১৬ বছর তালা বদ্ধ কাঁচেরকোল পাবলিক লাইব্রেরি
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৪, ২১:৪৫
ব্রিটিশ আমলে প্রতিষ্ঠিত ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কাঁচেরকোল এম এন খান পাবলিক লাইব্রেরি স্থানীয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে ১৬ বছর ধরে তালা ঝুলছে।
কাঁচেরকোলের জমিদার খান বাহাদুর কাজী সরোয়ার উদ্দিন ও ডাক্তার হাবিবুর রহমান ১৯৩৬ সালে একটি পাবলিক লাইব্রেরি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন। কচুয়া বাজারে প্রথমে টিনের ঘরে ক্ষুদ্র পরিসরে লাইব্রেরির কাজ শুরু করেন। তখন কলকাতা থেকে খবরের কাগজ আসত গ্রামের এ লাইব্রেরিতে। বইও সংগ্রহ হতে থাকে। ১৯৪২ সালে লাইব্রেরির জন্য পাকা ভবন নির্মাণ করা হয়।
তত্কালীন যশোর জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এমএন খান লাইব্রেরি ভবন নির্মাণে সহায়তা করেন। তিনি এ লাইব্রেরি ভবন উদ্বোধন করেন। নামকরণ করা হয় কাঁচেরকোল এমএন খান পাবলিক লাইব্রেরি ও ভিলেজ হল। বাড়তে থাকে লাইব্রেরির কলেবর। অনেক দুষ্প্রাপ্য বইতে ভরে উঠে লাইব্রেরি। সাথে সাথে পাঠকও বাড়তে থাকে।
এক সময় এ লাইব্রেরির নাম ছড়িয়ে পড়ে। সে যুগে লাইব্রেরিতে রেডিও আসে। সন্ধ্যায় খবর শুনতে লোক ভিড় করত লাইব্রেরিতে। বই ও খবরের কাগজ পড়তে এবং রেডিও’র খবর শুনতে ৫-৭ মাইল দূর থেকে লোক আসত।
ছাত্ররা বই পড়তে আসত। লাইব্রেরি ছিল জমজমাট। জমিদার বাড়ির ছেলে মলি মিয়া লাইব্রেরিকে আঁকড়ে ছিলেন। তার মৃত্যুর পর লাইব্রেরি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ১৯৯৮ সালে লাইব্রেরির দরজায় তালা পড়ে। নষ্ট হয়ে যায় মূল্যবান বই ও আসবাবপত্র। অনেক বই উইপোকায় খেয়ে নষ্ট করেছে। ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। দেয়ালে গাছ গজিয়েছে। স্কুল-কলেজের ছাত্র ও বিদগ্ধজনেরা লাইব্রেরি চালুর দাবি করে আসছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন জোয়ার্দ্দার মামুন বলেন, তিনি লাইব্রেরি চালু করার জন্য চেষ্টা করছেন।
শৈলকুপা ইউএনও মোহম্মদ আলি প্রিন্স জানান, ঐতিহ্যবাহী লাইব্রেরি চালু করার ব্যবস্থা নেয়া হবে।