সবার সেরা টিম আইকন্স

জুনের বিকেল। সময় বিকেল পাঁচটা। মাহির তাজওয়ার তার বন্ধু ও পরিচিতদের নিয়ে বারিধারার নর্থ এন্ড কফিশপে জরুরীভাবে বসে। প্রতিবন্ধী উন্নয়ন সংগঠন ফিজিক্যালি— চ্যালেঞ্জড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (পিডিএফ) ৩৫ দিনব্যাপী সামার চ্যালেঞ্জের আয়োজন করছে। এতে অংশ নেবে স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থীদের দ্বারা পরিচালিত ২০টি দল। দলগুলো সমাজে কি কি সমস্যা বিরাজ করছে, তা দেখে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রকল্প হাতে নেবে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য নিজেরা ফান্ড জোগাড় করবে এবং নিজেরাই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করবে আর প্রকল্পগুলোর ন্যূনতম একটি হবে প্রতিবন্ধীদের সমস্যা বুঝা। সভার উদ্দেশ্য নিজেরা একটি টিম করে ৩৫ দিনকে কাজে লাগানো। মাহির তাজওয়ারের পরিচালিত এ সভায় অংশ নেয়া ১৫ জনের সবাই বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থী। তাদের ভেতর তারুণ্য ভর করছিল। সবাইকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়ার প্রবণতা কাজ করছিল। তারা নিজেদের দলের নাম দেয় টিম আইকনস। সভায় সবাই মিলে তিনটি প্রকল্প হাতে নেয় এবং বাস্তবায়ন করে। আইকনসের দলপতি মাহির তাজওয়ার জানান, উত্তরখান গ্রামে একটি এতিমখানা আছে। সে এতিমখানায় বসবাসের পরিবেশ করুণ। জরাজীর্ণ দুটি রুম। গাদাগাদি করে এ দুটি রুমে বাস করছে ১২০ জন শিশু। আর পানির কষ্ট আরো বেশি। একঘণ্টা হেঁটে পাশের গ্রাম থেকে পানি নিয়ে আসতে হয়। বন্ধুদের সবার ইচ্ছা অনুযায়ী এতিমখানাটি সংস্কার করে দেয়। ৪৫০ ফুট মাটি খনন করে নলকূপ বসায়। পানি জমা রাখার জন্য একটি চৌবাচ্চা তৈরি করে দেয়। আরেকটি প্রকল্প ছিল অসমাপ্ত ভোকেশনাল ট্রেনিং। বস্তিবাসী শিশুদের তাদের মা বাবা স্কুলে পাঠাতে পারে না। তাদের দিয়ে কোনো রকম অল্প কিছু টাকা আয়ও হয়, তাও নিজের পরিবার চলার ক্ষেত্রে সাপোর্ট হিসেবে বিবেচনা করে। এজন্য তারা শাহজানপুরে একটি ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার খোলার উদ্যোগ নেয়। সেখানে কম্পিউটার শেখানো, মোবাইল সার্ভিসিং এবং ইলেকট্রনিক পণ্য মেরামত শেখানোর ব্যবস্থা রাখে। আরেকটি প্রকল্প ছিল শহরের বাইরে গিয়ে একটি গ্রামের অবস্থা দেখা। এজন্য তারা বেছে নেয় গাজীপুরের কালীগঞ্জ চৌরামিয়া বাড়ি। সেখানে এ দল দিনব্যাপী থাকে। ৪০ জন স্বেচ্ছাসেবী কালিগঞ্জ পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজে যায়। ১৫ জন গ্রামবাসী তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসে। এ প্রোগ্রাম শেষ হয় স্থানীয় একটি মসজিদে ইফতার প্রোগ্রামের মাধ্যমে। সবমিলিয়ে ৩০০ জন উপস্থিত ছিল। ২০০ জন বৃদ্ধ এবং প্রতিবন্ধীকে তাদের নিজেদের বাসায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছিল ইফতার।