রাঙামাটিতে গিরিকন্যা নম্রতার নৃত্যানুষ্ঠান

মিষ্টি মেয়ে গিরিকন্যা নম্রতা তঞ্চঙ্গ্যা রাঙামাটির অন্যতম জনপ্রিয় শিশু শিল্পী। এই শিশু শিল্পী সম্প্রতি জাপানে নান্দনিক নৃত্য প্রদর্শন করে বাংলাদেশের সংস্কৃতি তুলে ধরেছিল। পাহাড়, নদী, লেক ও পাহাড়ের বৈচিত্র্যে প্রকৃতির কোলে বেড়ে উঠা এই শিল্পী বেসরকারি টেলিভিশন আরটিভি রিয়েলিটি শো ‘ডেটল সেরা আমি, সঙ্গে মা সিজন-২’-এর দ্বিতীয় রানার আপ। ২৬তম এশিয়ান প্যাসিফিক চিলড্রেন কনভেনশন-২০১৪ ইন ফুকুওয়াকা জাপানে নম্রতার দলীয় নৃত্যে ফুটে উঠেছিল বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও এর বৈচিত্র্য। সেই সময়ে নম্রতা ও তার সঙ্গীদের অংশগ্রহণকৃত বাংলার লোক সংগীতের নৃত্যের ছন্দ ও সুরের মুর্ছনায় বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আসা দর্শকদের হূদয় মনে এনে দিয়েছিল আনন্দের বন্যা। তখন বিশ্বের ৪৫টি দেশের শিশুদের সঙ্গে বাংলাদেশের ৬ সদস্যবিশিষ্ট শিশু শিল্পীর দলে অন্তর্ভুক্ত ছিল নম্রতা। গত ১০ জুলাই থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত ১৫ দিনের জাপান ভ্রমণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন ভাষাভাষী শিশুদের সাথে সংস্কৃতির ভাব বিনিময় করে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির সেতুবন্ধন স্থাপন করেছিল বাংলাদেশের শিশুরা। এই ভ্রমণ সম্পর্কে নম্রতা জানায় বিমানে জাপান পৌঁছার পর সব দেশের শিশুদের থাকতে হয়েছিল মেরিন হাউসে। সমুদ্রের পাড়ে ওখানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিশুদের সঙ্গে অবস্থান করে প্লে হাউসে খেলাধুলা করে ভাব বিনিময় ও স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নেওয়া তা এক অনন্য অনুভূতি। পরে জাপানের ৫৮ বছর বয়স্ক স্কুল শিক্ষক তাকাহারু শিবাথার বাড়িতে হোস্ট ফ্যামিলি হিসেবে তাকে থাকতে হয়েছিল। ওই পরিবারটির সকল সদস্যের কাছ থেকে বাবা, মা ও বোনের পরম স্নেহ পেয়েছিল সে। স্বল্প সময়ে তাদের কাছ থেকে পাওয়া আদর, আপ্যায়ন ও পরম মমতা সে কিছুতেই ভুলতে পারছে না। নম্রতা ওই হোস্ট ফ্যামিলির বোনদের সঙ্গে ৩ দিন জাপানের স্কুলে গিয়ে ক্লাস করেছিল। সে পরিবারটির সদস্যদের সঙ্গে গিয়ে মেরিন হাউজের পাশে ডলফিন শো দেখে খুবই আনন্দ পাবার কথা জানায়। এছাড়া জাহাজের পার্ক ও ওখানকার পাহাড় দেখার কথাও জানায় সে। জাপানে ১১ দিন থাকার পর জুনিয়র হাকাটা সিটিতে ২১ জুলাই দিনব্যাপী বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে দলীয় বাংলাদেশী লোকনৃত্যে চমত্কার পারফর্ম করেছিল সে। ‘টাকডুম টাকডুম বাংলাদেশের ঢোল সব ভুলে যায় বাংলা মায়ের কোল’, ‘ছোট বড় সকলের সালাম জানাই সাপ খেলানো জাতের পেশা সাপ খেলা দেখায় গো’, ‘সাধের লাউ বানাইলো মোরে বৈরাগী’, ‘নাও ছাড়িয়া দে পাল উড়াইয়া দে’, ‘একটি বাংলাদেশ তুমি জাগ্রত জনতা’ এই ৫টি গানের সুর ও ছন্দে দলীয় নৃত্য করেছিল নম্রতা। তখন নম্রতার পারফর্মে দর্শক হয়েছিল অভিভূত। এমনকি বাংলাদেশি শিশু শিল্পীদের নৃত্য শেষ হলে দর্শকের করতালি নম্রতাদের করেছিল অভিনন্দিত। রাঙামাটির বিলাইছড়ি উপজেলাধীন কুতুবদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী নম্রতা তঞ্চঙ্গ্যা। তার বাবা প্রধান শিক্ষক রঞ্জন তঞ্চঙ্গ্যা উজ্জ্বল ও মা মনীষা দেওয়ান উভয়ই ওই স্কুলে কর্মরত। মা-বাবার উত্সাহে নৃত্য শিক্ষিকার দ্বারা প্রতি সপ্তাহে নিয়মিত নৃত্য শেখায় এখন বেশ সফল শিশু শিল্পী হিসেবে সে পরিচিতি পেয়েছে। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক গান ‘নাতিন বরই খা’ এই গানটির সুর ও ছন্দে বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গিতে নৃত্য প্রদর্শন করে বিভিন্ন মহলে সে বেশ প্রশংসা অর্জন করে। চাকমা গানের জুমনৃত্য, বিজু নৃত্য ও বিভিন্ন লোক নৃত্য সে চমত্কার পারফর্ম করে। সে উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে অ্যাওয়ার্ড লাভ করে। ভবিষ্যতে সে নিত্য বিষয়ে পড়ালেখা করার পাশাপাশি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হবার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে। আরটিভি রিয়েলিটি শোয়ের রানার আপ হিসেবে মা-বাবার সঙ্গে ডিসেম্বর মাসে এই শিশু শিল্পীর ভারত ভ্রমণের কর্মসূচি রয়েছে।