প্রদর্শনী
আলোকচিত্রে আদিবাসী নারী ও শিশু
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৪, ১৯:৫৭
সম্প্রতি বিশ্ব আদিবাসী দিবস উপলক্ষে ধানমন্ডীস্থ দৃক গ্যালারিতে উদ্বোধন হলো এক বর্ণাঢ্য আলোকচিত্র প্রদর্শনী। বরেণ্য পর্যটক, লেখক, পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আর হক, তরুণ পর্যটক, লেখক ও পর্বতারোহী তারেক অনু ও দু’দুবার এভারেস্টজয়ী বরেণ্য পর্বতারোহী নেচার ফটোগ্রাফার ও পর্যটক এম.এ.মুহিতের তোলা ছবিমালা নিয়ে এই সম্মিলিত প্রদর্শনীটিতে উঠে এসেছে আদিবাসীদের বর্ণাঢ্য জীবনাচরণ, আনন্দ ও বেঁচে থাকার লড়াই সমৃদ্ধ এক ফটোগ্রাফিক জার্নাল, ‘বিশ্বভরা প্রাণ’ শীর্ষক প্রদর্শনীটিতে প্রকৃতির সঙ্গে নিরন্তর লড়াই করে বেঁচে থাকা জনগোষ্ঠীর জীবনের সারল্য, সৌন্দর্য ও জীবন কথাগুলো যেন এই তিন আলোকচিত্রীর লেন্সে ধরা পড়ল জলরঙ ছবির সজল তুলির শিল্পিত প্রকাশ ভঙ্গীমায়।
বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের হিসাব অনুযায়ী ২৯ লাখ আদিবাসীর অবস্থান, প্রায় ২০ লাখের বাস সমতলে। কিন্তু মানবিক ও ন্যায্য জীবন মানের সুবিধা থেকে বঞ্চিত এই জনগোষ্ঠী। কিন্তু আদিবাসীদের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, জীবন যুদ্ধ, জীবনাচরণ বাংলাদেশের সৌন্দর্য ও অলঙ্কার স্বরূপ। এম.এ. মুহিতের লেন্সে উঠে এসেছে প্রকৃতির অপার সমৃদ্ধির নৈবেদ্য, আদিবাসী নারীদের ছন্দময় দৃশ্যপট, মা ও শিশুর আবেগঘন অনুভব, ছোট্ট বালক বালিকা, কুকুর-গরুর এক সাথে পথচলার অনাবিল সরলতার কথকতা। তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন আদিবাসী নারী ও শিশুদের সূক্ষ্ম সূক্ষ্মাতি অনুভবের দিনলিপি। বিষণ্ন বৃদ্ধা আবার কখনও চপল শিশুর হাসিতে মুখর হয়েছে এম.এ মুহিতের লেন্সের মায়াজাল। ইনাম আর হকের ছবি মালাকে জলরঙের লেন্স কাব্য বলা যায়। প্রকৃতির অপূর্ব দৃশ্য কল্পের সঙ্গে তিনি সংযোগ করেছেন আদিবাসী জীবনের ছন্দের বৈভব। আবার দেখা যায় বৃদ্ধা দিদিমার উষ্ণ ভালোবাসার স্পর্শে মগ্ন এক শিশুর এ্যাফেকশনেট এফেক্ট। ফুল হাতে বালক... প্রকৃতির ছন্দিত দৃশ্যমালা সমৃদ্ধ ছবিগুলো... ইনাম আর হককে ক্যামেরার কবি হিসেবে আখ্যা দিলে অত্যুক্তি হয় না, অন্যদিকে তারেক অনুর লেন্সে দর্শকের জন্য অপেক্ষা করে এক জার্নালিস্টিক দৃশ্যকল্পের গল্প কথা। তার ছবি হয়ে ওঠে এক বিশেষ বার্তা, জীবন অন্বেষণের নিবিড় পর্যবেক্ষণ। আদিবাসী শিশু নারী... মানুষের সঙ্গে তিনি জীবন সংগ্রাম, আনন্দময়তা ও সংস্কৃতির কথাগুলো যেন তুলে আনেন অনায়াস সারল্যে যার অতলে থাকে বিশেষ বক্তব্য। তিনজন বরেণ্য মানুষের সম্মিলিত চিত্রমালা তুলে ধরে প্রকৃতি ও মানুষের মাঝে জীবনের ইতিবাচক আহ্বান। যেন মানুষ ও প্রকৃতির অবস্থান হয়ে ওঠে এক বন্ধুত্ব ও মানবতার ভাষা হয়ে... তাই শিরোনামই এর মর্মার্থ প্রকাশ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় আকাশ ভরা সূর্যতারা বিশ্বভরা প্রাণ... তাহারই মাঝখানে আমি পেয়েছি মোর স্থান... বিস্ময়ে তাই জাগে... জাগে আমার প্রাণ...!