কী করে এলো

সনদপত্র

শিক্ষাগত যোগ্যতা থেকে শুরু করে বিশেষ কোনো দক্ষতা কিংবা জন্ম পরিচয় থেকে শুরু করে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য অবদি বহু কাজেই প্রমাণ হিসেবে যে জিনিসটি আমাদের প্রয়োজন হয় তাহলো সনদ। এমনিতে যে যতই শিক্ষিত বা যোগ্য হোন না কেন, সেটি অন্যের সামনে বিশ্বাসযোগ্য করে উপস্থাপনের জন্য সনদের বিকল্প নেই। আর তাই নানা যুগে ও নানা দেশে বহু বছর ধরেই মানুষের হাজারও রকমের প্রয়োজন মিটিয়ে আসছে নানা ধরনের সনদপত্র। তবে আজ থেকে প্রায় ষোলশ বছর পূর্বে সনদপত্রের ধারণাটি যখন শুরু হয়েছিল তখন স্বভাবতই এর ব্যবহার এত বিস্তৃত ছিল না। বরং রাষ্ট্রের উদ্যোগে রাষ্ট্রের নাগরিকদের যোগ্যতার ধরন ও মাত্রা নির্দেশ করার জন্যই এ ধরনের সনদের প্রবর্তন করেছিলেন চীনের হান বংশের রাজারা। খ্রীষ্টপূর্ব ১৭৮ শতকের দিকে হান বংশের হাত ধরেই শিক্ষিত মানুষের হাতে এ ধরনের সনদ তুলে দেওয়ার প্রচলন শুরু হয়েছিল বলে মনে করেন ঐতিহাসিকেরা। মূলত ‘যোগ্য ও অসাধারণ’ শিরোনামের এই সনদপত্রগুলো কেবল তাদেরই হাতে তুলে দেওয়া হতো যারা জ্ঞান-বিজ্ঞান কিংবা অন্য কোনো গুণের দিক দিয়ে অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রাখতেন। অর্থাত্ ঢালাওভাবে রাষ্ট্রের সকলকে কিংবা কোনো ধরনের পরীক্ষার বিপরীতে নয়, বরং অনেকটা আধুনিক দিনের সম্মাননা স্মারকের মতো করে রাষ্ট্রের বাছাই করা ব্যক্তিদের জন্যই দেওয়া হতো সনদপত্র। এ ছাড়া নির্ধারিত যোগ্যতা বা গুণের জন্য এবং যোগ্যতার নানা ধাপের জন্য আলাদা আলাদা সনদ দেওয়ারও রীতি ছিল সেই সময়ে। আর কালে কালে হান রাজবংশের মতো করে এভাবে সনদ দেওয়ার রীতি প্রচলিত হয় তাদের সংস্পর্শে আসা অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীগুলোর মাঝেও।