তোবার সব কারখানা সচল রাখার দাবি, জুলাইয়ের বেতন আজ

তোবা গ্রুপের পাঁচটি কারখানা সচল রাখার দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারী শ্রমিকরা। একই সঙ্গে, ওইসব কারখানায় কাজ করা সব শ্রমিকের চাকরি বহাল রাখা, আন্দোলনে থাকা শ্রমিকদের নামে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও বেতন ছাড়া বোনাস ও অন্যান্য পাওনাও পরিশোধের দাবি তাদের। গতকাল সংসদ এলাকায় পার্লামেন্ট মেম্বারস ক্লাবে নৌ মন্ত্রী শাজাহান খান, শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু, বিজিএমইএ’র নেতা ও গার্মেন্টস শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ দাবি তুলে ধরা হয়। তোবা গ্রুপ শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির পক্ষে এ দাবি তুলে ধরেন আন্দোলনকারী ও পুলিশের হাতে আটক হওয়া নেত্রী জলি তালুকদার। ওই সভায় তোবা গ্রুপের বেশ কিছু শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন। তোবা গ্রুপ আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী শ্রমিক নেত্রী মোশরেফা মিশু উপস্থিত না থাকলেও তার সংগঠনের কয়েকজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে দেশের বিভিন্ন স্থান গার্মেন্টসে ধর্মঘটের কোনো প্রভাব পড়েনি। এদিকে তোবা গ্রুপের শ্রমিকদের জুলাই মাসের বেতন ও ওভারটাইমের অর্থ আজ রবিবার (১০ আগস্ট) বেলা দুইটা থেকে বিজিএমইএ ভবনে দেয়া শুরু হবে। এছাড়া শ্রমিকদের ঈদ বোনাসের অর্থও শিগগিরই দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন শাজাহান খান। তোবা ইস্যুতে বিভক্ত হয়ে যাওয়া উভয় অংশের শ্রমিক সংগঠনের নেতারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। গতকাল তোবা গ্রুপ শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির আহ্বানে দেশব্যপী শ্রমিক ধর্মঘট থাকলেও কারখানাগুলোতে এর প্রভাব পড়েনি। শিল্প পুলিশের ডিআইজি আব্দুস সালাম ইত্তেফাককে বলেন, দিনভর সাভার আর গাজীপুর এলাকার কারখানাগুলো সচল ছিল। এছাড়া দেশের অন্যান্য জায়গায়ও কারখানায় কাজ চলেছে। তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, বিভিন্ন এলাকায় আংশিক ধর্মঘট পালিত হয়েছে। মোশরেফা মিশু বলেন, বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ ধর্মঘটের পক্ষের শ্রমিকদের উপর দমননীতি চালিয়েছে। হাজারীবাগ এলাকায় পলাশ নামে এক আন্দোলনকারীকে পিটিয়ে তার মোবাইল ফোন নিয়ে গেছে। এছাড়া অন্যান্য জায়গায় শ্রমিকরা রাস্তায় নামলেও পুলিশ ও স্থানীয়দের হামলায় সর্বাত্বক ধর্মঘট পালন করা যায়নি। এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, তোবা গ্রুপের ১৭ শ্রমিকের নামে মামলা হয়েছে বলে শুনেছি। মামলা প্রত্যাহার না করলে অসন্তোষ আবার বাড়তে পারে। আন্দোলনকারী নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, ধর্মঘট আংশিক পালিত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে ৫ স্থানে মিছিল হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য স্থানে পুলিশ ধর্মধটের পক্ষের শ্রমিকদের উপর হামলা চালিয়েছে। আজ দুপুর থেকে জুলাইয়ের বেতন গতকাল সরকার মালিক ও শ্রমিক নেতাদের বৈঠকে তোবা গ্রুপের ৫টি কারখানার সাড়ে ১৪শ’ শ্রমিকের জুলাই মাসের বেতন ও ওভারটাইমের পাওনা পরিশোধ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া ঈদ বোনাসের অর্থও শিগগিরই দেয়া হবে। বৈঠকে উপস্থিত নৌ পরিবহন মন্ত্রী ও গার্মেন্টস শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের আহ্বায়ক শাজাহান খান বলেন, বেতন ও ওভারটাইমের পাওনা ছাড়াও যে কোন মূল্যে বোনাসের অর্থ পরিশোধ করতে হবে। তিনি সব গ্রুপের শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। শ্রম প্রতিমন্ত্রী বলেন, বেতন না দেয়ার অভিযোগে মালিককে আইনের আওতায় আনতে পারতাম। কিন্তু তাতে বেতনের বিষয়টি ঝুলে যেত। মালিক সুবিধা পেত। শ্রমিকদের বেতন পাওয়া অনিশ্চিত হতো। কারখানা সচল রাখার দাবির প্রশ্নে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কোন মালিক নিয়ম অনুযায়ী কারখানা বন্ধ করে দিতে চাইলে সরকার কি চাপ দিতে পারে? শ্রমিকদের উপর হামলার নিন্দায় বিভিন্ন সংগঠন বৃহস্পতিবার বাড্ডায় হোসেন মার্কেটে অনশনরত শ্রমিকদের উপর পুলিশী হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। গতকালও বেশ কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন এই হামলার নিন্দা জানিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে। বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের উদ্যোগে শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্দোলন ও সংগঠন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল গতকাল বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে শ্রমিকদের উপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। ধর্মঘটে প্রভাব পড়েনি সাভার ও আশুলিয়ায় তোবা গ্রুপ শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির নেতা মোশরেফা মিশুসহ সকল শ্রমিক নেতাদের উপর হামলার প্রতিবাদে গতকাল দেশের সকল শিল্পাঞ্চলে ডাকা গার্মেন্টস ধর্মঘটে সাভার ও আশুলিয়ায় তেমন কোন প্রভাব পড়েনি । গতকাল শনিবার সকাল থেকেই ডিইপিজেডসহ সাভার ও আশুলিয়ার সকল পোশাক কারখানার শ্রমিকরা অন্যান্য দিনের মতোই নিজ নিজ কর্মস্থলে কাজে যোগদান করেছেন। পোশাক শ্রমিকদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে ওঠে সাভার-আশুলিয়ার পুরো শিল্পাঞ্চল। নারায়ণগঞ্জ শিল্পাঞ্চল নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, তোবা গ্রুপ শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির ডাকা সারাদেশের শিল্পাঞ্চলের ধর্মঘটের কোন প্রভাব পড়েনি রাজধানী ঢাকার পাশের নারায়ণগঞ্জ জেলার শিল্পাঞ্চলগুলোতে। শনিবার স্বাভাবিক ছিল নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা, বিসিক, কাঁচপুর, আদমজী ইপিজেড ও রূপগঞ্জ এলাকার শিল্পাঞ্চলের গার্মেন্ট ও তৈরি পোশাক কারখানা। চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম অফিস জানায়, তোবা গ্রুপ শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের ডাকা ধর্মঘটে গতকাল শনিবার চট্টগ্রামে তৈরি পোশাক কারখানায় কোন প্রভাব পড়েনি। সবগুলো গার্মেন্টস খোলা ছিল। শ্রমিকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। ধর্মঘট আহবানকারী শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নগরীর কোথাও কর্মসূচি পালন করতে দেখা যায়নি।