আমের এ কোন নগরী?

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আমগাছে গুটি ধরতেই শুরু হয় বিষাক্ত কীটনাশক দেওয়া; ফল বড় হলেই আমে আমে ফরমালিন—এই তো হলো চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি, সুরমা, ল্যাংড়া, আম্রপালি, হিমসাগর, গুটি, গোপালভোগসহ কত না জাতের আম। ফরমালিন দেওয়ার কারণে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম নিয়ে গর্ব করার কিছু দেখি না। সাধারণ জনগণ ও ভোক্তাদের মধ্যে আম নিয়ে রয়েছে আতংক আর চাপা ক্ষোভ। যারা একটু সচেতন তারা তো ভুলে গেছে আম কেনা, আম খাওয়া। উল্লেখ্য, ভারতের আপেল নগরী বলা হয় হিমাচলের কল্পাকে। এদিকে পশ্চিম বাংলার মুর্শিদাবাদের লালবাগকে বলা হয় আমের নগরী। তবে হিমাচলের কল্পায় পর পর দু’বার গিয়ে বেশ অভিজ্ঞতা হয়েছে—এক.প্রথমবার কল্পায় গিয়ে (১৯৯৪ সালে) হোটেল ম্যানেজারের মুখে শুনলাম, ওই যে পাহাড়ের গায়ে গায়ে আপেল বাগান ওখানে ঢুকে ইচ্ছেমতো আপেল খেতে টাকা লাগে না। বাগানে গিয়ে একটার পর একটা আপেল খাচ্ছি—একজন এসে বললো, পেট ভরে আপেল খান। কিন্তু ফিরতি পথে হাতে করে দু’চারটার বেশি আপেল নেবেন না। দুই. মহারাষ্ট্রের এক এলাকায় একবার আমার এক বন্ধু আঙ্গুর বাগানে ঢুকে ইচ্ছেমতো আঙ্গুর খেয়েছিল। এজন্য তার কাছ থেকে নেওয়া হয়নি কোনো টাকা। তিন. অবশ্যই পেয়ারা নগরী বলা যেতে পারে পিরোজপুরের স্বরূপকাঠিকে। এই তো ক’দিন আগে ওখানকার পেয়ারা বাগানে ঢুকে পেয়ারা খেয়ে ফিরছিলাম ঠিক তখনি স্থানীয় একজন বললেন, বেড়াতে এসেছেন বুঝি। বললাম—হ্যাঁ। তিনি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ব্যাগ ভর্তি পেয়ারা দিলেন। কিন্তু আমাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জে বেড়াতে গিয়ে কোনো ট্যুরিস্ট গাছ থেকে ছিঁড়ে একটি আমও খেতে পারেন না। একবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে গিয়ে শুনলাম, কোনো ট্যুরিস্টও গাছ থেকে একটি আম পেড়ে খেতে চাইলে তার ইচ্ছে কোনো বাগান মালিক পূরণ করেন না। তারপর গাছে গাছে বিষাক্ত কীটনাশক ও ফরমালিন দেওয়ার অভিযোগ তো রয়েছেই । স্থানীয় কয়েকজনার সঙ্গে ‘আম’ নিয়ে কথা হলো—তারা সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘জেনে শুনে তো বিষ খেতে পারি না। আম খাওয়া তো একদম ছেড়েই দিয়েছি।’ হিমাচলের কল্পার বাগানে ট্যুরিস্টরা বিনা টাকায় খেতে পারে পেট ভরেই ফরমালিনমুক্ত আপেল। তেমনি বাংলাদেশের স্বরূপকাঠিতে পেয়ারা বাগানে বিনা পয়সায় পেয়ারা পাওয়া যায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জের এমন সুযোগ তো নেই। তাহলে এ কোন আমের নগরী? লিয়াকত হোসেন খোকন, রূপনগর আবাসিক এলাকা, ঢাকা ১২১৬