এসএসসি ও জেএসসি গণিত সৃজনশীল
মোহাম্মদ মুরাদ হোসেন সরকার, পরীক্ষক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা শিক্ষক (গণিত) ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজ, ঢাকা
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৪, ১৯:৩১
এসএসসি ও জেএসসি পরীক্ষায় বা বিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় তিন ধরণের বহুনির্বাচনী প্রশ্ন থাকতে পারে। ধরন তিনটি হল -
১. সাধারণ বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (Simple MCQ)
২. বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
( Multiple Completion MCQ)
৩. অভিন্ন তথ্যভিত্তিক বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (Situation set MCQ)
এবার একটু বিস্তারিত আলোচনা করা যাক-
১. সাধারণ বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (Simple MCQ)
এ ধরনের প্রশ্ন শুরু হয়ে থাকে প্রশ্নের আকার অথবা অসম্পূর্ণ বাক্য হিসাবে যা উদ্দীপকের কাজ করে। তবে এক্ষেত্রে যথাসম্ভব অসম্পূর্ণ বাক্য পরিহার করা উত্তম। এই ধরনের প্রশ্নের চারটি বিকল্প উত্তর থাকে। যার ধারণা প্রথমেই দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে একটি সঠিক উত্তর (Key) এবং বাকীগুলো থাকে বিক্ষেপক (distractors) যা সঠিক উত্তর নয় । তবে বিক্ষেপকগুলো এমন ভাবে প্রণয়ন করা হয় যাতে মোট পরীক্ষার্থীর ৫% এই দিকে ধাবিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এখানে মনে রাখতে হবে ভুল উত্তরগুলো আন্দাজের উপর হবে না। যেমনঃ প্রথম প্রশ্নটি নিয়ে একটু বিশ্লেষণ করা যাক -
প্রশ্নঃ ১ থেকে ১০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা গুলোর গড় কত?
ক) ৩.৬০ বিক্ষেপক/ distractors
খ) ৪.২৫ সঠিক উত্তর/ Answer Key
গ) ৬.৩৩ বিক্ষেপক/ distractors
ঘ) ৭.৪০ বিক্ষেপক/ distractors
এখানে, ১ থেকে ১০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা গুলো হল ২, ৩, ৫, ৭ । এই সংখ্যাগুলো যোগ করে ৪ দিয়ে ভাগ করে গড় নির্ণয় করতে হবে।
সুতরাং,
= ৪.২৫, যা সঠিক উত্তর অর্থাত্, Option ‘খ’।
কিন্তু অপর বিকল্প উত্তর ‘ক’ যা ভুল উত্তর। এটি আন্দাজের উপর দেওয়া হয়নি। কোনো কোনো পরীক্ষার্থী ১ থেকে ১০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা গুলো চিন্তায় নিয়ে আসবে ১, ২, ৩, ৫, ৭ । পরীক্ষার্থী এই সংখ্যাগুলো যোগ করে ৫ দিয়ে ভাগ করে গড় নির্ণয় করবে। এই ধরনের পরীক্ষার্থী গড় নির্ণয় করবে নিম্নোক্তভাবে-
= ৩.৬০, যা সঠিক উত্তর নয়।
অর্থাত্, Option ‘ক’।
একইভাবে Option ‘গ’ ও ‘ঘ’ উত্তরও আন্দাজের উপর ভিত্তি করে করা হয়নি।
আবার, বিকল্প উত্তরগুলো সংখ্যাবাচক হওয়ায় এদের ক্রমানুযায়ী বিন্যাস করা হয়েছে।
লক্ষ করলে দেখা যাবে বিকল্প উত্তরগুলোর সংখ্যাগুলো ছোট থেকে বড় এভাবে সাজানো হয়েছে। তা ছাড়া বিকল্প উত্তরগুলোর সংখ্যাগুলো বড় থেকে ছোট এভাবেও সাজানো যাবে। তবে এলোমেলোভাবে সাজানো যাবে না।
যেহেতু গণিতে প্রায়োগিক দিকের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে তাই এই ধরনের প্রশ্নের জন্য একটি নতুন পরিস্থিতির দরকার হবে। তবে কখনও কখনও কোন তত্ত্ব, তথ্য, সূত্র, নিয়ম-নীতি ইত্যাদিকে সরাসরি জানতে চাওয়ার দরকার হলে এই অংশের প্রশ্নের উত্তর দেয়ার ক্ষেত্রে নতুন পরিস্থিতির দরকার নাও হতে পারে। এ ধরনের প্রশ্নের মাধ্যমে সাধারণতঃ সহজ স্তরের প্রশ্নসমূহ করা হয়ে থাকে। তবে উদ্দীপকে চিন্তার গভীরতার প্রতিফলনের উপর নির্ভর করে এই ধরনের প্রশ্নের মাধমে মধ্যম ও কঠিন স্তরের প্রশ্নও করা হয়। এ ধরনের প্রশ্ন আমাদের দেশে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রশ্ন প্রণেতাদের কাছে যথেষ্ট পরিচিত।
২. বহুপদী সমাপ্তিসূচক বহুনির্বাচনী প্রশ্ন
( Multiple Completion MCQ)
এস এস সি এবং দাখিল পরীক্ষায় এ ধরনের প্রশ্ন নতুন। এই ধরনের MCQ ব্যবহারে প্রশ্নের বৈচিত্র্য আসে। নতুন পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে এ ধরনের প্রশ্নের শুরুতে একটি অসমাপ্ত বাক্য থাকে অর্থাত্ এ প্রশ্নের শেষে কখনও প্রশ্নবোধক চিহ্ন থাকে না এবং তার পরপরই নিচে তিনটি তথ্য/বিবৃতি/ধারণা দেয়া হয়। তিনটি তথ্য/বিবৃতি/ধারণার ১টি/২টি/৩টি সঠিক হতে পারে। এ তথ্যসমূহকে সাজিয়ে ৪টি বিকল্প উত্তর তৈরি করা হয় এবং ৪টি বিকল্প উত্তর থেকে শিক্ষার্থীকে একটি বাছাই করতে হয়।
আগামীকাল বহুনির্বাচনী প্রশ্নের উদাহরণ থাকবে