শেষ দিনের আকর্ষণ তামিম
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৪, ২১:৪৭
ফুটবলের মতো ত্রাহি ত্রাহি কাণ্ড হয়তো ঘটতো না; তবে ক্রিকেটের দলবদলও একসময় রক্তে নাচন তুলতো।
খেলোয়াড় নিয়ে টানাটানি, ঘোড়ার গাড়ির মিছিল, শহরময় উত্তেজনা থেকে শুরু করে শেষ মুহূর্তের নাটকীয়তা, এমনকি খেলোয়াড় ছিনতাইয়ের মতো ঘটনাও ঘটতো। এই খেলোয়াড় ছিনতাই বা শেষ মুহূর্তের অনাকাঙ্ক্ষিত সব ঘটনা এড়াতেই ‘কমিশনে দলবদল’ ব্যাপারটা চালু হয়েছিল। কাগুজে ব্যাখ্যা যাই হোক, আসল ব্যাপার ছিল—কোনো খেলোয়াড়কে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করলে সংশ্লিষ্ট ক্লাব যেন ক্রিকেট বোর্ডের অফিসে না এসেই নিরাপদ কোনো জায়গায় বসে দলবদল সারতে পারে।
সেই উত্তেজনাও নেই, সেই ছিনতাইয়ের ঝুঁকিও নেই। ঢাকার ফুটবলের মতো ঢাকার ক্রিকেটের দলবদলও তার সেই টগবগে রোমাঞ্চ হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু ‘কমিশনে দলবদল’ ব্যাপারটা এখনও টিকে আছে। তবে এখন সেটা আর খেলোয়াড়ের নিরাপত্তার জন্য নয়; মূলত ব্যবহার হয় কোনো ক্লাবের বা খেলোয়াড়ের বা কর্মকর্তার ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে।
গতকাল সেই কমিশনে দলবদল করে রেওয়াজটা ধরে রাখলো গাজী ট্যাংক ক্রিকেটার্স ও কলাবাগান ক্রিকেট অ্যাকাডেমি। এর মধ্যে গাজী ট্যাংকে যোগ দেয়া তামিম ইকবালই বলা যায় পুলভুক্ত খেলোয়াড়দের দলবদলের শেষ দিনের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন।
গত পরশু ও গতকাল ছিল মূলত পুলে থাকা ২৩ ক্রিকেটারের দলবদলের বিশেষ ‘উইন্ডো’। এই সময়ে পুলের ২৩ ক্রিকেটারের মধ্যে ২১ জনই দল নিশ্চিত করে ফেলেছেন। গতকাল রাত পর্যন্ত অবশ্য নতুন দলের সন্ধান পাননি সোহাগ গাজী ও আরফাত সানি। তবে তারা টোকেন তুলে রেখেছেন। ২৮ আগস্টের মধ্যে যেকোনো দলের হয়ে টোকেন জমা দেয়ার সুযোগ আছে তাদের।
গতকাল পর্যন্ত আবাহনী লিমিটেড, মোহামেডান স্পোর্টিং, প্রাইম দোলেশ্বর, প্রাইম ব্যাংক ও কলাবাগান যার যার পুলের পূর্ণাঙ্গ কোটা, ৩ জন করে খেলোয়াড় নিয়ে ফেলেছে। গাজী ট্যাংক, কলাবাগান অ্যাকাডেমি ও ভিক্টোরিয়া দুইজন করে পুলের খেলোয়াড় রেখেছে দলে। এর মধ্যে গাজী ট্যাংক একটা জায়গা আবার সাকিব আল হাসানের জন্য রেখে দিয়েছে। সাকিবকে পুলে নাকি উন্মুক্ত রেখে প্রিমিয়ার খেলতে দেয়া হবে, সেটা নিশ্চিত নয়। তবে যেটাই হোক, তাকে যেন দলে পাওয়া যায়, সেজন্য ঝুঁকি নেয়নি গাজী ট্যাংক।
এদিকে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে গতকাল কলাবাগানে যোগ দিলেন আব্দুর রাজ্জাক, সামসুর রহমান শুভ ও রবিউল ইসলাম। মার্শাল আইয়ুব ও ইমরুল কায়েসকে দলে ভেড়ালো ভিক্টোরিয়া। আর কলাবাগান অ্যাকাডেমিতে এলেন সাব্বির রহমান রুম্মন।
কলাবাগান অ্যাকাডেমি তাদের আরেক দলভুক্তি এনামুল হক বিজয়কে কমিশনে দলে ভেড়ালো লুত্ফর রহমান বাদলের কাওরান বাজার অফিসে বসে। কলাবাগান অ্যাকাডেমির নতুন মালিকানা এবার কিনে নিয়েছেন গাজী ট্যাংকেরই ভাইস চেয়ারম্যান মনজুরুল করিম রনি। সেই সুবাদে তার দলেরও প্রদর্শনীটা হয়ে গেল এখানে।
অন্যদিকে গাজী ট্যাংকের মালিক বাদল স্বয়ং প্রদর্শনীটা করলেন তামিম ইকবালকে দিয়ে। সাকিব-তামিম ছাড়া পুলের তৃতীয় ক্রিকেটার হিসাবে বাদল দলে রাখছেন পেসার রুবেল হোসেনকেই।
শুধু এই প্রদর্শনী নয়, বাদল পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন যে, মুশফিকুর রহিম নন; এবারও লিগের সবচেয়ে দামি দুই ক্রিকেটার হবেন সাকিব ও তামিম। অংকটা বলতে না চাইলেও ইঙ্গিত দিয়ে রাখলেন, ‘মুশফিকের চেয়ে কম তো নয়ই, বেশিই হবে। অবশ্যই সাকিব-তামিম বেশি পাবে; পাওয়া উচিতও। টাকাটা আমি সিক্রেট রাখতে চাই। তবে ওই অ্যামাউন্টের (৫০ লাখ) চেয়ে কম হবে না। আমি ওদের (সাকিব-তামিমকে) কন্ট্রাক্টের মনেই করি না। ওরা আমার পরিবারের সদস্য।’
এভাবে টাকা-পয়সা নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা হওয়ায় একটু বিব্রতই মনে হল তামিমকে। তবে তিনি বললেন, অংক যাই হোক, এই বেশি দামে বিক্রি হওয়াটা তার জন্য একটা বাড়তি দায়িত্বের ব্যাপার সবসময়ই হয়। তবে টাকা-পয়সা নয়, তামিমের মূল স্বস্তি এই যে, তিনি আবার প্রিয় সংগঠক বাদলের দলে ফিরতে পেরেছেন এবার, ‘আমি আর সাকিব কয়েক বছর ধরেই বাদল ভাইয়ের সঙ্গে খেলছি। ওনার টিমে খেলাটা আমি খুব এনজয় করি। একটা দলের সাফল্য আসলে দুপক্ষের ওপরই নির্ভর করে। উনি ম্যানেজমেন্টের ব্যাপারটা খুব ভালোভাবে দেখেন। সঙ্গে খেলোয়াড়দের ফ্রিডমটা দেন। আশা করবো, এবারও ওই ব্যাপারটা থাকবে। যেমন টিম হয়েছে, খুব স্মার্ট টিম। আমরা সবাই একসঙ্গে পারফরম করতে পারলে ইনশাল্লাহ এবারও ভালো একটা ফল আসবে।’