একজন ‘লুসি’

স্কারলেট জোহানস খুব অল্প বয়সেই তার ক্যারিয়ার শুরু করে নিজ দক্ষতার জোরে উঠে এসেছেন সফলতার চূড়ায়। ‘অ্যাভেঞ্জার’ খ্যাত এই অভিনেত্রী সবসময়ই ছিলেন আলোচনার শীর্ষে। কখনও ফটোশুট আবার কখনও সিনেমায় অভিনয় দিয়ে আছেন জনপ্রিয়তার সিংহাসনে। সম্প্রতি আবারও ভক্তদের মন জয় করলেন ব্যতিক্রমী সিনেমা ‘লুসি’ নিয়ে। সেই লুসির কথা জানাচ্ছেন প্রাঞ্জল সেলিম স্কারলেট জোহাসন ক্যারিয়ারের শুরুটা করেন খুব অল্প বয়সেই। ‘লস্ট ইন ট্রান্সলেশন’ ও ‘গার্ল উইথ অ্যা পার্ল ইয়ারিং’ ছবি দুটিতে বহুল-আলোচিত ও সমালোচক কর্তৃক সমাদৃত চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি ২০০৩ সালে দুটি গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পান। ‘অ্যাভেঞ্জারস-২’ ছবিতে অভিনয়ের বিনিময়ে ১৩ মিলিয়ন পাউন্ড ঝুলিতে পুরবেন ২৭ বছর বয়সী এ তারকা। আর এর মাধ্যমে বিশ্বের সব অভিনেত্রীর মধ্যে সর্বাধিক পারিশ্রমিক পাওয়ার রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন তিনি। শুরুটা খুব একটা ভালো না হলেও তিনি কিছুটা ভাগ্যের জোরে সুযোগ পেয়ে যান অ্যাভেঞ্জার সিনেমায়। ব্যস সেখান থেকেই ঘুরে যায় তার ভাগ্যের চাকা। অভিনয় দক্ষতায় স্কারলেট হঠাত্ করেই হয়ে গেলেন সকলের প্রিয়। এরপর বিভিন্ন ধরনের সিনেমার অফার আসা শুরু করে তার। কিন্তু তিনি সেসময় সিদ্ধান্ত নেন বেছে বেছে সিনেমা করার। এর ফলেই জন্ম নেয় তার আরও একটি জনপ্রিয় সিনেমা, ‘ক্যাপ্টেন আমেরিকা’। এই সিনেমায় তিনি একটি এজেন্টের ভূমিকায় অভিনয় করেন। সেখানেও সাফল্য ধরা দেয় তাকে। এরপর ভক্তদের নিরাশ হওয়ার কিংবা অপেক্ষা করার সুযোগ না দিয়ে উপহার দিলেন আরও একটি সিনেমা, ‘লুসি’। এই সিনেমাটি অন্যসব থেকে ব্যতিক্রম কারণ এটির প্রধান চরিত্র নারী। বলা যায় সুপার ওমেন হিসেবে তাকে জায়গা দেয় তার ভক্তরা। ছবিটির গল্প এগিয়ে চলে লুসি ও তার সংগ্রাম নিয়েই। তাইওয়ানের ছোট্ট এক শহর তাইপেই। লুসি ও তার মায়ের বাস সেখানে। খুব সাধারণ জীবনযাপন তাদের। কিন্তু সে সুখ খুব বেশিদিন সইল না তাদের কপালে। লুসির ওপর চোখে পড়ে সেখানকার মাফিয়া লিডারের। তারা লুসিকে প্রস্তাব দেয় তাদের সাথে কাজ করার জন্য। কাজটা খুবই সামান্য। তাদের সাথে ড্রাগ ডিলার হিসেবে কাজ করতে হবে। কারণ তার কোনো ক্রিমিনাল রেকর্ড নেই, তাই সে খুব সহজেই পুলিশের চোখ এড়িয়ে কাজটা করতে পারবে। কিন্তু লুসি তাদের প্রস্তাবে রাজি হয় না। বড় অংকের টাকার লোভ সামলে তিনি সাধারণ জীবন বেছে নেয়। কিন্তু পিছু ছাড়ে না মাফিয়ারা। এক পর্যায়ে কিডন্যাপ করা হয় লুসিকে। কিছুদিন তাদের কাছে আটকে রেখে ড্রাগ দেওয়া হয় তাকে। নতুন এই ড্রাগ মাত্রই বাজারে ছড়িয়েছে। ব্যাপারটা অনেকটা পরীক্ষামূলক ছিল তাদের জন্য। কী রিঅ্যাকশন হতে পারে সেটা কারওই জানা ছিল না। প্রথম কয়েকদিন স্বাভাবিক থাকার পর শুরু হয় প্রতিক্রিয়া। নতুন এ ড্রাগ লুসিকে উপহার দেয় বেশ কিছু পাওয়ার। এক কথায় তাকে সুপার হিউম্যান বানিয়ে দেয়। শক্তি, বুদ্ধি, দক্ষতা সব বেড়ে যায় বহুগুণে। এরপর লুসি শুরু করে এই ড্রাগের সমস্ত ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার মিশন। এভাবেই এগিয়ে চলে ‘লুসি’ সিনেমার গল্প। এখন সিনেমা এগিয়ে যাচ্ছে ব্লকবাস্টার হিটের পথে।