জয়াবর্ধনেকে হেরাথের বিদায়ী উপহার

এই সিরিজ শেষেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাচ্ছেন মাহেলা জয়াবর্ধনে। কলম্বোতে সিরিজের দ্বিতীয় আর ক্যারিয়ারের শেষ টেস্ট খেলার আগে গলে এটাই ছিল এই লঙ্কান কিংবদন্তির বিদায়ী টেস্ট। সেখানে শ্রীলঙ্কাকে সাত উইকেটের জয় এনে দিয়ে জয়াবর্ধনেকে দারুণ একটা বিদায়ী উপহারই দিলেন রঙ্গনা হেরাথ। গতকাল টেস্টের শেষ দিনে এই বাঁহাতি স্পিনারের ছয় উইকেটে পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস থেমে যায় মাত্র ১৮০ রানে। ২১ ওভারে ৯৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নামা লঙ্কানরা তিন উইকেট খুইয়েই পৌঁছে যায় লক্ষ্যে। প্রথম ইনিংসে ২২১ রানের দুর্দান্ত এক ডবল সেঞ্চুরি করলেও পাকিস্তানিদের দ্বিতীয় ইনিংসের মূল হন্তারক হেরাথই পেয়েছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। প্রথম টেস্টের জয় হেরাথ উত্সর্গ করলেন জয়াবর্ধনেকে। ১৪ আগস্ট থেকে কলম্বোতে শেষ টেস্ট খেলতে নামা এই ব্যাটসম্যানকে বিদায়ী উপহার দিতে পেরে দারুণ খুশি হেরাথ, ‘এটা ব্যাটিং সহায়ক উইকেট ছিল। তাই আমাদের সঠিক জায়গায় বল ফেলার বিকল্প ছিল না। আমরা সেটা করতে পেরেছি। একজন স্পিনার হিসাবে আমি জানতাম চতুর্থ এবং পঞ্চম দিনে উইকেট থেকে কিছুটা (সাহায্য) পাওয়া যাবে। মাহেলাকে অভিনন্দন। তার জন্য যথার্থ বিদায়ী উপহার দিতে পেরে খুশি আমি।’ প্রথম চার দিনের খেলায় মনে হচ্ছিল গলের উইকেটটা কেবল ব্যাটসম্যানদের কথা মাথায় রেখেই বানানো। কিন্তু পঞ্চম দিনে এসে হঠাত্ করেই বদলে গেল দৃশ্যপট। উইকেট থেকে খুব বেশি সাহায্য না পেলেও হেরাথের অস্ত্র ভাণ্ডারে যা ছিল সেটাই যথেষ্ট প্রমাণিত হলো পাকিস্তানকে ধ্বসিয়ে দেয়ার জন্য। আগের দিন একটি উইকেট হারানো সফরকারীরা দিনের প্রথম সেশনেই হারায় আরো তিনটি উইকেট। মধ্যবিরতির পর আসল আঘাত আসে। চার উইকেট নিয়ে বিরতির পর খেলা শুরু করা পাকিস্তান হেরাথের ঘূর্ণিযাদুর শিকার হয়ে দ্বিতীয় সেশনেই হারিয়ে ফেলে আরো চার উইকেট। এরপর শেষ দুটি উইকেটও তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষের লেজটাও মুড়ে দেন হেরাথই। প্রথম ইনিংসে তিন উইকেট নেয়া এই স্পিনার দ্বিতীয় দফায় বল হাতে নিয়ে ৪৮ রানের বিনিময়ে নেন ছয় উইকেট। পাকিস্তানের ইনিংস সর্বোচ্চ ৫২ রান আসে সরফরাজ আহমেদের ব্যাট থেকে। জয়ের লক্ষ্য ছোট হলেও লঙ্কানদের প্রতিপক্ষ বোলারদের পাশাপাশি পাল্লা দিতে হচ্ছিল প্রকৃতির সঙ্গেও। লঙ্কান ইনিংসের শুরু থেকেই বৃষ্টির আশঙ্কা থাকলেও শেষ পর্যন্ত কোন বাধা আসেনি। যদিও মাঝে মাঝে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল। মাঠে নামা পাঁচ লঙ্কান ব্যাটসম্যানই বলের সাথে পাল্লা দিয়েই রান তুলেছেন। তাই উপুল থারাঙ্গা, মাহেলা জয়াবর্ধনে, কুমার সাঙ্গাকারারা ফিরে গেলেও কখনোই লঙ্কানদের বড় বিপদে পড়তে হয়নি। চতুর্থ ব্যাটসম্যান অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুসের ১৩ বলে ২৫ রানের ক্যামিওতে ১৬.৫ ওভারেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা। পাকিস্তান অধিনায়ক মিসবাহ উল হকও স্বীকার করে নেন, শ্রেয়তর দল হিসাবেই জিতেছে শ্রীলঙ্কা। ব্যাটিং ব্যর্থতার পাশাপাশি পাকিস্তানকে ক্যাচ মিসের মাশুলও গুনতে হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্যাচের সুযোগগুলো হাতছাড়া করাটা উচিত ছিল না আমার। তাছাড়া দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিংটা আরো ভাল হতে পারতো। তবে শেষ পর্যন্ত মানতেই হবে সেরা দলটাই জয় পেয়েছে।’ ক্রিকইনফো