পুরান ঢাকায় হেলে পড়েছে দু’টি ভবন

রাজধানীর পুরান ঢাকার সিদ্দিক বাজার এলাকায় গতকাল মঙ্গলবার একটি ৪ তলা বাড়িসহ দু’টি ভবন হেলে পড়েছে। এই ঘটনায় ভবন দুটিতে বসবাসকারীদের সেখান থেকে নামিয়ে দিয়ে মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে ভবন দুটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে রাজউক। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার মোহাম্মদ আলী ইত্তেফাককে বলেন, গতকাল ভোরের দিকে পুরান ঢাকার বংশাল থানাধীন সিদ্দিক বাজার এলাকার ৪ তলা বিশিষ্ট ৯৯/১ নম্বর বাড়ি ও ১ তলা বিশিষ্ট ১০১/৩ নম্বর বাড়িতে ফাটল দেখা দেয়। এর পরপরই ভবন দু’টি একদিকে হেলে পড়ে। পরে পুলিশ খবর পেয়ে নিরাপত্তার স্বার্থে ভবন দু’টির বাসিন্দাদের বের করে দিয়ে মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। বংশাল থানার এসআই মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, চারতলা ভবনটির মালিকের নাম মোহাম্মদ ওয়ালিদ এবং একতলা ভবনটির মালিকের নাম দ্বীন ইসলাম। দুটি ভবনেই তালা লাগিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া ভবন দুটির আশপাশের নিরাপত্তার ব্যাপারটিও লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। এদিকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। এ ব্যাপারে রাজউকের চেয়ারম্যান জি এম জয়নাল আবেদীন ইত্তেফাককে বলেন, পুরান ঢাকায় একটি বাড়ি হেলে পড়েছে বলে আমাদের কাছে খবর এসেছে। ইতিমধ্যে রাজউক পরিচালক (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) এর নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এ ব্যাপারে রাজউকের পরিচালক (উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা ইত্তেফাককে বলেন, ভবন দুটোর গায়ে একাধিক ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। উভয় ভবনই হেলে পড়েছে। এতে পাশের ভবনটিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমতাবস্থায় ভবন দুটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে ভবনের বাসিন্দাদের ফ্ল্যাট থেকে নামিয়ে দেয়া হয়েছে। বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের দিয়ে ফাইনাল পরীক্ষার পরই ভবনটির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির পাশের রাস্তার উভয় মুখ বাঁশ দিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ওই রাস্তায় কোন যানবাহন এবং পথচারীদের চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে না। ভবনটির আশপাশে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। আজ বুধবার বুয়েটের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করবেন। তাদের মতামতের উপর ভিত্তি করেই ভবন ভাঙ্গার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্বান্ত নেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।