আত্মবিশ্বাসী আল আমিন

উপমহাদেশের উইকেট এমনিতেই স্পিনবান্ধব। যেখানে সাধারণত পেসারদের জন্য কোন সহায়তা থাকে না। বাংলাদেশে এই ব্যাপারটা উপমহাদেশের বাকি দেশগুলোর চেয়ে একটু বেশি সত্যি। যার ফলে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে ব্যাটসম্যান এবং স্পিনাররা নিজেদেরকে যে চড়া মূল্যে বিক্রি করতে পারেন, সেভাবে দাম পান না পেসাররা। ঠিক এই কারণেই এই দেশে পেসার হওয়ার স্বপ্ন দেখাও কঠিন। আজ পাঁচ বছর আগে আল আমিন যখন পেসার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছিলেন, তখন তার মা তাকে বলেছেন, ঠিক আছে তুমি ক্রিকেট খেলো; তবে পড়াশুনাটা ছেড়ো না। কারণ, আরও অনেক বাবা-মায়ের মতো আল আমিনের মায়েরও চিন্তা ছিল, শুধু ক্রিকেট খেলে ছেলের ভবিষ্যত্ নিশ্চিত করা সম্ভব না। মায়ের কথা মতো আল আমিন ক্রিকেটের পাশাপাশি পড়াশুনাটাও চালিয়ে যান। ঝিনাইদহের এই ছেলেটি এখন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জনপ্রশাসন বিভাগের অনার্স চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। পড়াশুনার পাশাপাশি পেস বোলিংয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য নিয়মিত সংগ্রাম চালিয়ে যান আল আমিন। বছর কয়েক পড়াশুনার পাশাপাশি ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যেতে তার সংগ্রামটা কেমন কেটেছে জানতে চাইলে আল আমিন বলেন, ‘আসলে আমার মা বলেছেন, খেলার পাশাপাশি পড়াশোনাটাও চালাতে হবে। অনার্সের প্রথম চারটা বছর আমি এভাবেই কাটিয়েছি। গত বছর আমি ঢাকা লিগে মোহামেডান-আবাহনীর ম্যাচের পরদিনই আমার পরীক্ষা ছিল। খেলা শেষে ঐদিন রাতেই আমি রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছি।’ বোঝাই যাচ্ছে এই জীবনটা তার কম সংগ্রামের নয়। কিভাবে ক্রিকেটার হয়ে ওঠা এ প্রসঙ্গে আল আমিন জানান, ‘ঝিনাইদহ স্টেডিয়ামে অনূর্ধ্ব-১৫ দলের একটা ট্রায়াল চলছিল। আমি সেখানে অংশ নিয়েছিলাম। প্রথম উইকেটটাই ছিল ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করে ফেরানো। ক্রিকেট বলে আমার সেই প্রথম ম্যাচেই বোলিং ফিগার ৮-৩-২১-৩। পরের কয়েক বছর আমি আর বয়সভিত্তিক দলে খেলতে পারিনি। খেলার জন্য অনেক চেষ্টাও করেছিলাম। কিন্তু বয়স যাচাই-বাছাইয়ের পর দেখা গেছে আমার বয়সসীমা পেরিয়ে গেছে। শুনে আমার খুব খারাপ লেগেছিল।’ শেষ পর্যন্ত অবশ্য আরও অনেক পেসারের মতো জাতীয় দলের সাবেক কোচ সারোয়ার ইমরানের হাত ধরে উঠে আসেন আল আমিন। এখন আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয় না তাকে। জাতীয় দলে জায়গাটা করে নিয়েছেন। কোচ চান্দিকা হাতুরুসিংহে খুব আশাবাদী তাকে নিয়ে। আল আমিন জানান, উপমহাদেশের উইকেটগুলো স্পিনবান্ধব হওয়া সত্ত্বেও তিনি আত্মবিশ্বাসী, ‘আমি আত্মবিশ্বাস নিয়েই জন্মগ্রহণ করেছি। মনবল না হারিয়ে আমি একাধারে বোলিং করে যাই। আমি সবসময় আমার সর্বোচ্চ উজার করে দিয়ে খেলার চেষ্টা করি। এই ক্ষেত্রে অধিনায়কও আমাকে অনেক হেল্প করেন। আমি সব সময় চেষ্টা করি আমার ভালোটা বের করে আনার।’ আল আমিনসহ বাংলাদেশ দলের সব পেসারের জন্যই নতুন একটা পরীক্ষা ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর। এখানকার কন্ডিশনে কে কেমন খাপ খাইয়ে নিতে পারেন, সে প্রতিযোগিতা হবে। সিনিয়র মাশরাফি আছেন, রুবেল আছেন। তরুণ তাসকিন আছেন। তবে প্রতিদ্বন্দ্বীদের দিকে না চেয়ে নিজের উন্নতিই নিজে করতে চান বলে বললেন আত্মবিশ্বাসী আল আমিন। —ক্রিকইনফো অবলম্বনে