বিচারক আলতাফের রিটের শুনানিতে বিব্রত বিচারপতি

স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ চেয়ে বাদ পড়া বিচারক এবিএম আলতাফ হোসেনের করা এক রিট আবেদনের শুনানি গ্রহণে বিব্রতবোধ করেছে হাইকোর্ট। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমানের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চের একজন বিচারপতি এই রিট শুনতে বিব্রতবোধ করেন। তবে কোন বিচারপতি বিব্রতবোধ করেছেন তা জানানো হয়নি। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল এডভোকেট মুরাদ রেজা ও রিটকারীর পক্ষে এডভোকেট সালাহউদ্দিন দোলন উপস্থিত ছিলেন। সালাহউদ্দিন দোলন বলেন, বেঞ্চের এক বিচারপতি রিট আবেদনের শুনানিতে বিব্রতবোধ করেছেন। এখন বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। তিনি আবেদনটি শুনানির জন্য অন্য কোনো বেঞ্চে পাঠাবেন। তিনি বলেন, আলতাফ হোসেনকে স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিতে প্রধান বিচারপতি সুপারিশ করেছিলেন। কিন্তু তা অনুসরণ করা হয়নি। ২০১২ সালের ১৩ জুন দুই বছরের জন্য হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে আলতাফ হোসেনসহ ৬ জনকে নিয়োগ দেয় সরকার। চলতি বছরের ৯ জুন আলতাফকে বাদ দিয়ে ৫ জনকে স্থায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। স্থায়ী নিয়োগ না পেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন আলতাফ হোসেন। এর আগে একই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ ইদ্রিসুর রহমান আরেকটি রিট আবেদন করেন। ঐ আবেদনটি বিচারাধীন রয়েছে। প্রসঙ্গত বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ১০ জন অতিরিক্ত বিচারককে স্থায়ী নিয়োগ না দেয়ায় তার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করা হয়েছিল। হাইকোর্ট স্থায়ী নিয়োগ না দেয়াকে অবৈধ ঘোষণা করে বাদপড়া বিচারপতিদেরকে স্থায়ী নিয়োগ দেয়ার নির্দেশ দেয়। আপিল বিভাগ ওই রায় বহাল রাখে। আপিল বিভাগের এই রায় বহাল থাকাবস্থায় প্রধান বিচারপতির সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও বিচারপতি এবিএম আলতাফকে স্থায়ী নিয়োগ দেয়নি সরকার। আইনজীবীরা এ ঘটনাকে সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের অবমাননা হিসেবে মনে করেন।