সেনা ও বিদ্রোহীদের মধ্যে
দোনেেস্ক তুমুল যুদ্ধ
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৪, ২০:৪৩
ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী রুশপন্থী বিদ্রোহীদের যুদ্ধবিরতির আহবান প্রত্যাখ্যান করায় পূর্বাঞ্চলীয় দোনেত্স্ক নগরীতে প্রচণ্ড সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত শহরটিতে রবিবার রাতভর সেনাবাহিনীর গোলা নিক্ষেপে কমপক্ষে এক ব্যক্তি নিহত এবং আরো ১০ জন আহত হয়েছে।
মানবিক বিপর্যয়ের কথা উল্লেখ করে বিদ্রোহী নেতারা গত শনিবার ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর প্রতি যুদ্ধবিরতির একটি আহ্বান জানায়। কিন্তু কিয়েভের দোনেত্স্ক ঘেরাও কর্মসূচি এবং তার বিপরীতে রুশপন্থীদের পাল্টা প্রতিরোধ সৃষ্টির চেষ্টা যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবিবার রাতভর ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর গোলাবর্ষণে দোনেেস্কর একটি হাসপাতাল ও দোকানসহ কমপক্ষে ১০টি আবাসিক ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রবিবার সন্ধ্যার দিকে অল্প কয়েক মিনিটের মধ্যে সেখানে কমপক্ষে ২৫টি জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেনবাহিনীর গোলায় কমপক্ষে একজন নিহত এবং আরো ১০ জন আহত হয়েছে।
এদিকে, দোনেেস্ক রুশপন্থীদের মূল ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ক্রাশনি লুক এলাকার দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে বলে জানা গেছে। মূলত রেল ও সড়কপথের দখল নিতেই দু’পক্ষ লড়ছে। কেননা ওই দুই পথেই রাশিয়া থেকে বিদ্রোহীদের জন্য রসদ এসে থাকে। এর আগে রবিবার দিনভর ইউক্রেনের সেনাবাহিনী রুশপন্থীদের নিয়ন্ত্রিত প্রদেশিক রাজধানী দোনেেস্কর চারপাশ সাঁজোয়া যান ঘিরে ফেলে তাদেরকে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেয়। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তত্পরতার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত দোনেত্স্ক ও লুহানস্কে রুশপন্থীদের অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ায় এবং সেখানে সার্বিক মানবিক বিপর্যয় দেখা দেয়ায় কিয়েভ এখন তাদেরকে আত্মসমর্পণের জন্যে অধিক চাপ প্রয়োগ করার কৌশল নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আঁঁদ্রি লিশেঙ্কো বলেছেন, ‘বিদ্রোহীরা প্রকৃতই যুদ্ধবিরতি চাওয়ার লক্ষণ হলো, তারা সাদা পতাকা দেখাবে এবং অস্ত্র নামিয়ে রাখবে।’