বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ সমার্থক স্মরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা

বঙ্গবন্ধু স্মরণে বাংলা একাডেমি আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ সমার্থক শব্দের নাম। শুধু বাংলাদেশে নয় সারা বিশ্বেই তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল লক্ষণীয়। তিনি ছিলেন তৃতীয় বিশ্বের মেহনতি- মুক্তিকামী মানুষের সম্মুখ সারির নেতা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৯তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলা একাডেমি বৃহস্পতিবার একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে বক্তৃতানুষ্ঠানের আয়োজন করে। একক বক্তৃতা প্রদান করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোঃ শাহিনুর রহমান। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় অধ্যাপক সালাহ্উদ্দীন আহ্মদ। অনুষ্ঠানে স্বাগত ভাষণ প্রদান করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত আবৃত্তি পরিবেশন করেন কবি আসাদ চৌধুরী, রেজিনা ওয়ালী লীনা এবং বেলায়েত হোসেন। বক্তৃতায় অধ্যাপক মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাঝে অসামান্য সব মানবিক গুণাবলির সমাবেশ ঘটেছিল। বাঙালিয়ানাকে তিনি তাঁর জীবনব্যাপী সাধনায় প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। তিনি বলেন, পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যদিয়ে ঘাতকচক্র পরাজিত পাকিস্তানি ভাবাদর্শের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছে কিন্তু বঙ্গবন্ধুর অমর আদর্শ জাগরুক থাকায় তারা সে চক্রান্তে সফল হতে পারেনি। সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক সালাহ্উদ্দীন আহ্মদ বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যদিয়ে যারা বাংলাদেশকে নতুন করে পাকিস্তান বানাতে চেয়েছিল তারা আজও বাংলা ও বাঙালিবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এদের প্রতিহত করতে পারলেই ১৫ই আগস্টের শোককে শক্তিতে পরিণত করা সম্ভব হবে। আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস স্মরণে সংগীত পরিবেশনা: আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবসের সপ্তাহব্যাপী অনুষ্ঠানমালার শেষ দিনে ভিন্নধারার গানে মেতেছিল এ তরুণ প্রজন্মের শ্রোতারা। বৃহস্পতিবার আগারগাঁও-এর জাতীয় গ্রন্থাগার (আর্কাইভ) মিলনায়তনে গানের দল মাদল আয়োজিত সংগীত সন্ধ্যায় শুরুতেই দর্শক-শ্রোতার সঙ্গে সংহতি জানিয়ে মাদল-এর প্রথম পরিবেশনা ছিল ‘জাগো জাগো সর্বহারা’। এরপর শিল্পীরা একে একে দ্রোহের গান, প্রতিবাদের গান এবং শৃংখল ভাঙার গান গেয়ে শোনান। আদিবাসী দিবসের অনুষ্ঠানমালার সমাপনী দিনে বিপুল সংখ্যক আদিবাসী তরুণ-তরুণী মাদলের গান শুনতে সমবেত হোন। এই গান হোক বহু আস্থাহীনতার বিপরীতে এক গভীর আস্থার গান- এই ছিল সমাপনী দিবসের আয়োজিত সংগীত সন্ধ্যার মূল সুর। আদিবাসী তরুণদের নিয়ে গঠিত গানের দল মাদল গানে গানে আদিবাসী জনতার মুক্তির সংগ্রামকে এগিয়ে নেয়ার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে শুরু থেকে। মাদল-এর পরিবেশনায় অতিথি শিল্পী ছিলেন সঞ্জীব দ্রং ও শ্যামাবতী চাকমা চৈতী। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি শ্রী জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা, সঞ্জীব দ্রং, প্রবীণ রাজনীতিবিদ পংকজ ভট্টাচার্য, শিল্পী মাকসুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রোবায়েত ফেরদৌস, শান্তনু মজুমদার, সংগীত শিল্পী কফিল আহমেদসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।