অক্টোবরে ৩৫ লাখ নবজাতককে দেয়া হবে নিউমোনিয়ার টিকা
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪৯
বর্তমানে দেশের ৮৬ ভাগ শিশু সার্বজনীন টিকাদানের আওতায় এসেছে। ১৯৮৫ সালে সার্বজনীন টিকাদান কর্মসূচী শুরু হয়। তখন টিকাদানের আওতায় ছিল মাত্র ২ ভাগ শিশু। প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে বর্তমানে ৯টি ভ্যাকসিন বিনামূল্যে দেয়া হচ্ছে। এছাড়া দেশের সবচেয়ে বৃহত্ ও ব্যয়বহুল টিকাদান কর্মসূচী শুরু হচ্ছে আগামী অক্টোবর থেকে। এই টিকাদান কর্মসূচীর আওতায় দেশের অনূর্ধ্ব ১৪ সপ্তাহ বয়সের ৩৫ লক্ষ নবজাতক শিশুকে ঘাতকব্যাধি নিউমোনিয়ার টিকা দেয়া হবে। একই সাথে শুরু হবে পোলিওর বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর ইনজেকটেবল ভ্যাকসিন আইপিভির কার্যক্রম। এই দু’ধরনের ভ্যাকসিন দিতে ব্যয় হবে দেড় হাজার কোটি টাকা। আর এই বিপুল অর্থ দিবে জেএভিআই (গ্লোবাল এলায়েন্স ফর ভ্যাকসিন ইনিসিয়েটিভ) নামক একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশ উক্ত প্রতিষ্ঠানটির সদস্য। প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিন পিসিভি-১০ ক্রয়ের জন্য ১১ শত কোটি টাকার ৯৪ শতাংশ অর্থ দিচ্ছে জেএভিআই এবং ৬ শতাংশ অর্থ দেবে বাংলাদেশ সরকার। আর পোলিও ভ্যাকসিনের পুরো অর্থই দিচ্ছে জেএভিআই। ইউনিসেফের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি এই ভ্যাকসিন ক্রয় করছে এবং বৃটেনের বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানী গ্লাক্সোস্মিথক্লাইন নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিন সরবরাহ করবে। এছাড়া ফরাসী কোম্পানী সানোফির আইপিভি বা ইনএ্যাকটিভেটেড পোলিও ভ্যাকসিন দেয়া হবে শিশুদের।
জেএভিআই-এর পক্ষে ইউনিসেফ বিশ্বব্যাপী এই ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে। প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে বছরে ২১ হাজার শিশু নিউমোনিয়ায় মারা যায়। জেএআইভির সহায়তায় নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু হলে নিউমোনিয়ায় শিশু মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এমন অভিমত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকাদান কর্মসূচীর লাইন ডাইরেক্টর ডা: সৈয়দ আবু জাফর মুহাম্মদ মুসার। তিনি ইত্তেফাককে জানান, শিশুদের টিকাদান কর্মসূচীর ক্ষেত্রে অন্যতম একটি সফল দেশ হচ্ছে বাংলাদেশ। শিশুদের হাম-রুবেলার টিকাদানের ক্ষেত্রে সফলতার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বপ্যাপী বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচীর সফলতা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।
আর এসব ভ্যাকসিনের অর্থের যোগান দিচ্ছে জেএআইভিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা। জেএআইভি ছাড়াও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার মধ্যে রয়েছে ইউএসএআইডি, বিশ্বব্যাংক, কানাডা ও অস্ট্রেলীয় প্রতিষ্ঠান। জাইকা, রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ইত্যাদি। এ ব্যাপারে ইপিআই-কর্মসূচীর লাইন ডাইরেক্টর ডা. সৈয়দ আবু জাফর মুহাম্মদ মুসা জানান, দেশের ইপিআই কর্মসূচীর সব ধরনের ভ্যাকসিন ইউনিসেফের মাধ্যমে ক্রয় করা হয়। ইপিআই পরিদপ্তর সূত্রে বলা হয়, প্রতি বছর ইউনিসেফের মাধ্যমে হাজার কোটি টাকার ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হয়। শুধুমাত্র বিসিজি ও ওপিভি ভ্যাকসিন সরকার ক্রয় করে। এই অর্থ পাওয়া যায় বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছ থেকে। বিশ্বব্যাংকের গাইড লাইন অনুসরণ করে বিশ্বব্যাংকের তদারকিতে এই ভ্যাকসিন ক্রয় করা হয়।
বর্তমানে দেশের সরকারি টিকাদান কর্মসূচীতে রয়েছে হাম, যক্ষ্মা, ধনুষ্টংকার, ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, পোলিও, রুবেলা, হেপাটাইটিস বি এবং হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ বি। আর আগামী অক্টোবর থেকে শুরু হবে নিউমোনিয়া ও ইনজেকটেবল পোলিও ভ্যাকসিন। তখন ইপিআই কর্মসূচীর মোট ভ্যাকসিনের সংখ্যা দাঁড়াবে ১১টিতে। এছাড়া অদূর ভবিষ্যতে মহিলাদের জন্য এইচপিভি বা হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের ভ্যাকসিন দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলেও জানা যায়।
শিশুদের টিকাদান কর্মসূচীতে যেসব ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে তার বেশীরভাগই বাংলাদেশে তৈরি হচ্ছে। কিন্তু স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে দেশের ভ্যাকসিন উত্পাদনকারী কোম্পানীসমূহ সরকারি কর্মসূচীতে ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে পারছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।