মুন্সীগঞ্জে চারা বিতরণ উদ্বোধন করলেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রী
প্রকাশ : ১৪ আগস্ট ২০১৪, ২২:৩০
পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ৩ লাখ গাছের চারা বিতরণের এ কার্যক্রম বাংলাদেশের পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত যা দেশ ও জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন এটি তারই প্রতিফলন।
জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বৃহস্পতিবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধুর স্মরণে ৩ লাখ গাছের চারা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
সভা শেষে মন্ত্রী শিক্ষার্থীদের হাতে গাছের চারা তুলে দিয়ে এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর পরই জেলার লৌহজং, শ্রীনগর, সিরাজদিখান, গজারিয়া, টঙ্গীবাড়ি ও মুন্সীগঞ্জ সদরসহ ৬টি উপজেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের হাতে একযোগে গাছের চারা তুলে দেয়া হয়। এ উপলক্ষে প্রতিটি উপজেলায়ও একটি করে আলোচনা সভা ও বৃক্ষ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একযোগে জেলার প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে এ বৃক্ষের চারা পৌঁছে দেয়া হয়। শিক্ষার্থীরা নিজ হাতে গাছের চারা রোপণ করবে। নিজেরাই এই গাছের পরিচর্চা করবে।
জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদল বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা ও নতুন প্রজন্মের জন্য সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিতকরণ ছাড়াও শিক্ষার্থীদের বৃক্ষ ও দেশ প্রেমিক হওয়ার জন্য এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জাতির পিতার স্মরণে কমপক্ষে ৩ লাখ বলা হলেও বাস্তবে আরো বেশি বৃক্ষের চারা রোপণ করা হবে।
মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন অ্যাড. মৃণাল কান্তি দাস এমপি, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. রইছ উল আলম মন্ডল, জেলা ভারপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাকির হোসেন মজুমদার, পিপিআইএমএসসি রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মেজর মো. নূরুল আমিন হেলাল প্রমুখ।
মুন্সীগঞ্জে পরিবেশ বিষয়ক মতবিনিময়
এদিকে বিকালে মুন্সীগঞ্জ সার্কিট হাউসে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, পরিবেশ দূষণকারীদের সাথে কোন আপোস নেই। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করা হবে।
মন্ত্রী ইট ভাটার মালিকদের উদ্দেশে বলেন, ইট তৈরি করতে গিয়ে বাতাস দূষণ করা যাবে না। পরিবেশ রক্ষা করে ইট তৈরি করতে হবে। যে সকল ইট ভাটা পরিবেশ আইন না পালন করবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। প্রয়োজনে ইট ভাটা বন্ধ করে দেয়া হবে। কাঠ দিয়ে ইট পুড়িয়ে পরিবেশ নষ্ট করা হচ্ছে। বাতাস দূষিত করার অধিকার তাদের নেই। কয়লা দিয়ে ইট পোড়াতে হবে।
জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল হাসান বাদলের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক মোঃ মহিউদ্দিন, মৃণাল কান্তি দাস এমপি, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ রইছ উল আলম মন্ডল, মীরকাদিম পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন রেনু।