মহারাজের শেষ অধ্যায়!
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৪, ২১:৫২
কলম্বো টেস্ট শুরু আগামীকাল
১৪ আগস্ট, ১৯৪৮। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওভালে শেষবারের মত টেস্ট খেলতে নামলেন স্যার ডন ব্র্যাডম্যান। ৬৬ বছর পর ঠিক একই দিনে আরেকজন ক্রিকেট-মহানায়ক শেষবারের মত সাদা পোশাক পড়ে নামতে যাচ্ছেন।
কলম্বোতে আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাওয়া সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট দিয়েই ১৭ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারের ইতি টানতে যাচ্ছেন মাহেলা জয়াবর্ধনে। বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেট হারাতে যাচ্ছে এর ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানকে।
নিজ দেশে দ্বিপক্ষীয় টেস্ট সিরিজ তো শ্রীলঙ্কার জন্য কোনো নতুন ঘটনা নয়। এই তো ক’দিন আগেই খেলল দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। কিন্তু পাকিস্তানের বিপক্ষে এই দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজটির আগে শ্রীলঙ্কা জুড়েই পড়ে গেছে সাজ সাজ রব। মোড়ে মোড়ে টাঙানো হচ্ছে পোস্টার, বিলবোর্ড। আর এ সবকিছুই করা হচ্ছে সেই মাহেলা জয়াবর্ধনের জন্য।
সেই সাজ সাজ রবটা এখন কিছুটা বিষাদের রূপ নিতে শুরু করেছে। প্রথম দুই টেস্টের এক টেস্ট শেষ হয়ে গেছে। সেটাতে শ্রীলঙ্কা জিতে গেছে বেশ বড় ব্যবধানেই। এবার দ্বিতীয় টেস্ট জয়ের পালা। কিংবদন্তীর বিদায়টা আরও রাঙিয়ে তোলার মিশন।
দেশের মানুষতো বটেই পরিবারের সদস্যরাও থাকছেন মাহেলার পাশেই। তাদের শুভ কামনা নিয়েই শেষবারের মতো প্যাড আপ হতে যাচ্ছেন মাহেলা। বাবা শ্রীনাথ জয়াবর্ধনে কলম্বো থেকে ফোনে বলেন, ‘আশাকরি ও বিদায়ী টেস্টটা একটা শতক দিয়ে শেষ করতে পারবে। আমি গলে ওর খেলা দেখতে গিয়েছিলাম। এখানেই তো ও প্রথমবারের মত শ্রীলঙ্কার হয়ে টেস্টে ওপেন করতে নামলো। কলম্বোতেও আমরা ওর সাথে থাকবো। পাঁচটা দিনই থাকবো স্টেডিয়ামে।’
ব্যাটসম্যান জয়াবর্ধনের বিশালত্ব বোঝাতে একটা তথ্যই যথেষ্ট। ইতিহাসে মাত্র পাঁচজনকেই দেখেছে যারা টেস্ট ও ওয়ানডে — দুই ফরম্যাটেই করেছেন ১১ হাজার রান। তাদের একজন হলেন জয়াবর্ধনে। বাকিরা হলেন— শচিন টেন্ডুলকার, রিকি পন্টিং, জ্যাক ক্যালিস ও কুমার সাঙ্গাকারা।
১৪৮ টেস্ট, ৫০.০২ গড়ে রান, ৩৪টি সেঞ্চুরি; ঝলমলে ১৭টি বছর কাটানোর জন্য এর চেয়ে বেশি কিছুর দরকার পড়ে না। আর কি দানবীয় শুরুটাই না ছিল। কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ১৯৯৭ সালে যখন ব্যাট হাতে নেমেছিলেন দলের রান তখনই পৌঁছে গিয়েছিল আকাশের চূড়ায়। ৭৯০ রান! চতুর্থ উইকেট পতনের পর তিনি নেমে করেছিলেন ৬৬ রান। তাতেই ৯৫২ রানের বিশ্বরেকর্ড করে ফেলেছিল শ্রীলঙ্কা।
সেদিনের সেই ২০ বছর বয়সী তরুণের আগামীকাল থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বিদায়ী টেস্ট। প্রিয় মাঠ কলম্বোর সিংহলিজ ক্রিকেট গ্রাউন্ডেই শেষ দেখা মিলবে তার। এই মাঠে ২৬টি টেস্ট খেলে করেছেন ২৮৬৩ রান। সাথে ১১টি সেঞ্চুরি ও আটটি হাফ সেঞ্চুরি।
শেষ বেলায়ও তার দিকেই তাকিয়ে থাকবে লঙ্কান দল। তিনিই হবেন দলের মূল ভরসা, ঠিক যেমনটি ছিলেন গত দেড় যুগ। প্রিয় সতীর্থ কুমার সাঙ্গাকারা সাফ জানিয়ে দিলেন মাহেলার জায়গা সহজে পূরণ করা যাবে না, ‘শুধু আমি নই, ক্রিকেট বিশ্ব, শ্রীলঙ্কা দল ও এর সমর্থকরা ইতিহাসের সেরা ক্রিকেটারকে বিদায় জানাতে যাচ্ছেন। তার জায়গা সহজে পূরণ করা যাবে না। সব সময় ও ছিল দলের জন্য অন্তপ্রাণ একজন সদস্য। তাকে আমরা সবাই মিস করবো।’
শেষ টেস্টের একমাত্র ইনিংসে ব্র্যাডম্যান ফিরে গিয়েছিলেন কোনো রান না করেই। ভিন্ন একটা প্রেক্ষাপটে, অন্য একটা দলের বিপক্ষে, ভিন্ন এক ভেন্যুতে আরেকজন কিংবদন্তীর শেষ টেস্টেও কি তাই ঘটতে যাচ্ছে?
জয়াবর্ধনে নিশ্চয়ই তেমনটা চাইবেন না। চাইবে না ক্রিকেট বিশ্বও!