মাদক নামে পিশাচ ওত্ পেতে আছে আমেরিকা বাংলাদেশ সবখানে
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৪, ২২:৫২
আমেরিকা, বাংলাদেশ- পৃথিবীর সবখানে একটি ভয়ানক পিশাচ ওত পেতে বসে আছে। তার কোন পাসপোর্ট লাগে না। বাসায়, স্কুল, কর্মস্থল, বাজার-শহর এবং গ্রামে এই ভয়ানক পিশাচ কোন বাধা মানে না। শিশু, যুবক এমনকি প্রাপ্ত বয়স্ক সবার পিছু লাগে এই পিশাচটি। ছেলে-মেয়ে, পুরুষ বা মহিলা, ধনী বা গরিব লোক- পিশাচটি কোন বাছবিচার করে না। তার হাসি, তার কণ্ঠস্বর খুবই লোভনীয় ও সম্মোহনী। আমাদের মধ্যে সবচেয়ে অরক্ষিত লোকদের এটি শিকারে পরিণত করে যেহেতু এরা ভুক্তভোগীর শরীর ও মনকে গ্রাস করে। আর এই পিশাচটি হলো অবৈধ মাদক, যাকে আমরা সবাই চিনি।
রাজধানীর আসাদ গেটে ক্যাথলিক বিশপস কনফারেন্স অব বাংলাদেশ সেন্টারে ‘ঝুঁকিপূর্ণ শিশু-কিশোরদের মাদক সংক্রান্ত ব্যাধির চিকিত্সা ও অবৈধ মাদকের ব্যবহার প্রতিরোধ’ বিষয়ক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান মজীনা এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মহাপরিচালক আতোয়ার রহমান, জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক অফিসে কান্ট্রি কো-অরডিনেটর এ বি এম কামরুল আহসান ও এলিজাবেথ ম্যাটফেল্ড এবং মাদক নিরাময় কেন্দ্র ‘আপন’ -এর নির্বাহী পরিচালক ব্রাদার রোনাল্ড উপস্থিত ছিলেন। কর্মশালার আয়োজন করে মাদক নিরাময় কেন্দ্র আপন এবং জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক অফিস।
ড্যান মজীনা বলেন, আমরা প্রত্যেকেই কোন না কোন ভাবে এই পিশাচটির কৃতকর্ম প্রত্যক্ষ করেছি কেন না এই পিশাচটি জীবনের পর জীবন ধ্বংস করে। এই পিশাচটি সবসময় বেশি বেশি জীবনের সর্বনাশ করার লক্ষ্যে উপবিষ্ট; কিন্তু এটা হতে দেয়া যাবে না। আমরা যুদ্ধ করতে পারি, আমরা যুদ্ধ করছি। পিশাচটিকে শেষ হাসি হাসতে দেয়া যায় না। যারা ইতিমধ্যে এই মাদকের দ্বারা প্রভাবিত তাদের রক্ষা করা সম্ভব। তিনি বলেন, ১৫ বছর আগে আমি যখন এখানে প্রথম চাকরিতে আসি তখন মাদক নিরাময় কেন্দ্র ‘আপন’ -এর নির্বাহী পরিচালক ব্রাদার রোনাল্ডের কাজ প্রথম প্রত্যক্ষ করি। ২০১১ সালে বাংলাদেশে ফেরার পরে আমি তার কর্মস্থল অনেকবার পরিদর্শন করেছি।
তিনি বলেন, আমি গর্বিত যে- মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে, আমেরিকা বাংলাদেশ সরকার ও সুশীল সমাজের সাথে দীর্ঘদিন ধরে অংশিদারিত্ব করছে।
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘আমি তাদের স্বীকৃতি দিতে চাই যে, তারা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে, মাদক চিকিত্সার খসড়া তৈরি, মামলার ব্যবস্থাপনা করেছে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে একটা সম্পর্ক গড়ে তুলেছে- যাতে করে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের হাজতে প্রেরণের পরিবর্তে চিকিত্সা কেন্দ্রে প্রেরণ করে।’