গেঞ্জিতে মেসির ছবি দেখে শনাক্ত হলো শিশুর লাশ

তিন বছরের একটি শিশুর লাশ। পচে গলে গেছে। চেহেরা দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি শিশুর লাশ। লাশের দাবিদার হলেন দুই জন। গোপালগঞ্জের মোকসেদপুর উপজেলার বামনডাঙ্গা গ্রামের মাহমুদা বেগম ও শিবচরের পাঁচ্চরের মো: কোহিনুর মিয়া। মাহমুদা বেগমের হাতে ছিল তার নিখোঁজ হওয়া ভাগ্নে হানিফের পরনের জামা কাপড়। কিন্তু সেটি মেলাতে গিয়ে দেখেন যে মৃত শিশুর পরনে রয়েছে ফুটবল খেলোয়াড় মেসির ছবি ছাপানো একটি গেঞ্জি। তিনি মোবাইল ফোনে হানিফের বাবা এমদাদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে জানতে পারেন যে মেসির ছবি ছাপানো কোন গেঞ্জি হানিফের পরনে ছিল না। পরে মো: কোহিনুর মিয়া লাশটি দেখে শনাক্ত করেন যে এটি তার নিখোঁজ ভাতিজা মঈনের লাশ। একই সঙ্গে শনাক্ত করেন মঈনের মা রোকসানা বেগমের লাশ। এর আগে মঈনের বাবা মাদারীপুরের শিবচরের গোয়ালকান্দা গ্রামের মিজানুর রহমান হাওলাদারের লাশ গত বৃহস্পতিবার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। লঞ্চ ডুবির ঘটনায় একই পরিবারের এই তিনজনের লাশ শনাক্ত হয়েছে। গতকাল শনিবার মাদারীপুরের শিবচর পৌর কবরস্থানে আনুমানিক ৪০ বছরের নারী , আনুমানিক ৩৫ বছরের পুরুষ এবং ৯ বছরের কন্যা শিশুর লাশ দাফন করা হয়। এ নিয়ে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত শিবচরের পাঁচ্চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আর কোন অশনাক্ত হওয়া লাশ নেই। মাদারীপুরের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন জানিয়েছেন, নোয়াখালীর হাতিয়া থেকে উদ্ধার করা একটি মৃতকেই শনিবার রাতের মধ্যে পাঁচ্চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছতে পারে। এই লাশের পরিচয় মিলেছে। ফরিদপুরের নগরকান্দা থানার ফরিদ আহম্মদ খানের মৃতদেহ এটি। এর আগে পাঁচ্চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ৬টি লাশের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ নিয়ে এখান থেকে মোট ২২টি লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গতকাল পাঁচ্চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আছরের নামাজের পর বেওয়ারিশ ৩টি লাশের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে লাশগুলো ফায়ার সার্ভিসের গাড়িতে করে পৌর কবরস্থানে নেয়া হয়। সেখানে বেওয়ারিশ ১২টি কবরের পাশে তাদের দাফন করা হয়। পাঁচ্চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে রাখা বেওয়ারিশ লাশগুলো পর্যবেক্ষণ করছিলেন মাহমুদা। হাতে ছিল তার ভাগ্নের পরনের প্যান্ট। মুখে কাপড় বেঁধে একেকটি লাশ দেখার পর বলছেন, ‘এইড্যা তার বোনের লাশ নয়। এইড্যা তার ভাগ্নির লাশ নয়।’ তিনি জানান, শুক্রবার দাফন হওয়া ১২টি বেওয়ারিশ লাশ দেখেছেন। কিন্তু তার বোন ও ভাগ্নের লাশ ছিল না। শনিবার যেসব লাশ দাফন করা হয়েছে সেগুলোতেও তার বোন ও ভাগ্নের লাশ ছিল না। লাশের সন্ধানে এখন স্বজনরা ভিড় করছেন পাঁচ্চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। অনেক স্বজন পাঁচ্চর বাজারে অবস্থান করছেন। শিবচরের সন্ন্যাসীর চরের আলমগীর হাওলাদার হাতে একটি ছবি নিয়ে বেওয়ারিশ লাশ পর্যবেক্ষণ করছিলেন। তিনি জানান, লঞ্চ ডুবিতে তার ভাগ্নে বেল্লাল হোসেন, ভাগ্নি শিল্পী আক্তার, তার স্বামী ফরহাদ হোসেন ও তাদের ১৪ মাসের ছেলে ফাহিম নিখোঁজ হয়েছেন। এখন অপেক্ষা করছেন লাশের জন্য। বাড়িতে বেল্লাল হোসেনের মা সুরুতুন্নেসা ছেলে ও মেয়ের অপেক্ষায় পাগল প্রায়।