রাধা রানীর বিচারের রায় ১৩ বছরেও বাস্তবায়ন হয়নি
প্রকাশ : ১৩ আগস্ট ২০১৪, ২১:৫০
ঠাকুরগাঁওয়ের আলোচিত ধর্ষণ ও চোখ উত্পাটনের ঘটনার শিকার রাধা রানীর চিলারং গ্রামের বাড়িতে গিয়ে গত রবিবার খোঁজ-খবর নিলেন জেলা প্রশাসক মুকেশ চন্দ্র বিশ্বাস। তবে ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও আজও আদালতের রায়ের পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি। আসামি ধরা পড়েছে ঠিকই কিন্তু তাদের মালামাল ক্রোক করে রাধা রানীকে প্রদানের আদেশটি পালিত হয়নি।
২০০৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর রাধা রানীকে বাড়ির পাশে বাঁশবাগানে এলাকার প্রভাবশালী জমির উদ্দিনের ছেলে রফিকুল ইসলাম ও মো. বশির কমান্ডারের ছেলে ইউসুফ আলী চোখে কাপড়, মুখ ও হাত বেঁধে ধর্ষণ করে। ধর্ষকরা তার দু’চোখ উপড়ে ফেলে এবং গলাটিপে ধরে। মৃত ভেবে তারা সেখানে রেখে পালিয়ে যায়। রাধা রানীর স্বামী মলয় সাহা স্ত্রী খুঁজে পেয়ে হাসপাতালে নেয়। বর্তমানে তিনি সুস্থ, তবে পৃথিবীর আলো থেকে বঞ্চিত।
এ ঘটনার পরদিন অর্থাত্ একই সালের ১২ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মো. রফিকুল ইসলাম ও অজ্ঞাতনামা দুইজনের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন রাধা রানীর স্বামী মলিন সাহা।
রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ২০০৫ সালের ১০ নভেম্বর এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। এতে রফিকুল ইসলাম ও ইউসুফ আলীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সঙ্গে জরিমানা করা হয়। ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও মামলার রায় অনুযায়ী রাধা রানীকে কোন আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হয়নি।
জেলা প্রশাসক ব্যক্তিগত উদ্যোগে রাধা রানীকে আর্থিক সহযোগিতা করেন এবং সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জরুরিভিত্তিতে রাধা রানীর জন্য প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করতে বলেন। এছাড়াও জেলা প্রশাসক রাধা রানীর স্বামী মলিন সাহাকে স্থানীয় বাজারে একটি দোকান ঘর তুলে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সেই সঙ্গে তার পরিবারকে গরু ও ছাগল ক্রয়ের জন্য সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
এ সময় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম আযম, জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মনসুর আলী, বাংলানিউজের রোভিং করেসপন্ডেন্ট মাহাবুর আলম সোহাগ, সাংবাদিক আব্দুল লতিফ লিটু ও স্থানীয় সাংবাদিক রবিউল এহসান রিপন উপস্থিত ছিলেন।