লঞ্চ উদ্ধার কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০১৪, ২২:৩৯
৬১ জন যাত্রী এখনও নিখোঁজ থাকলেও মাওয়া ঘাটের কাছে পদ্মায় ডুবে যাওয়া লঞ্চ পিনাক-৬ এর উদ্ধার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। তবে ভাটি অঞ্চলের জেলাগুলোতে লাশ উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। লঞ্চ দুর্ঘটনার ৮ দিনের মাথায় গতকাল সোমবার বেলা ১১ টার দিকে মাওয়ায় ‘পদ্মা রেস্ট হাউজে’ অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল এই ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং আট দিন হয়ে যাওয়াসহ সার্বিক বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
এর আগে গত শনিবার প্রেসব্রিফিং করে জেলা প্রশাসক নদীর তলদেশে পাওয়া একটি অজ্ঞাত বস্তুর ইমেজ ঘিরেই উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। এই ঘোষণার একদিন পরই তিনি আনুষ্ঠানিক ভাবে লঞ্চ শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া স্থগিত ঘোষণা করলেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অনুসন্ধানকারী জাহাজ কান্ডারি-২ এর ইনচার্জ এবং চট্টগ্রাম বন্দরের চীফ হাইড্রোগ্রাফার ক্যাপ্টেন মঞ্জুর করিম চৌধুরী বলেন, ‘যে ইমেজটি পাওয়া গিয়েছিল। সেটি লঞ্চ কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।’ এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ সুপার কুতুবুর রহমান।
গত ৪ আগস্ট সোমবার বেলা ১১ টার দিকে কাওড়াকান্দি থেকে মাওয়া আসার পথে আড়াইশ’ যাত্রী নিয়ে পিনাক-৬ লঞ্চটি ডুবে যায়। দুর্ঘটনার পর শতাধিক যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। এছাড়া এ পর্যন্ত মোট ৪৭টি লাশ উদ্ধার হয়েছে। বেওয়ারিশ হিসাবে ১৭টি লাশ দাফন করা হয়েছে। তবে এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৬১ যাত্রী। নিখোঁজদের ব্যাপারে কোন সদুত্তর না দিয়েই ডুবে যাওয়া লঞ্চটির উদ্ধার কার্যক্রম পরিত্যক্ত ঘোষণা করলো প্রশাসন।
আট দিনের ব্যর্থ অভিযান: দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের অভিযোগ ছিল, লঞ্চটি ডুবে যাওয়ার তিন ঘন্টা পর উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে বিআইডব্লিউটিএ। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার কার্যক্রম চালালে হয়তো লঞ্চটি উদ্ধার করা যেতো। শুরুর দিনই উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয় নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড ও ফায়ার সার্ভিস। গত ৭ আগস্ট থেকে ডুবে যাওয়া লঞ্চটি শনাক্তে কার্যক্রম শুরু করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধান জাহাজ কান্ডারি-২। এর দুইদিন পর একই সংস্থার জরিপ-১০ জাহাজটি পদ্মায় লঞ্চ শনাক্তে তল্লাশি শুরু করে। বিভিন্ন সংস্থার অন্তত ১০টি অনুসন্ধান জাহাজ লঞ্চটি শনাক্তে রাতদিন কার্যক্রম চালায়। লঞ্চটি শনাক্তে সর্বাধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে সাইড স্ক্যানার ‘সোনার’ এবং ‘সাব বোটম প্রোফাইলার’ উল্লেখযোগ্য। পদ্মার ৫০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে চালানো হয় এই উদ্ধার কার্যক্রম। উদ্ধার অভিযানে র্যাবের হেলিকপ্টারও অংশ নেয়। এছাড়া ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় ডুবরিরা সনাতন পদ্ধতিতে নোঙর দিয়ে লঞ্চটির অনুসন্ধান চালায়। এতে কয়েক কোটি টাকা খরচ হলেও ব্যর্থ হয় অভিযান। আটদিনেও খুঁজে পাওয়া যায়নি পিনাক-৬ কে।
হাল ছাড়েননি স্থানীয়রা: এদিকে সনাতন পদ্ধতিতে লঞ্চটি শনাক্তের চেষ্টা গতকাল সকালেও চলেছে। নায়লনের রশির মধ্যে ইট বেঁধে দুটি ট্রলার দিয়ে স্থানীয়রা মাছ ধরার জাল টানার মতো করে চিরুনি অভিযান চালিয়েছেন। কেউ এই পদ্ধতিকে বলছেন ‘টোটকা’ আবার কেউবা ‘চেইন কপ্পা’। তবে দুই দিনেও লঞ্চটি শনাক্ত করতে পারেন নি তারা। দুপুরের পর তাদের আর নদীতে দেখা যায় নি।
তদন্ত কমিটির সাক্ষ্য গ্রহণ আজ:পিনাক-৬ লঞ্চ দুর্ঘটনা তদন্তে নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি আজ মঙ্গলবার মাওয়ায় ‘পদ্মা’ রেস্ট হাউসে দুর্ঘটনায় বেঁচে যাওয়া যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য গ্রহণ করবে। সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত ওই রেস্ট হাউসে হাজির হয়ে সাক্ষ্য প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আরো এক লাশ উদ্ধার:বরিশাল অফিস জানায়, গতকাল সোমবার দুপুরে সদর উপজেলার লামচরি সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদী থেকে অর্ধগলিত এক নারী (৩৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাশটি পিনাক-৬ এর কোন যাত্রীর হতে পারে বলে ধারণা তাদের। মরদেহটি শিবচরের পাঁচ্চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের কন্ট্রোল রুমে পাঠানো হয়েছে।