বারপাইখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

বারপাইখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ধামরাই উপজেলার সূতিপাড়া ইউনিয়নের বারপাইখা গ্রামে এক সময়ের প্রমত্তা গাজী খালী নদীর তীরে বিদ্যালয়টি অবস্থিত। আমি সাদিয়া আক্তার এই বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির একজন ছাত্রী। বারপাইখার কৃতি সন্তান বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও বীরমুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান খান ১৯৭২ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত করেন। এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ১৭৬ জন। শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৩ জন। প্রধান শিক্ষক ও একজন সহকারি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। শিক্ষকের স্বল্পতার কারণে ম্যানেজিং কমিটিকে নিজস্ব অর্থায়নে একজন প্যারা শিক্ষক নিয়োগ দিতে হয়েছে। রিজাউল হক স্যার আমাদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। পাঠ-প্রদান, সাংস্কৃতিক চর্চা, খেলাধূলাসহ সবকিছুতেই শিক্ষকবৃন্দ আমাদের প্রতি আন্তরিক। আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক। বিদ্যালয়ের সামনে রয়েছে একটা খেলার মাঠ ও বেশ খানিকটা নিচু জায়গা। এ নিচু জায়গাটুকু ভরাট হলে আমাদের খেলাধূলার সুবিধা বাড়বে। আমাদের বিদ্যালয়ে মাত্র একটি ভবন রয়েছে। আরও একটি ভবন প্রয়োজন। বিদ্যুত্ সংযোগ না থাকায় গরমের মধ্যে ক্লাস করতে আমাদের খুব কষ্ট হয়। প্রধান সড়কের সাথে বিদ্যালয়ের সংযোগ রাস্তাটি পাকা হওয়া প্রয়োজন। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ওদুদুর রহমান ও বালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক শিক্ষানুরাগী মোহাম্মদ রবিউল আওয়াল জসীম নিজস্ব অর্থায়নে বিদ্যালয় আঙিনায় বনায়ন করে বিদ্যালয়ের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছেন। তিনি ক্রীড়া সামগ্রী সরবরাহ ও উদ্দীপনা পুরস্কার দিয়ে শিক্ষার্থীদেরকে উত্সাহ যুগিয়ে থাকেন। বিদ্যালয়ের কোন তহবিল না থাকায় আমাদের খেলাধূলা ও যাবতীয় অনুষ্ঠানাদির ব্যয়ভার ম্যানেজিং কমিটির সকলেই সম্মিলিতভাবে বহন করে থাকেন। তবে উপদেষ্টা কাজীমুদ্দিন মেম্বার, সভাপতি মোহাম্মদ রবিউল আওয়াল জসীম, দাতা সদস্য সরল খান, আমিনুল ইসলাম নহা মোল্লা, ব্যবসায়ী এম.এ. সবুর বিশ্বাস, সুখুমুদ্দিন মন্ডল, আ. আজিজ, আ. রশিদ বিদ্যালয়টির উন্নয়ন ও যাবতীয় ব্যয় ভারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকেন। ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক, সম্মানিত অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিদ্যালয়টি এগিয়ে চলেছে। বারপাইখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় আমার প্রিয় বিদ্যাপীঠ। এ বিদ্যালয়ে পড়তে পেরে আমি গর্বিত।