লঞ্চ উদ্ধারে ‘চেইন কপ্পা’

সর্বাধুনিক পদ্ধতিতে অনুসন্ধান চালিয়েও যখন পদ্মায় ডুবে যাওয়া লঞ্চটি উদ্ধার করা যাচ্ছে না, তখন সনাতন পদ্ধতিতে লঞ্চটি খুঁজে পাওয়া যাবে বলে আশার বাণী শুনিয়েছেন মাওয়া ঘাট সংলগ্ন মেদেনীমন্ডল এলাকার জনগণ। গতকাল রবিবার দুপুরে তারা স্থানীয় ‘চেইন কপ্পা’ পদ্ধতিতে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, মাওয়াঘাটে স্থানীয় কয়েকজন যুবক নিজ উদ্যোগে দড়িতে ইট বেঁধে সকাল থেকে স্থানীয় ‘চেইন কপ্পা’ পদ্ধতিতে নদীতে উদ্ধার কাজ করছেন। রশিতে কয়েক গজ পর পর ইট বেঁধে সেটি ফেলা হচ্ছে নদীতে। পরে বৃত্তাকারে জাল টানার মতো ওই দড়ি টেনে প্যাঁচ লাগানোর চেষ্টা করছেন। তারা দুইটি ট্রলার নিয়ে কাজ করছেন। এই কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মাওয়া ঘাটের কান্দিপাড়া রোডের ‘মেঘনা চেইন কপ্পা এন্ড সাইকেল মার্টে’র স্বত্বাধিকারী মো. হাসান পাঠান। তার সঙ্গে রয়েছেন রোমেল, জামাল, স্বপন, রশীদ খান, মিঠু ও রফিকুলসহ ১৫ জন। তাদের রশিতে ভারি কিছুর অস্তিত্ব পাওয়া গেছে উল্লেখ করে হাসান দাবি করেন, তিনি ইতিপূর্বে ঘাটে পড়ে যাওয়া বাস, ট্রাক, ডুবে যাওয়া ট্রলার, বলগেট উদ্ধার করেছেন। তিনি জানান, ‘দুপুর ১২টা থেকে নাইলনের রশির মধ্যে ১শ’ ইট ও ১০টি দেশীয় তৈরি গ্রাফি দিয়ে এবং দুই পাশে দুইটি ট্রলার বেঁধে ১২শ’ হাত রশি পদ্মার তলদেশে ছেড়ে দিয়ে টানা জালের মতো টেনে চিরুণি অভিযান চালানো হচ্ছে।’ এই অভিযান শুধু ভাটির দিকে চালানো হচ্ছে। উজানের দিকে তারা যাবেন না। পিনাক-৬ এর ডুবে যাওয়া স্থল থেকে ৩শ’ মিটার ভাটির দিকে এই অভিযান চালানো হবে বলে জানান হাসান পাঠান। বিকাল ৩টা পর্যন্ত তারা পদ্মার পূর্ব দিকের মাওয়া প্রান্তের ৩ কিলোমিটার এলাকায় অভিযান চালান। পরে কিছুটা বিরতি দিয়ে পদ্মার পশ্চিম দিকে মাদারীপুর প্রান্তে চার কিলোমিটার এলাকায় অভিযান শুরু করা হয়। তবে রাত ৮ টা পর্যন্ত কোন ইতিবাচক খবর পাওয়া যায়নি। হাসান পাঠান বলেন, ‘আমরা অনেকদিন ধরেই এই পদ্ধতিতে ফেরিতে উঠতে গিয়ে পড়ে যাওয়া গাড়ি, এমনকি ডুবে যাওয়া ট্রলারও তুলেছি। পিনাক-৬ও আমরা তুলতে পারবো বলে আশাবাদী।’ মাওয়া ঘাটের স্থানীয় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ খলিল ও শাহিনুর আলমও তার বক্তব্যকে সমর্থন করেন। তারা দাবি করেন, আরো আগে তাদের নামতে দিলে হয়তো তারা সফল হতেন। এদিকে সন্ধ্যায় খবর ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয় এই পদ্ধতিতেই লঞ্চটি শনাক্ত হয়েছে। তবে এর কোন সত্যতা এখনো পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের এই উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সাইফুল হাসান বলেন, ‘আমরা স্থানীয়দের উদ্ধার অভিযানে নামার বিষয়টি জেনেছি। তবে কোন কিছু উদ্ধারের খবর পাইনি এখনো’।