৫ জানুয়ারির নির্বাচন সহিংসতা থামিয়ে স্বস্তি আনে

বাংলাদেশে কানাডার হাইকমিশনার হিদার ক্রুডেন বলেছেন, গত ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচন সহিংসতার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশে স্বস্তি এনে দিয়েছে। আশাকারি বিএনপির আন্দোলন আবার সেই সহিংসতা শুরু করবে না। এই আন্দোলনে বাংলাদেশ ও এর জনগণের স্বার্থে সহিংসতা অন্তর্ভুক্ত থাকবে না- এ প্রত্যাশা আমাদের। গণতন্ত্রে সবার প্রতিবাদের সুযোগ থাকবে আর সেই প্রতিবাদ হতে হবে শান্তিপূর্ণ। গতকাল সোমবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে তিনি গণমাধ্যমে কূটনৈতিক সংবাদদাতাদের সংগঠন-ডিকাব আয়োজিত ‘ডিকাব টক’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন। ডিকাব সভাপতি মাঈনুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক আঙ্গুর নাহার মন্টি। কানাডার হাইকমিশনার বলেন, ২০১৩ সালে সহিংসতা ও সংঘাত প্রতিটি বাংলাদেশির নিত্যসঙ্গী ছিল। নির্বাচন নিয়ে বিরোধই এর কারণ। প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিরোধ মেটাতে আলোচনায় বসতে বার বার আহ্বান জানিয়েছি। কখনো হয়তো তারা আলোচনা করবে ও একমত হবে। সংলাপ কেবল আগামী নির্বাচন নিয়ে নয়, সংবিধান অনুযায়ী পাঁচ বছর পর কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে তা নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা চাই নির্বাচন নিয়ে পাঁচ বছর পর পর সহিংসতার চক্রের অবসান হোক। কারণ নির্বাচন নিয়ে সহিংসতার কারণে প্রবৃদ্ধি আর অগ্রগতি ব্যাহত হয়। মানুষ মারা যায়। কাজ করতে পারে না। আমরা চাই এদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন হোক। দুই প্রধান দলের মধ্যে আস্থা ফিরে আসুক। হিদার ক্রুডেন আরো বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে আমাদের ব্যাপক আপত্তি আর অসন্তোষ রয়েছে। যদিও এই নির্বাচন ছিল সংবিধানসম্মত। অর্ধেকেরও বেশি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার বদলে বিনা ভোটে নির্বাচন হয়। তিনি আরো বলেন, ঘোষিত সম্প্রচার নীতিমালা আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করব। কানাডা মুক্ত ও সজাগ গণমাধ্যমে বিশ্বাস করে। নীতিমালাটির ইংরেজী সংস্করণ দেখার পর বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানাব। কানাডার হাইকমিশনার প্রশ্নের জবাবে জানান, বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে হত্যা একটি ভয়ানক অপরাধ। আমি বঙ্গবন্ধু স্মৃতি যাদুঘরে যা দেখেছি তা কল্পনাতীত। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী নূর চৌধুরীকে এদেশে ফেরত পাঠানোর গুরুত্ব কানাডা বুঝতে পারছে। কিন্তু কানাডার আইনে বিষয়টি বিচারাধীন। গোপনীয়তা রক্ষার কারণে এ ব্যাপারে মন্তব্য করা যাবে না।