সাইবেরিয়ার রহস্যময়
গহ্বরটির কারণ
মিথেন গ্যাস!
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৪, ২০:৪১
রাশিয়ার সাইবেরিয়ার উত্তরাঞ্চলের বিরানভূমিতে তৈরি হওয়া রহস্যময় গহবরটি সম্ভবত মিথেন গ্যাসের কারণে তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে মেরু বৃত্তের মধ্যে অবস্থিত ইয়ামাল উপদ্বীপের জমে শক্ত হয়ে থাকা মাটি গলে ওই গ্যাস সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। সমপ্রতি নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত এক নিবন্ধের সূত্রে শুক্রবার এ খবর জানিয়েছে ওয়াশিংটন পোস্ট।
মিথেন একটি গ্রিন হাউস গ্যাস, যা বৈশ্বিক উষ্ণতার বিবেচনায় কার্বন-ডাই অক্সাইডের চেয়েও মারাত্মক বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ইয়ামাল উপদ্বীপের মাটির তাপমাত্রা সাধারণত শূন্য ডিগ্রির নিচে অবস্থান করায় সেখানকার মাটি জমে বছরের পর বছর ধরে বরফের মত শক্ত হয়েছিল। শীতকালে এখানে খুব অল্প সময়ের জন্য সূর্য উঠে। বাস্তব কারণেই আর্কটিক মহাসাগরের তীরবর্তী ওই এলাকাটিকে পৃথিবীর শেষ প্রান্ত বলা হয়। জুলাইয়ের মাঝামাঝি হেলিকপ্টার থেকে জনমানবহীন ওই এলাকায় প্রায় ৬৫ মিটার ব্যাসার্ধের ওই গহ্বরটি প্রথম দৃষ্টিগোচর হয় বলে জানিয়েছে সাইবেরিয়ান টাইমস। হঠাত্ কী ভাবে এত বড় গহ্বর তৈরি হল তা নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়। অনেকেই একে ধূমকেতু বা উল্কার আঘাতে সৃষ্ট বলে মনে করতে থাকেন।
১৬ জুলাই ঘটনাস্থলে গিয়ে গহ্বর সৃষ্টির রহস্য উদঘাটনে গবেষণা চালান রুশ বিজ্ঞানীরা। এই বিজ্ঞানী দলের নেতা আর্কটিক অঞ্চলের পুরাতত্ত্ব গবেষক আন্দ্রে প্লেখানভ বলেছেন, গহ্বরের নিচের দিকের বাতাসে মিথেনের উপস্থিতি অস্বাভাবিক রকম বেশি- ৯ দশমিক ৬ শতাংশেরও বেশি। এমনিতে বাতাসে মিথেনের পরিমাণ মাত্র ০.০০০১৭৯ শতাংশ বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ইয়ামালের ২০১২ ও ২০১৩ সালের গ্রীষ্মকাল আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে উষ্ণ ছিল। এতে জমে বরফ হয়ে যাওয়া শক্ত মাটি গলে গিয়ে চুপসে যায় আর সম্ভবত তাতে বরফ আচ্ছাদিত ওই মাটিতে আটকে থাকা মিথেন গ্যাস বের হয়ে আসে। এই গ্যাসের চাপে অস্বাভাবিক ওই গহ্বর তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। এ অনুমানটিকে প্রাথমিক বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে সেখানে ধূমকেতু পতনের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন এসব বিজ্ঞানী। জার্মানির আলফ্রেড ভাগনার ইনস্টিটিউটের ভূ-রসায়নবিদ হান্স ভুলফগ্যাং হুবার্টন বলেছেন, “ভূগর্ভে জমা হওয়া গ্যাসের প্রবল চাপের ফলে উপরের মাটির স্তরগুলো উপড়ে গিয়ে গহ্বরটি তৈরি হয়েছে। তবে এ ধরনের গহ্বর আগে কখনো দেখেননি বলে জানিয়েছেন তিনি।