সামরিক অভিযানে বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু

আফগানিস্তানে মার্কিন সেনাদের জবাবদিহিতার যথেষ্ট অভাব

২০১২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ভোর ৬টা। মোহাম্মদ জহির শাহ তার ল্যান্ডফোনে একটা কল পেলেন। লাঘাম প্রদেশে তার গ্রামের বাড়ির পাশের পার্বত্য এলাকায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। ২ ঘন্টা পর বোমাবর্ষণ বন্ধ হলে জহির ছুটে গেলেন মৃত আর আহতদের উদ্ধারে। বিমান হামলায় জহিরের শিশু কন্যাসহ ৭ জনের মৃত্যু ঘটে। তাদের মধ্যে ২২ বছরের অন্তঃসত্ত্বা একজন নারীও ছিলেন। মেয়েরা দল বেঁধে রাতে কাঠ সংগ্রহের জন্য বেরিয়েছিলেন। কেউ একজন মার্কিন সেনাদের জানিয়েছিলেন রাতে এই গ্রামের পথ দিয়ে জেলা তালেবান কমান্ডার যাবেন। মার্কিন বাহিনী পরে জানায় তাদের অভিযানটি ভুল ছিল। ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি দেয়া হবে। কিন্তু কাউকে শাস্তি দেয়া হয়নি। আফগানিস্তানে পরিচালিত সামরিক অভিযানগুলোতে ব্যাপকহারে বেসামরিক নাগরিকদের নিহতের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র বিস্তারিত ও স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এসব ঘটনায় বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের ব্যাপারে মার্কিন সেনাদের জবাবদিহিতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। গত সোমবার অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের প্রকাশিত রিপোর্টে এমন চিত্রই ফুটে উঠেছে। ২০০৯ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে ১০টি অভিযানের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই রিপোর্ট তৈরি করেছে। এসব সামরিক অভিযানে ১৪০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন যাদের ৫০ জন ছিল শিশু। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের একজন গবেষক হরিয়া মসাডিক বলেন, আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক অভিযানে বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের ঘটনায় জবাবদিহিতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এটা খুবই দুঃখজনক। বেশিরভাগ আফগান পরিবার জানে না সামরিক অভিযানে নিহত তাদের আত্মীয়-পরিজনরা কেন হামলার শিকার হলেন। তারা আদৌ তালেবানের সাথে জড়িত ছিল কিনা। বেশিরভাগ অভিযানের পর তদন্তকারীরা হতাহতের পরিবার কিংবা প্রত্যক্ষদর্শীর সাথে আলোচনা করে না। এ পর্যন্ত মাত্র ৬টি ঘটনায় অবৈধভাবে বেসামরিক নাগরিকদের হত্যার ঘটনায় মার্কিন সেনারা অভিযুক্ত হয়েছে।