বাদলের ক্ষোভ ও অভিযোগ

নিজের অফিসে আলাদা করে গাজী ট্যাংকের দলবদল আয়োজন করেছিলেন লুত্ফর রহমান বাদল। দলবদল বলতে পুলের ক্রিকেটারদের মধ্যে শুধু তামিম ইকবালই আবার এবার ফেরত এলেন বাদলের ঘরে। রুবেল হোসেন গতবারও ছিলেন, এবারও থাকছেন। আর সাকিব আল হাসান এখনও নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকলেও তাকে বিবেচনায় রেখেছেন বাদল। তবে গতকালকের এই বিশেষ দলবদল আয়োজনে এইসব বিষয়ের চেয়ে বাদলের দুটি অভিযোগ বেশি গুরুত্ব পেল। তিনি অনেকদিন ধরেই বলছেন, তার দল গাজী ট্যাংকের নাম বদল করে ‘লিজেন্ড অব রূপগঞ্জ’ রাখতে চান। কিন্তু সিসিডিএম ও বিসিবির কারণে সেটা এখনও হয়নি বলে কাল আবারও অভিযোগ করলেন বাদল, ‘বাইলজে লেখা আছে যে, কেউ নাম বদল করতে চাইলে প্রথম বছর আগের নামে খেলতে হবে, পরের বছর অটোমেটিক নতুন নাম চালু হয়ে যাবে। আমি বার বার চিঠিও দিয়েছি এজন্য। কিন্তু এটা যেহেতু লুত্ফর রহমান বাদলের টিম, তাই অটোমেটিক কিছু হয় না। আমার কাছে মনে হয়, এটা হাস্যকর। একটা দলের নাম পরিবর্তন করতে এরকম করাটা ক্রিকেটের জন্যই খারাপ।’ যদিও এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হলে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের চেয়ারম্যান আ জ ম নাসির বললেন, এ ব্যাপারে সিসিডিএমের করণীয় কিছু নেই, ‘নাম বদলটা সিসিডিএমের এখতিয়ারে। এটা অটোমেটিক হওয়ার ব্যাপার নয়। এজন্য আবেদন করতে হয়। সে আবেদন বিবেচনা করবে বিসিবি। বিসিবির সিদ্ধান্ত না পেলে এ ব্যাপারে আমাদের করণীয় কিছু নেই। সিসিডিএম কারো বিপক্ষে নয়।’ এরপর বাদল অভিযোগ করলেন, পুলে যে জাতীয় দলের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলা খেলোয়াড়দের রাখা হয়েছে, এটা ন্যায্য নয় বলে। নতুন এই নিয়মের সমালোচনা করে তিনি বললেন, ‘আমি মনে করি মনমতো দল করতে পারিনি। কারণ, আমার কন্ট্রাক্টেড আরও কয়েকজন খেলোয়াড় এবার পুলে পড়ে গেছে। আপনারা দেখবেন, এবার জাতীয় দলের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলা খেলোয়াড়দেরও পুলে রাখা হয়েছে; এটা আগে ছিল না। আমার মনে হয়, এসব আইন করা হলে সেটা খেলোয়াড়দের জন্যও ক্ষতিকর, আমাদের জন্যও ক্ষতিকর।’ এ ব্যাপারেও দায়টা বিসিবির দিকেই দিলেন আ জ ম নাসির। তিনি বলছেন, পুলের ব্যাপারে আসলে সিসিডিএম বা ক্লাবের কিছু বলার এখতিয়ারই নেই, ‘জাতীয় দলের পুল আমাদের গঠন করে দেয় ক্রিকেট বোর্ডের ক্রিকেট অপারেশন্স বিভাগ। আমরা সেটা জানিয়ে দেই মাত্র। আর ক্রিকেট অপারেশন্স এখানে দলগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা রাখতেই পুল নিয়ে চিন্তাভাবনা করে।’ তবে যাই ব্যাখ্যা দেয়া হোক না কেন, বাদল মনে করেন, তার প্রতিবাদী আচরণই আসলে তার বিপক্ষে নিয়ে গেছে বিসিবিকে, ‘আমি সবসময়ই ক্রিকেটের পক্ষে কথা বলি। যত অনিয়ম হয়, আমিই একমাত্র এর বিপক্ষে সোচ্চার। অন্য কোনো ক্রিকেট সংগঠক বা বোদ্ধাদের মধ্যে এই সোচ্চার ব্যাপারটা আমি কম দেখি। আমি আমার কথা বলে যাবো। আপনারাও জানেন, গতবার প্লেয়ার বাই চয়েস করা হয়েছিল আমারই কারণে। এটা সবাই জানেন। তাই বিচারটা আপনাদের কাছেই দিলাম।’