সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর অশালীন বক্তব্য প্রত্যাহার দাবি
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০১৪, ২২:৫৩
সাংবাদিকদের সম্পর্কে অশালীন মন্তব্য করায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মহসিন আলীকে ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’ আখ্যা দিয়ে তাকে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশ। একইসাথে মন্ত্রীকে বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএফইউজে ও ডিইউজের অপরাংশ, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর, যশোর, নারায়ণগঞ্জ, ময়মনসিংহ এবং কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতারা।
গতকাল রবিবার রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদে এক বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে বিএফইউজে ও ডিইউজের বিএনপিপন্থী অংশ। গত শনিবার বিকালে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আদিবাসী দিবস উদযাপন কমিটির আলোচনা সভায় বক্তব্য দেয়ার সময় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ‘অশ্লীল ও অন্যায্য’ বাক্য ব্যবহার করেন।
সমাবেশে বিএফইউজে’র সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী যেভাবে গালাগাল করেছেন তাতে এই মন্ত্রীকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে ও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। দাবি না মানা পর্যন্ত আন্দোলন চলতে থাকবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল হাই শিকদার বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর বক্তব্য সুস্থ মানুষের বক্তব্য বলে মনে হয় না। তিনি ভারসাম্যহীন।
ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম আবদুল্লাহ সভায় সভাপতিত্ব করেন। বিএফইউজের মহাসচিব আবদুল জলিল ভুঁইয়া স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে সৈয়দ মহসিন আলী ধারাবাহিকভাবে সাংবাদিক সমাজ ও গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। সৈয়দ মহসিন আলীর উচ্চারিত শব্দাবলী, বক্তব্য এবং তার দেহের ভাষায় যার প্রকাশ ঘটেছে তাকে তার নিজস্ব শিক্ষা, রুচি, রাজনীতি ও পারিবারিক সংস্কৃতিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, একজন মন্ত্রীর এই ধরনের ‘নিচু স্তরের’ মানসিকতা এবং তার প্রকাশ সরকার ও গোটা মন্ত্রিসভার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে। বিস্ময়ের বিষয় হচ্ছে, সৈয়দ মহসিন আলী তার বক্তব্যে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমবিরোধী অরুচিকর ও অশালীন আচরণের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নামটি জড়িয়ে ফেলছেন। এটি আমাদের সবার জন্যই বিব্রতকর। বিবৃতিতে তাকে দ্রুত বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির বিবৃতিতে বলা হয়, সাংবাদিকতা পেশাকে জড়িয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর বক্তব্য মানহানিকর ও চরম বিদ্বেষমূলক। এছাড়া বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের বিবৃতিতেও সমাজকল্যাণ মন্ত্রীকে তার অসংলগ্ন বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
এলআরএফ এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ
সাংবাদিকতা পেশা সম্পর্কে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলীর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের (এলআরএফ) সভাপতি এম বদি-উজ-জামান ও সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম খান। এলআরএফ-এর এক বিবৃতিতে তারা বলেছেন, সাংবাদিকদের সম্পর্কে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর বক্তব্য মানহানিকর ও চরম বিদ্বেষমূলক। তিনি সাংবাদিক সমাজকে জড়িয়ে ঢালাওভাবে যে মন্তব্য করেছেন তা গোটা সাংবাদিক সমাজকে মারাত্মকভাবে আহত করেছে। এ কারণে তার আপত্তিকর বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানানো হচ্ছে।
দুঃখ প্রকাশ করলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
সাংবাদিকদের প্রতি অশালীন বক্তব্য দেয়ার পর দু:খ প্রকাশ করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মহসিন আলী। একইসাথে শনিবার সিলেটে দেয়া তার বক্তব্য কয়েকজন স্থানীয় সাংবাদিকের উদ্দেশ্যে, সকল সাংবাদিকের উদ্দেশ্যে নয় বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
গতকাল রবিবার মন্ত্রীর তথ্য কর্মকর্তা মো. মাইদুল ইসলাম প্রধান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মন্ত্রীর বিবৃতি জানানো হয়।
বিবৃতিতে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি কথাগুলো সকল সাংবাদিকের উদ্দেশ্যে বলিনি। আমি বিশ্বাস করি, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। এ পেশায় জড়িত মানুষজন সত্ ও নির্ভীক জীবন যাপন করেন। এ পেশায় সংশ্লিষ্ট অনেক দেশ বরেণ্য সাংবাদিক আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু’।
সাংবাদিকদের ‘গালমন্দ’ করার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার দেয়া বক্তব্যের শুরুতে মঞ্চে যাওয়ার সময় সামনে উপবিষ্ট কতিপয় সাংবাদিক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে নিয়ে টিপ্পনী কাটছিল। আমি ঐসব কথা শুনে সইতে না পেরে হঠাত্ কিছুটা রেগে যাই এবং স্থানীয় কতিপয় সাংবাদিকের উদ্দেশ্যে কিছু কথা রাগত অবস্থায় বলি।’
মন্ত্রী বলেন, মূলত আমার বলা কথাগুলো ছিল কেবল দুই একজন স্থানীয় সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে, যারা গত কয়েকদিন ধরে আমার বক্তব্যকে বিকৃত করে প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু আমার কথাগুলো থেকে দেশের সাংবাদিকরা আহত হয়েছেন দেখে আমি ভীষণভাবে ব্যথিত এবং কষ্ট পেয়েছি।
বিবৃতির মাধ্যমে সকলের সাথে ভুল বুঝাবুঝির অবসান ঘটবে ‘বিশ্বাস’ করে তিনি বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। এ পেশার প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল ছিলাম, আছি এবং থাকব।
গত শনিবার সিলেটে আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের বিষয়ে ‘অশালীন ও আপত্তিকর বক্তব্য’ দেন মহসিন আলী।