মনপুরায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে ফিটনেসবিহীন নৌ-যান

উপজেলার অভ্যন্তরীণ ১৫ নৌ-রুটের যাত্রীরা চলাচল করছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে । প্রতিদিন শত শত যাত্রী ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দিচ্ছেন। স্থানীয় প্রভাবশালী ও প্রশাসনের সহযোগিতার অবৈধভাবে ফিটনেসবিহীন লঞ্চ চালিয়ে এসব নৌযান মালিকরা আয় করছেন লাখ লাখ টাকা। বিভিন্ন সূত্র ও স্থানীয়দের দেয়া তথ্য মতে, দ্বীপ জেলা ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরা দেশের সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এর তিন পাশটাই মেঘনা নদী দিয়ে ঘেরা আর দক্ষিণে রয়েছে বঙ্গোপসাগরের বিশাল জলরাশি। যে কোন উপজেলার সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নৌ-পথ ছাড়া তেমন কোন ব্যবস্থা নেই। বিআইডব্লিউটিসি’র সূত্র মতে, উত্তাল নদী বেষ্টিত ডেঞ্জার জোন হিসেবে ভোলাসহ উপকুলীয় প্রায় ২৫০ কি.মি. এলাকা বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত সি-ট্রাক নির্ভর যান ছাড়া সকল ধরনের যাত্রীবাহী যান চলাচলের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অথচ জেলার অন্যান্য স্থানের ন্যায় এই উপজেলায়ও প্রায় ১৫টি নৌ রুটে ছোট ছোট লঞ্চ ট্রলার অবৈধভাবে চলাচল করছে। এগুলোতে করে জেলার সবগুলো উপজেলার পাশাপাশি বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন উপজেলার সঙ্গে যোগাযোগ হিসেবে যাত্রী পারাপার হচ্ছে। অপরদিকে মনপুরার হাজীরহাট থেকে চরফ্যাশন, চরফ্যাশনের বেতুয়া থেকে মনপুরার জনতা বাজার, মাষ্টার হাট থেকে জনতা বাজার, হাজীর হাট থেকে কলাতলীর চর, নায়েবের হাট থেকে কলাতলীর চর, রামনেওয়াজ থেকে কলাতলীর চর, হাজীর হাট থেকে মঙ্গল সিকদার (লালমোহন), রামনেওয়াজ থেকে ডালচর, চরফৈজুদ্দিনের রিজির খাল থেকে তমরুদ্দিন (হাতিয়া), রিজির খাল থেকে চেয়ারম্যান ঘাট (নোয়াখালী), মাষ্টার হাট থেকে চেয়ারম্যানঘাট (নোয়াখালী), নায়েবের হাট থেকে চেয়ারম্যানঘাটসহ (নোয়াখালী) ১৫টি রুটে ট্রলারে করে যাত্রী নিয়ে উত্তাল মেঘনা পাড়ি দেয়া হয়। এ ব্যাপারে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবদুল্লাহ আল বাকী জানান, এই মুহূর্তে শাহাবাজপুর চ্যানেলের সকল রুট ফিটনেসবিহীন লঞ্চ চলাচল সম্পূর্ণ অবৈধ। এসব রুটে অনেকে পালিয়ে লঞ্চ চালায়। তাদের বিরুদ্ধে শীঘ্রই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে তিনি জানান।