যশোর শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতিকে গুলি করে হত্যা
প্রকাশ : ০৯ আগস্ট ২০১৪, ২২:৫২
দুর্বৃত্তদের গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে খুন হয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ যশোর শহর শাখার সভাপতি আব্দুল মান্নান (৪৭)। শনিবার বিকালে শহরের বেজপাড়া রানার অফিস মোড়ে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল মান্নান বেজপাড়া শহীদ মাহফুজ সড়কের বাসিন্দা। তিনি বেজপাড়া শান্তি-শৃংখলা কমিটিরও সভাপতি ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনসহ এলাকাবাসী হাসপাতাল ও শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেজপাড়া তালতলা জামে মসজিদে আছরের নামাজ আদায় শেষে পার্শ্ববর্তী দৈনিক রানার অফিস মোড়ের নিজস্ব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বসেন আব্দুল মান্নান। এ সময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা অফিসে ঢুকে তার বুকের বাম পাশে অস্ত্র ঠেকিয়ে এক রাউন্ড গুলি করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে শ্বাসনালী কেটে দেয়। এতে তিনি লুটিয়ে পড়লে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা তার অফিস থেকে বেরিয়ে আসে। এসময় স্থানীয় লোকজন তাদের ধাওয়া করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। কিন্তু এর আগেই তার মৃত্যু হয়। লাশ মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় যুবক ফেরদৌস জানান, হত্যা মিশনে থাকা ২০-২২ বছরের দুই তরুণ মান্নানের অফিসে প্রবেশ করে। এদের একজনের মুখ বাঁধা থাকলেও অপরজন মুখ খোলা অবস্থায় ছিল। হামলা শেষে এই দুর্বৃত্তদ্বয় মান্নানের অফিস থেকে বের হওয়ার পর তারা হামলাকারীদের ধাওয়া করে প্রায় দেড় কিলোমিটার পর্যন্ত নিয়ে যান। এসময় সন্ত্রাসীরা তাদের লক্ষ্য করে বেশ কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। পরে আরএন রোড নতুন বাজার এলাকায় গিয়ে আরও একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়।
এদিকে মান্নান হত্যার প্রতিবাদে এলাকাবাসি শহর ও হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। পরে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরাও বিক্ষোভ করেছে। বেজপাড়ার বাসিন্দা ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ভিটু অভিযোগ করেন, এলাকার শান্তি-শৃংখলা রক্ষায় তথা সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে মান্নান ছিলেন সোচ্চার। এতে ক্ষতিগ্রস্ত চক্রই এ খুনের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। একই অভিযোগ করেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক নূরে আলম মিলন। তিনি বলেন, সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে এলাকার মানুষ ও প্রশাসনকে এককাতারে এনে এলাকায় শান্তি বজায় রেখেছিলেন মান্নান। সে কারণেই তাকে খুন করা হতে পারে।
কোতয়ালি থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) সহিদুল ইসলাম জানান, হত্যার কারণ ও খুনিদের এখনও সনাক্ত করা যায়নি। তবে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আটকের জন্য অভিযান শুরু করেছে।