‘পাছে লোকে কিছু বলে’ এ কথা পরিহার করে এগিয়ে যেতে হবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার মান নিয়ে সংশয়বাদীদের সমালোচনার জবাব দিয়ে বলেছেন, ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ একথা চিন্তা করলে কোন কাজই সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে না। তিনি বলেন, সমালোচনা ছাড়া কেউ কোন ভাল কাজ করতে পারে না এবং এজন্য আমি শিক্ষামন্ত্রীকে বলতে চাই যে ‘পাছে লোকে কিছু বলে’ একথা পরিহার করে এগিয়ে যান। গতকাল বুধবার সকালে গণভবনে চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল গ্রহণকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ ও ১০ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানগণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর হাতে পরীক্ষার ফলাফল তুলে দেন। শিক্ষা সচিব ড. মোহাম্মাদ সাদিক এ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আব্দুস সোবহান সিকদার ও প্রেস সচিব এ কে এম শামিম চৌধুরী। শেখ হাসিনা বলেন, সমাজে এমন কিছু মানুষ আছে ‘ভাল হোক মন্দ হোক’ সব কাজেই তারা পরশ্রীকাতর। তিনি বলেন, কে কি বললো এ নিয়ে দু:চিন্তার কোন কারণ নেই-আমাদের প্রধান কাজ হচ্ছে শিক্ষার আলো সর্বত্র পৌঁছে দেয়া। তার সরকারের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে— একথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ভাল করেই জানি আমাদের কি করতে হবে এবং কিভাবে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে-জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের সে পথ দেখিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার ক্ষেত্রে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং এটি এখন দৃশ্যমান। শিক্ষার মানও স্বাভাবিক নিয়মে বাড়ছে। তবে কোন কিছুই রাতারাতি পরিবর্তন হয় না। যারা কাজ করে তাদের সমালোচনা হবে। কিন্তু যারা কাজ করে না, তাদের সমালোচনা করার কিছুই নেই। তিনি বঙ্গবন্ধুর বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, যে গাছ ফল দেয় সে গাছেই ঢিল পড়ে। এ প্রসঙ্গে শিক্ষাখাতের উন্নয়নে তার সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ শেখ হাসিনা বলেন, আমরা অন্ধকার যুগ থেকে দেশকে আলোর দিকে নিচ্ছি এবং এই আলো হচ্ছে শিক্ষার আলো। কোন জাতিই শিক্ষা ছাড়া উন্নতি করতে পারে না। আমরা দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই- এ লক্ষ্য অর্জনের মূল চাবিকাঠি হচ্ছে শিক্ষা একথা উল্লেখ শেখ হাসিনা বলেন, নতুন শিক্ষানীতিতে তথ্য-প্রযুক্তি এবং বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে অধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এবং অষ্টম শ্রেণী থেকে বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রদানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম চালু করেছে। গ্রাম পর্যায়ে ইন্টারনেট সুবিধা প্রদানে শিক্ষার্থীদেরকে স্বল্পমূল্যে কম্পিউটার দেয়া হয়েছে। অদূর ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা বইয়ের বোঝা বহন করার পরিবর্তে নেট বুক ব্যবহার করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতকার্য ছাত্র-ছাত্রীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে সফলতা অর্জনের জন্য তোমাদেরকে আরো কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। পরে প্রধানমন্ত্রী কম্পিউটার বোতাম টিপে অন-লাইনে দশটি বোর্ডের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দিনাজপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এবং তিনজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেন।