মজুরের কাজ করেও সমৃদ্ধ কৃষি খামারের মালিক কল্পনা রাণী

আইলা দুর্গত সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার ইশ্বরীপুর ইউনিয়নের ধুমঘাট গ্রামের অল্পনা রানীর প্রাণবৈচিত্র্য সমৃদ্ধ আমাদের কৃষি বাড়ি, খামার একটি কৃষি পরিবার। স্বামী ও দুই সন্তানসহ চার সদস্যের ছোট্ট সংসার তার। স্বামী গংগারাম পেশায় কৃষক ও দিনমজুর। দিনের অধিকাংশ সময় তিনি দিন মজুরীর কাজ করেন। প্রাণবৈচিত্র্য সমৃদ্ধ কৃষি বাড়ির সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেন অল্পনা রানী। নিজের মাত্র ১ বিঘা বসতভিটায় তিনি যে সকল প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফলদ ও বনজ উদ্ভিদবৈচিত্র্য, তিনি বসতভিটায় মৌসুম ভিত্তিক স্থানীয় ফসল বৈচিত্র্যের মধ্যে লালশাক, সবজি, সরিষা, মানকচু ইত্যাদি চাষাবাদ ও সংরক্ষণ করেন। পাশাপাশি পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তায় বসতভিটায় অচাষকৃত উদ্ভিদ বৈচিত্র্যের মধ্যে তেলাকচু, ঘুমশাক, হেলাঞ্চ, থানকুনি, কালকচু সংরক্ষণ করেছেন। একই সাথে পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং আর্থিক উপার্জনের জন্য গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি ও ভেড়া পালন করেন। বর্তমানে ১০টি হাঁস, ২০টি মুরগী ৪টি ভেড়া ও ৩টি গরু আছে। নিজের মিষ্টি পানির পুকুরে স্থানীয় কৈ, শিং, মাগুর, টেংরা, চিংড়ি মাছ সংরক্ষণ করেছেন। অল্পনা রানী বলেন,‘সবজি চাষে আমি কোন রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করি না। মাটির উর্বরত রক্ষায় জৈব সার ও পোকা দমনে চুলার ছাই, নিমপাতা, মেহগনির ফল ও কেরোসিন ব্যবহার করি। আমার পরিবারে তেল ও নুন ছাড়া কিছুই বাজার থেকে কেনা লাগে না। সারা বছর নিজের পরিবারের সব ধরনের চাহিদা পূরণ হয়ে যায়। আত্মীয় বাড়ি, প্রতিবেশী বিভিন্ন পরিবারে মাছ-শাক-সবজি, বীজ বিতরণ করি। বছরে কৃষি কাজ করে ১৫/২০ হাজার টাকা সঞ্চয় করতে পারি। বিয়ের পর থেকে স্বামীকে সাথে নিয়ে এভাবে আমার কৃষি বাড়ি সম্পদ সমৃদ্ধ করি। আমার বাড়িকে আরো সম্পদ সমৃদ্ধ করতে বারসিক আমাকে সম্মাননা দিয়েছে। আমার বাড়িতে সবকিছু আছে। আমি কৃষি কাজ করে পরিবার-পরিজন নিয়ে সুখে-শান্তিতে বসবাস করছি। অল্পনা রানীর এই জ্ঞান-দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা দেখে এলাকার অনেক মহিলা তার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে তারাও কৃষি খামার বাড়ি তৈরিতে ব্যস্ত আছে। অল্পনা রানী বলেন, সরকারি ভাবে আর্থিক সহযোগিতা পেলে তার কৃষি দক্ষতা জ্ঞান কাজে লাগিয়ে উপকূলীয় প্রাণবৈচিত্র্য নির্ভর জীবনযাত্রাকে সমৃদ্ধ করবে বলে জানান।