সিরিয়ায় আরো এক ব্রিটিশ বাংলাদেশি ‘জিহাদী’ নিহত
তবারুকুল ইসলাম, লন্ডন প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১২ আগস্ট ২০১৪, ২২:৪৮
সিরিয়ায় সুন্নী বিদ্রোহী গোষ্ঠী আইসিস-এর পক্ষে তথাকথিত ‘জিহাদ’ করতে গিয়ে আরো এক বৃটিশ বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ২৫ বছর বয়সী এই যুবকের নাম মোহাম্মদ হামিদুর রহমান। সিরিয়ান আর্মির সাথে গোলাগুলিতে ঈদের আগের দিন অর্থাত্ ২৭ জুলাই হামিদুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার। সিরিয়া থেকে হামিদুরের এক বন্ধুর পাঠানো টেক্সট ম্যাসেজের মাধ্যমে তারা এ কথা জানতে পারেন। হামিদুর ইংল্যান্ডের পোর্টস মাউথে তার পরিবারের সাথে বসবাস করতেন।
পোর্টসমাউথের এক বাসিন্দা জানান, বাংলাদেশে হামিদুরের বাড়ি সিলেটের বিশ্বনাথের মিরের চর গ্রামে। উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে বিভিন্ন বাংলা গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে যে হামিদুর ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধ করতে গিয়ে নিহত হন। যাওয়ার আগে বাবার উদ্দেশে চিরকুট লিখে যান বলেও ঐসব খবরে উল্লেখ করা হয়। এমন বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশের ঘটনায় হামিদুরের পিতা আব্দুল হান্নান উষ্মা প্রকাশ করেছেন বলে জানান ঐ বাসিন্দা।
এ নিয়ে সিরিয়ায় জিহাদ করতে গিয়ে এ পর্যন্ত ৩ জন বৃটিশ বাংলাদেশি যুবক নিহত হলেন। আর সর্বমোট নিহত হওয়া বৃটিশ নাগরিকের সংখ্যা দাঁড়াল ১৯ জনে। বৃটিশ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মতে, প্রায় ৫ শতাধিক বৃটিশ নাগরিক সিরিয়া এবং ইরাকে বিদ্রোহীদের পক্ষে লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন। সিরিয়ায় নিহত হওয়া প্রথম বাংলাদেশী এবং বৃটিশ নাগরিক ইফতেখার জামান। এরপর মাসখানেক আগে নিহত হন এডিনবরার রুহুল আমিন। আর হামিদুর রহমান সিরিয়ায় নিহত হওয়া তৃতীয় বাংলাদেশী যুবক। এছাড়া মাসুদ চৌধুরী নামে আরেক বৃটিশ বাঙালি যুবক সিরিয়ার বিদ্রোহে অংশ নিয়ে ফেরার সময় বৃটিশ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। সন্ত্রাসবাদে জড়ানোর দায়ে মাসুদ চৌধুরী বর্তমানে ব্রিটেনের জেলে বন্দি রয়েছেন। ইফতেখার জামান, মাসুদ চৌধুরী এবং হামিদুর রহমান- এরা তিনজনই পরিবারের সাথে পোর্টসমাউথে বসবাস করতেন।
হামিদুরের পিতা আব্দল হান্নানের বরাত দিয়ে স্থানীয় ইংরেজী দৈনিক ‘মেট্রো’র এক খবরে বলা হয়, হামিদুর প্রাইমার্কের শোরুমে সুপারভাইজার হিসেবে কাজ করতেন। গত নভেম্বরের দিকে সে আরো পাঁচ বন্ধুসহ তথাকথিত ‘জিহাদে’ যোগ দিতে সিরিয়ায় যান। তার সিরিয়ায় যাওয়ার ঘটনা পরিবারের কেউ জানত না। কয়েকদিন নিখোঁজ থাকার পর হামিদুর নিজেই ফোন করে তার মা-বাবাকে জানান যে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে রয়েছেন। মা-বাবাকে তার জন্য দোয়া করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, সে আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হতে চায়।