গল্প

হীরক জোনাকে পলায়ন

পুরুষের প্রেম ছদ্মবেশী সম্ভোগ মাত্র। নারীর সাম্রাজ্য তার প্রেম। এমনি বিশ্বাস অর্জন করতে ওকে চব্বিশটি শরত্কাল অতিক্রম করতে হয়। শরত্ জোছনায় সে গ্রামের বাড়িতে রাতের নির্জন জোনাকে ঘেসো মাঠে একাকী হেঁটেছে দিগম্বর পায়ে। শিশিরভেজা ঠাণ্ডা ঘাসকে মনে হতো নদীতীরের ডুবন্ত জলজ উদ্ভিদ। অনতিদূরে দেখতে পেত অতিপ্রাকৃত ছায়া। চলন্ত ছায়া। এমন একজন মানুষের ছায়া যার শরীর দৃশ্যমান নয়। আসলে সেই ছায়া ছিল ওর ভ্রান্তিবিলাস। এমন ছায়াদের সে শহরের বাড়ির ছাদেও দেখেছে চৈতালি জোছনা রাতে। বুঝতে পারত পুরুষ নির্বাচনের কাল সমাগত। এ সবই তার ইঙ্গিত মাত্র।

মেয়েটির প্রকৃত নাম গোপন রেখে আমরা একটি কাল্পনিক নাম রাখতে পারি, হোমায়রা। শহরের ফ্যামেনিস্টগণ ওকে চেনে। নারীবাদী আন্দোলনে হোমায়রা মিছিলে হাঁটে। অসাধারণ কোনো নারী নয় সে। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষিত মেয়ে। মুশকিলটা হলো এই যে, নারীদের নিয়ে তার স্বপ্ন আর বাস্তববিশ্বের সঙ্গে কোনো মিলই খুঁজে পায় না। গবেষণা বই থেকে গোগল পর্যন্ত ছুটে সে যা বুঝতে পেরেছে, নারীমুক্তি বা মুক্তনারী আসলে একটি ইউটোপিয়া বা কল্পরাজ্য। তারপরেও তার বিশ্বাস নারীরা পুরুষতান্ত্রিকতার শেকল ভাঙবেই।

পুরুষ সম্পর্কে শুরুর অভিজ্ঞতার ফল হচ্ছে কৌতূহল। পরিবার থেকে শুরু। পিতা হোক বা বড় ভাই হোক, মনে হতো ওরা শাসক এবং সে শাসিত। অনেকটা রাজা-প্রজার সম্পর্কের মতো। একসময় সে পরিবারের পুরুষদের—সম্রাটের ছায়াই ভাবতে থাকে এবং মা-বোনসহ নারীদের ভাবত অনুগত দাসীদের গুপ্তগৃহ। সেই গৃহে প্রবেশের একটি মাত্র দুয়ার, বেরোবার বিকল্প দুয়ার নেই। একটিও জানালা নেই। আছে কেবল একটি ক্ষুদ্র ভেন্টিলেটর, যার দার্শনিক অর্থ হচ্ছে পারিবারিক সম্পর্ক।

তার চব্বিশ বছর বয়সের জীবনে মোট চার জন পুরুষ এসেছে। পঞ্চমজন প্রাচীন মহাকাব্য মহাভারতের পঞ্চপাণ্ডবের মতোই একজন যুবক অর্থাত্ তার পদবি হচ্ছে স্বামী। অতিরিক্ত পদবিও আছে। সে তার পাঁচ মাস বয়সের শিশুকন্যার জিনবাহী জন্মদাতা। কন্যার এই জন্মরহস্য তার কাছে দ্বান্দ্বিক। একদিকে মাতৃত্ব, অন্যদিকে জীববিজ্ঞানের প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম রক্ষার জেনিটিক্স বৈশিষ্ট্য মাত্র। এর বাইরেও বাঙালি সনাতনী মাতৃত্ব নিয়েও ভেবেছে হোমায়রা। কিন্তু সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি।

আমরা যারা হোমায়রার বিবাহপূর্ব চার পুরুষ সম্পর্কে অনুসন্ধান করেছি তাদের গবেষণায় ঐক্য নেই। একটি জায়গায়ই মিল আছে, তা হচ্ছে জৈব তাড়না। মানবদেহে হরমোন বিক্রিয়া। আমরা কেউ মনোবিজ্ঞানী নই। হোমায়রার চার প্রাক্তন বন্ধুর মনঃসমীক্ষা করিনি। আমাদের জ্ঞানের সীমানা সিগমুন্ড ফ্রয়েড। তাও ভাসা ভাসা। হোমায়রার আলাপচারিতার বিচ্ছিন্ন খণ্ডাংশগুলো জোড়া লাগালে জিন ম্যাপিং-এর মতো একটি স্পষ্ট চিত্র মেলে। ওটাই আমাদের ভরসা।

ভালোবাসার নামে আত্মহত্যার হুমকি দিয়ে সম্ভোগ, বুকে ব্লেডের খোঁচায় রক্ত বের করে আত্মত্যাগের প্রমাণ দিয়ে দেহমিলন, শীতের অকালবর্ষণের মতো চোখের পানিতে ফ্র্যান্সকাট দাড়ি ভিজিয়ে হিংস  নরখাদক কুমিরের মতো নারীশরীর গিলে ফেলা, কিংবা আমরণ অনশনে বসে নারীমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে বন্য কুকুরের খরগোশের মাংস ছিঁড়ে খাওয়ার মতো... পরপর চার যুবক ছদ্মবেশী প্রেমিক সেজেছিল মেয়েটার।

অবিশ্বাস, ঘৃণা, পুরুষ-বিদ্বেষের জটিল এক দুনিয়ায় পা বাড়াতে গিয়েও অনেক চেষ্টায় নিজেকে রক্ষা করে হোমায়রা। কিন্তু নিজেকে অসুখী ভাবার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মেলে না তার। মনের এই বিবর্তন প্রথমে ধরা পড়ে বাবা-মায়ের কাছে, শেষটায় বেসরকারি সংস্থার সহকর্মীদের কছে। তারা ওর ভেতর অসহিষ্ণুতার গন্ধ পায়। খানিকটা বিষণ্নতারও। কিন্তু এই সময়টাই কেমন গোলমেলে। কাউকে নিয়ে ভাববার সময় নেই। ব্যক্তিগত সমস্যা নিয়েই সবাই ব্যাকুল। এটাও তো মিথ্যে নয় যে, আমৃত্যু ব্যক্তিগত সমস্যা থেকে কেউ বেরিয়ে আসতে পারে না। মানুষগুলোকে স্বার্থপর মনে হলেও ওরা আসলে সময়েরই অসহায় দাস মাত্র।

পুরাতন বন্ধুদের বিসর্জন কিছুদিন হোমায়রাকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও একসময় নিঃসঙ্গ করে দেয়। একদিন আচমকা মাকে জিজ্ঞেস করে, ‘ও আম্মা, আমি কি খুব একা?’

এমনিতে মা মেয়েকে নিয়ে আতঙ্কিত, তার ওপর আচমকা এমনি প্রশ্ন তার মনে ধাক্কা লাগে। তার বিশ্বাস মেয়ে একরোখা কিন্তু অবাধ্য নয়। বিয়ের ব্যাপারে একটাই উত্তর, সময় হলে জানাবে। তাই একাকীত্বের প্রশ্নে মা মেয়েকে উক্তর করেন, ‘একি বলছিস? আমরা আছি না?’

হোমায়রা জানে মায়ের এমনি উত্তরে তার প্রশ্নের মীমাংসা হয়নি। মা-বাবা-ভাই-বোন নিয়ে যে ভরা সংসার তা সামাজিক। তার একাকীত্বটা যে মনঃস্তাত্ত্বিক। লক্ষ জনতার কোলাহলের ভেতর বিশাল শূন্যতা। নগর জনতার চোখে সে কেবলই দেখে অবিশ্বাস আর স্বার্থপরতা। এমন একটা নদী সে খোঁজে যার জলস্তর গভীর কিন্তু কাকচক্ষু স্বচ্ছ। তলদেশের শায়িত বালিও গোনা যায়। এটা সে জানে না, পুরাতন পৃথিবীর মানব প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটে গেছে, যেখানে পৌরাণিক যুগের কিংবা লোককাহিনির পুরুষেরা বিরাজ করত। নতুন এই পৃথিবীর পুরুষের চোখে কাব্যিক সৌন্দর্য নেই, আছে কেবল ভোগের আগুন, আত্মসুখের হীনতা। মানুষ প্রজাতির হলেও ওরা ছদ্মবেশী প্রাণীমাত্র।

দৈব বলে কোনোকিছুর বিশ্বাসী নয় হোমায়রা। অথচ ঘটল তা-ই। গোগল তাকে সামনে এনে দাঁড় করায় এক যুবকের। প্রথম দর্শনেই মনে হয়েছিল অন্যগ্রহ থেকে এই পুরুষের আগমন ঘটেছে পৃথিবীতে। করপোরেট সেক্টরের কর্মী যুবক। সরকারি কর্মীর মতো পোশাকে-আশাকে চেহারা-সুরতে আনস্মার্ট নয়, একেবারেই পশ্চিমদুনিয়ার যুবক যেন। মুগ্ধতা ফেনিয়ে ওঠে। নৈকট্য লাভের আবেগ মনের ভেতর জোয়ার আনে। জোয়ারটা ভূকম্পনে সৃষ্ট জলস্ফীতির মতো। ওখানে জলের পরিমাপ পরিমাণ হিসাব খাটে না। জলাধারের তলানির সামান্য জলও পাড় উপচে পড়তে পারে।

মাত্র ক’দিনের একান্ত আলাপচারিতায় হোমায়রার ধারণা জন্মে যে, এ ধরনের পুরুষের পৃথিবী থাকে দ্বৈত। এক পৃথিবীতে থাকে কামসত্তা, অন্যটিতে প্রেমসত্তা। মাঝখানে উঁচু দেয়াল। অথচ সাধারণ পুরুষের এই দুই সত্তা এক খোলসের ডিমের ভেতর জোড়া কুসুমের মতো নয়। তাই হোমায়রা নবাগত যুবকের প্রতি কৌতূহলী হয়ে ওঠে। বাইরে নয়, বরং তার ভেতরটা আবিষ্কার করতে চায়। পুরুষ সম্পর্কে তার ধারণাকে পাল্টাতে চায়। দ্বিধা আর সন্দেহমুক্ত হতে চায়। নারীর বেলা এই পরীক্ষাটা জটিল। এতে পরীক্ষায় সফলতা বা বিফলতা যা-ই ঘটুক, নারীকে শরীর-মন দুটোই খরচ করতে হয়।

 এমন একটা সময় আসে, হোমায়রার মনে হয় এই যুবক তার প্রাক্তন প্রেমিকদের মতো নয়। কামের চেয়ে প্রেমই তার কাছে প্রধান। এটাও প্রতিজ্ঞা করে, বিবাহপূর্ব কোনো সম্পর্কেই যাবে না সে। অনেকটা প্রাচীন প্রেমের মতো। কিন্তু বিবাহের রাতে হোমায়রার মনে প্রশ্ন জাগে, সে-ও কি তাদেরই মতো? কিন্তু এমন চিন্তা থেকে দ্রুতই মুক্ত হয় সে। তবু এই চিন্তাটা বারবার তার কাছে ফিরে আসে। সবকিছুকে চাপা দিয়ে সে সুখী হতে চায়। সুখী হবার ইচ্ছাটা আকাশ সমান উঁচু হয়ে তাকে চঞ্চল করে তোলে। আসলে সে বুঝতে পারে না মনের এই অবস্থা তাকে জটিল এক দুনিয়ার দিকে টেনে নিচ্ছে। ইচ্ছায় কি অনিচ্ছায় একসময় সে বুঝতে পারে গর্ভে তার সন্তান এসেছে। সন্তানের এই আগমন একসময় তাকে পরম সুখের স্পর্শ দিয়ে গেলেও কোনো কোনো সময় বিষণ্নও করে তোলে।

একদিন, ঠিক তার গর্ভধারণের পঞ্চম মাসে এসে এতদিনের স্বামী নামক দুর্বোধ্য যুবক শিশুদের সহজ পাঠের বই হয়ে যায়। সে বুঝতে পারে পৃথিবীর সমস্ত পুরুষেরই প্রজাতিঐক্য আছে একটি স্থানে, তা হচ্ছে সম্ভোগ আর স্বার্থপরতা। কারো প্রকাশ্য কারো গোপন।

কোনো মনের চিকিত্সকের কাছে নয় বরং ওরা স্বামী-স্ত্রী নিজেরাই কাউন্সেলিংয়ে বসে। সেখানে প্রশ্নের ছড়াছড়ি। বিবাহ কি নারী-পুরুষের সামাজিক চুক্তি? এটা কি জৈবতাড়না মাত্র? স্ত্রীর গর্ভধারণ কি স্বামীর জন্য আনন্দ সংবাদ? না কি জৈবতাড়নার প্রতিবন্ধক?

দীর্ঘ আলোচনার পর হোমায়রা বুঝতে পারে, স্বামীর সঙ্গে তার যে দ্বন্দ্ব চলছে বা সৃষ্টি হয়েছে তা কর্তৃত্বের। স্বামীটি আধিপত্যবাদী। সে যে চাকরিজীবী নারী এবং স্বাধীনতার স্পৃহা পোষণ করে তা সে মানতে রাজি নয়। যুক্তিতে হেরে গিয়ে মেনেও নেয়। কিন্তু তা ক্ষণস্থায়ী। ঠিক তখনই সে স্পষ্ট করে বলে, ‘যা তোমার রক্তে নেই, বংশে নেই, সেই জিনিস, মানবে কেন তুমি, আমিও যে তোমার সমকক্ষ।’

‘তোমার বিশ্বাসটাই মিথ্যা, চারপাশে তাকিয়ে দেখ, সত্যি তুমি একা হয়ে যাচ্ছ?’ স্বামীর এমন উত্তরে বিস্মিত হয়ে যায় হোমায়রা। আচমকা সামনে সে ভৌতিক ছায়া দেখে। এই প্রথম সে স্বামীকে ভয় পায়। তার বিশ্বাসের গাছটা যেন মূলসমেত কাত হয়ে পড়ে। গর্ভধারণ, মাতৃত্ব, স্বামী, স্ত্রী, সন্তানের অফুরন্ত সুখের কল্পনাটা তার কাছে একেবারেই নকল বলে মনে হয়।

একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দিয়ে ক্লিনিকের ব্যাডে শুয়ে গর্ভধারণ থেকে আজ পর্যন্ত তার প্রতি স্বামীর আচরণের প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব কষতে বসে। কোন কোন ক্ষেত্রে কখন স্বামী কর্তৃক সে মানসিক নির্যাতন আর অসম্মানের হাতে পড়েছে তার হিসাব মেলাতে থাকে। হোমায়রার মনে হয় মাতৃত্ব কেবল নারীর আনন্দ আর সম্মানেরই নয়; কোনো কোনো সময় বোঝাও হয়ে দাঁড়ায়। বোঝাটা তখনই হয় যখন স্বামী নামক পুরুষটি কন্যাসন্তানের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে চায় এবং স্ত্রীর উপার্জনের দিকে হাত বাড়ায়। কন্যা জন্মের মাত্র ত্রিশ ঘণ্টার ভেতর ক্লিনিকে সোজা ঢুকে জন্মদাতা পুরুষটি যখন বিজ্ঞানের ভুলভাল ব্যাখ্যা দিয়ে পুত্রের বদলে কন্যা জন্মের দায় হোমায়রার ওপর চাপিয়ে দেয়, বিস্ময়ের অন্ত থাকে না ওর।

কন্যা জন্মের পঞ্চম মাসের নাগরিক জোনাক পক্ষ ঘনিয়ে আসে। রাতের বিছানায় অহেতুক স্বামী-স্ত্রীর তর্কযুক্ত শুরু হয়। একপর্যায়ে হোমায়রা স্পষ্ট জানিয়ে দেয় বিবাহ বিচ্ছেদের বিষয়টি। আর ঠিক তখনই স্বামী ওকে দশমবারের মতো গায়ে হাত তোলে। একপর্যায়ে ছুটে বেরিয়ে গিয়ে ড্রয়িংরুমে শুয়ে পড়ে। মা আর মেয়ের কান্না একসময় থেমে যায়। মেয়েকে স্তনের দুধ পান করাতে করাতে খোলা জানালায় বাইরের নাগরিক জোনাক দেখে হোমায়রা। আকাশের চাঁদকে সে দেখতে পায় না।

মেয়েকে ঘুমিয়ে দেওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয় তার। বিছানায় হাত-পা নেড়ে খেলা করছে সে। জানালার পাশে দাঁড়ায় হোমায়রা। দূর আকাশে একটি বিমান জোনাকির আলো ফেলে... জোনাক ভেঙে উড়ে যায়। রাতের গভীরতা দীর্ঘ হয়। জানালার লোহার গ্রিলের ওপারে মুক্তি আর প্রশান্তি কি ওর জন্য অপেক্ষা করছে? কিন্তু লৌহকবাট ডিঙিয়ে ওখানে কি পৌঁছা যায়? তার বিশ্বাস জীবনের কাছে, পৃথিবীর কাছে তার আর কিছু দেনা-পাওনা নেই। সব ফুরিয়ে গেছে। অথচ মাত্র ২৫/২৬ বছর বয়সের জীবনকে অতিদীর্ঘ মনে হয়। জীবন এত দীর্ঘ হলে তার বোঝা টানা অসম্ভব। এত ক্লান্তি, এত অবসাদ আর সহ্য হয় না।

মুক্তি, মুক্তি চাই। বাইরের হীরক জোনাক হোমায়রাকে ডাকে। ভিজবে, নিশ্চয়ই ভিজে ভিজে শূন্য আসমানে পা রেখে ছুটবে হোমায়রা। ওই যে আকাশের শেষ সীমানা। আকাশের কি শেষ আছে? হয়তো আছে, আবার না থাকতেও পারে। বিছানার ওপর প্লাস্টিকের চেয়ার। তার ওপর সিলিং ফ্যান। হোমায়রার কণ্ঠনালী আর ফ্যানের সংযোগস্থলে একটি শাড়ি। বিছানায় হাত-পা নাড়ছে আর নিঃশব্দ হাসছে শিশুকন্যা। মায়ের দিকে তাকিয়ে আছে। হোমায়রার বিশ্বাস মেয়ে তাকে বিদ্রূপ করছে। পিতার সঙ্গে সঙ্গে কন্যাও তার সঙ্গে বৈরিতায় নেমে পড়েছে। না হলে এত হাসি কেন? ঠিক তখনই বিছানায় কাত হয়ে পড়ে চেয়ারটা। শূন্যে ঝুলে পড়ে হোমায়রা। আকাশের হীরক জোনাকে ছুটতে ছুটতে ওই দূর মহাশূন্যে অদৃশ্য হয়ে যায় সে। v