মংলার কুমির প্রজনন কেন্দ্রে ৭১টি বাচ্চার জন্ম

সুন্দরবনের করমজল কুমির প্রজনন কেন্দ্রে জুলিয়েট ও পিলপিলের ফোটানো ডিম থেকে ৭১টি বাচ্চার জন্ম হয়েছে। বাচ্চাগুলোকে ৩৬ ঘণ্টা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখার পর মঙ্গলবার কেন্দ্রের লালন-পালন প্যানে ছেড়ে দেয়া হয়। করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ইনচার্জ ও ডেপুটি ফরেস্ট রেঞ্জার আ:রব জানান, কুমির জুলিয়েট ও পিলপিল গত ১০ মে প্রজনন কেন্দ্রের পুকুর পাড়ে যথাক্রমে ৪৪ ও ৪৮টি ডিম দেয়। পুকুর পাড় থেকে ডিমগুলো সংগ্রহ করে টানা ৮৩ দিন কেন্দ্রের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখার পর ওই ডিম থেকে রবিবার সকালে ৭১টি বাচ্চা ফুটে বের হয়। ভ্রূণের মৃত্যু ও অনিষিক্ত হওয়ার কারণে এবার ২১টি ডিম নষ্ট হয়ে গেছে। বিলুপ্ত প্রায় লবণ পানি প্রজাতির কুমিরের প্রজনন বৃদ্ধি ও লালন-পালনের জন্য ২০০২ সালে পূর্ব সুন্দরবনের করমজল (মংলা) পর্যটন কেন্দ্রে বায়োডাইভার্সিটি কনজারভেশন প্রকল্পের আওতায় ৮ একর জায়গার উপর গড়ে তোলা হয় দেশের একমাত্র সরকারি এ কুমির প্রজনন কেন্দ্র। ২০০৫ সালে রোমিও ও জুলিয়েট নামের দুটি কুমির দিয়ে এ কেন্দ্রের প্রজনন কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট কুমিরের সংখ্যা ২৫৫টি। এছাড়া বিগত বছরগুলোতে এখান থেকে ৮৪টি কুমির বনের বিভিন্ন নদী-খালে অবমুক্ত করা হয়েছে। আইলার জলোচ্ছ্বাসে এ কেন্দ্র থেকে ৬১টি কুমির ভেসে যায়। এ পর্যন্ত এ প্রজনন কেন্দ্রের কুমিরগুলো ৫৭৪টি ডিম দিয়েছে। আর তা দিয়ে বাচ্চা ফুটেছে ৩৫৬টি।