খুলনায় বিএনপির আন্দোলন প্রস্তুতি
সম্মেলনে উজ্জীবিত আওয়ামী লীগ
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৪, ২০:৫৯
খুলনায় সরকার বিরোধী আন্দোলন জোরদার করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বিএনপি। ইতিমধ্যে দলের পক্ষ থেকে নগরীর ওয়ার্ড ও থানা কমিটি পুনর্গঠন, সাংগঠনিক মাস পালনের উদ্যোগ গ্রহণ এবং বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথের কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ পদ প্রদানের মাধ্যমে বিএনপির আন্দোলনের সহযোগী শক্তি হিসাবে তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। অপরদিকে, দীর্ঘ সাত বছর পর খুলনা মহানগর ও জেলা কমিটির সম্ভাব্য সম্মেলন নিয়ে উজ্জীবিত আওয়ামী লীগের নেতৃমূল নেতাকর্মীরা। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর মহানগর আওয়ামী লীগ এবং নভেম্বরের মাঝামাঝি জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে জোরেসোরে।
বিএনপির দলীয় সূত্র জানায়, দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ঘোষিত আন্দোলন কর্মসূচি চূড়ান্ত রূপ দিতে খুলনা মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্ততি গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রস্তুতির অংশ হিসাবে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ড, ৩ ইউনিয়ন এবং পাঁচ থানা কমিটিকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে ঢেলে সাজানো হবে। এ লক্ষ্যে আগামী ১৭ আগস্ট থেকে সাংগঠনিক মাস পালন করবে মহানগর বিএনপি।
সূত্রমতে, বিগত দিনের আন্দোলন-সংগ্রামের রাজপথের কর্মীদেরকে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব প্রদান করা হবে। সেই সাথে ছাত্রদল, যুবদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলসহ ৭টি অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় এবং কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ করার মাধ্যমে বিএনপির আন্দোলনের সহযোগী শক্তি হিসাবে তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করা হবে। তবে কমিটি থেকে বাদ দেয়া হবে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে দলের নিষ্ক্রিয় ও পিছুটান দেয়া নেতাদের। সাংগঠনিক মাস পালন শেষে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে চূড়ান্ত আন্দোলনে রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। গত ৯ আগস্ট খুলনা মহানগর বিএনপির নির্বাহী কমিটির সভায় এ সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। মহানগর বিএনপি সভাপতি ও সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু’র সভাপতিত্বে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিটি মেয়র মনিরুজ্জামান মনিসহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ৪৬ জন নেতা বক্তব্য রাখেন। সভায় সাংগঠনিক বিভিন্ন দিক এবং সরকার বিরোধী চূড়ান্ত আন্দোলন সম্পর্কে বিশদ ও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এদিকে, দীর্ঘ প্রায় সাত বছর পর খুলনায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হতে যাচ্ছে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর মহানগর আওয়ামী লীগ এবং নভেম্বরের মাঝামাঝি জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে জোরেসোরে। এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নেতৃত্ব প্রত্যাশী নবীন-প্রবীণ অনেক নেতা সাংগঠনিক কাজে তত্পর হয়ে উঠেছেন। নেতৃত্ব প্রত্যাশী এ সব নেতাদের কাছে কদর বেড়ে গেছে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের। ফলে দীর্ঘদিন পর দলের ‘প্রাণ ভোমরা’ তৃণমূল নেতাকর্মীরাও দারুণভাবে উজ্জীবিত হয়ে উঠেছে।
এ অঞ্চলের সকল ধরনের আন্দোলনের সূতিকাগার হচ্ছে খুলনা মহানগর। মহানগরীসহ পুরো জেলার রাজনীতি নিয়ন্ত্রিত হয় এখান থেকে। এখানে যে দলের সাংগঠনিক অবস্থা যত শক্তিশালী সেই দলের ভিত তত মজবুত। কিন্তু দীর্ঘ সাত বছর ধরে সম্মেলন না হওয়ায় অনেকটাই নড়বড়ে হয়ে পড়েছে স্বাধীনতার নেতৃত্বদানকারী দলটির ভিত। এই দীর্ঘ সময় ধরে দলটির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চলছে গুটি কয়েক নেতার নেতৃত্বে। ফলে হতাশা ভর করে নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের মধ্যে। এছাড়া ক্ষমতার সুবিধা ভোগসহ নানা কারণে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি হয় তৃণমূল নেতাকর্মীদের। পাশাপাশি আভ্যন্তরীণ কোন্দলেও জড়িয়ে পড়েছে দলের অধিকাংশ নেতা।
সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সম্মেলন না হওয়ায় ৭১ সদস্যের মহানগর ও জেলা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ একাধিক পদ শূন্য হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে কমিটির বেশ কয়েকজন নেতার মৃত্যু হয়েছে। আবার অনেকে নানা কারণে রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে। এ অবস্থায় নতুন করে সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠনকে গতিশীল করতে কেন্দ্র থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়। সমপ্রতি কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর এক সভায় দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম খুলনায় সম্মেলন করার তাগিদ দিয়ে চিঠি পাঠান।
প্রথমে গত ২৫ জুলাই খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। তবে রমজান ও আগস্ট মাস চলে আসায় শেষ পর্যন্ত ২৭ সেপ্টেম্বর সম্মেলন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এছাড়া নতুন সদস্য সংগ্রহ করা এবং নগরীর পাঁচটি থানার মধ্যে চারটি থানায় সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করা হয়েছে। অপরদিকে জেলা আওয়ামী লীগ আগামী নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সম্মেলনের তারিখ মাথায় নিয়ে সাংগঠনিক তত্পরতা চালাচ্ছে। নয়টি উপজেলার মধ্যে ইতিমধ্যে দুটি উপজেলায় কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাকি সাতটি উপজেলায় বর্ধিত সভা করে সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের কয়েকজন শীর্ষ নেতা বলেন, আগামী সম্মেলনের মাধ্যমে সংগঠন আরো গতিশীল হবে। সেই সঙ্গে নতুন নেতৃত্ব ও তৃণমূল নেতাকর্মীরা আগামী দিনে বিএনপি-জামায়াতের নৈরাজ্য প্রতিরোধে রাজপথে কঠোর ভূমিকা পালন করবে।