‘উত্তর ইরাকে ব্রিটিশ ও মার্কিন সেনাবাহিনী অবস্থান করবে’

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন বলেছেন, উত্তর ইরাকে ব্রিটিশ এবং মার্কিন সৈন্য অবস্থান করবে। তবে সেটা নমনীয় হবে। তিনি বলেন, ওই অঞ্চলে যুদ্ধ চলছে। তাই সেখানে সামরিক সম্পদ থাকাটাই সঠিক কাজ হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী একটি মানবিক সহায়তা কেন্দ্র পরিদর্শনকালে একথা বলেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, উত্তর ইরাকের সিনজার পর্বতে আটকেপড়া ইয়াজিদি সমপ্রদায় এখন আগের চেয়ে অনেক ভাল আছেন। ওই পর্বতে ইসলামী স্টেট অব ইরাক অ্যান্ড সিরিয়া’র (আইসিস) জঙ্গিদের দমন করা সম্ভব হয়েছে। খবর বিবিসি, নিউইয়র্ক টাইমস, গার্ডিয়ান ও এএফপি’র। ইরাকের উত্তরাঞ্চলে ইসলামিক স্টেটের জঙ্গিদের দ্রুত অগ্রসরের পর মানবিক সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশটিতে সর্বোচ্চ জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে জাতিসংঘ। দোহাক প্রদেশের কুর্দি কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার শরণার্থী এ এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা তাদেরকে খাবার দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, সিনজার পর্বত এলাকায় পালিয়ে আসা ব্যক্তিদের সংখ্যা যা ধারণা করা হয়েছিল তার চেয়ে কম এবং তাদের সার্বিক অবস্থা যতটা আশংকা করা হয়েছিল তার চেয়ে ভাল থাকায় তাদের উদ্ধারে বিশেষ অভিযানের প্রয়োজন নেই। তবে সেখানে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, ইরাক সংকটের ফলে ১২ লাখ লোক তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছে। ইরাক ছাড়াও আরো তিনটি দেশ সিরিয়া, দক্ষিণ সুদান ও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রেও জাতিসংঘের ঘোষিত একই ধরণের জরুরি পরিস্থিতি বহাল রয়েছে। জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিনিধি নিকোলাই মাদিনভ বলেন, বিশ্ব সংস্থার তৃতীয় ধাপের জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণার ফলে বাস্তুচ্যুতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের মানবিক প্রয়োজনের প্রতি আরো কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত দ্রব্যসামগ্রী, তহবিল ও সম্পদের প্রবাহ ত্বরান্বিত করবে। তিনি বলেন, সিনজার পর্বতে বাস্তুচ্যুত লোকজনের অবস্থা এখনও খুবই গুরুতর। জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, ইয়াজিদি সমপ্রদায়ের সদস্যসহ হাজার হাজার লোক বাস্তুচ্যুত হওয়ার পর সিনজার পর্বতে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই ধর্মীয় সংখ্যালঘু। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগের পর যুক্তরাষ্ট্র সিনজার পর্বতে আশ্রয় নেয়া ব্যক্তিদের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে সেখানে এক সংক্ষিপ্ত মিশন পরিচালনা করে। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, বুধবার সপ্তম বারের মত ওই এলাকায় বিমান থেকে খাদ্য ও পানি ফেলা হয়েছে। আটকা পড়া লোকজনের কাছে এক লাখ ১৪ হাজারেরও বেশি প্যাকেট খাবার ও ৩৫ হাজার গ্যালনেরও বেশি খাবার পানি ফেলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরাকের উত্তরাঞ্চলে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে বিমান হামলাও অব্যাহত রেখেছে। গতকাল অস্ট্রেলিয়াও শরণার্থীদের খাবার সরবরাহ করেছে।