে নেয়া সম্ভব।’ এই আত্মবিশ্বাস অবশ্য ইমরুলের আগে থেকেই একটু অন্যদের চেয়ে বেশি থাকার কথা। গত বছরই দীর্ঘদিন পর ফিরেছেন জাতীয় দলে। ফিরেই টেস্ট সেঞ্চুরি, ওয়ানডে ফিফটি করেছেন। রান পেয়েও পরে দলে জায়গা না পাওয়া নিয়ে আফসোস থাকতে পারে। তবে সর্বশেষ ‘এ’ দলের হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে আবারও রান পাওয়ায় আত্মবিশ্বাসের কমতি নেই। ইমরুল বলছিলেন, ‘আমি যেখানেই খেলি, যে ফরম্যাটেই খেলি চেষ্টা করি নিজের সেরাটা খেলার। ওয়েস্ট ইন্ডিজে রান করা যথেষ্ট কঠিন ব্যাপার। আমি নিজেকে বারবার বলেছি, রান করতে হবে। সেটা করতে পেরেছি। এখন সুযোগ পেলে কাজে লাগাতে চাই।’