অনলাইনে তথ্য প্রকাশে চাই দায়িত্বশীলতা

একসময় ব্লগ ছিল কেবল ব্যক্তিগত অনুভূতি, আবেগ প্রকাশের মাধ্যম। কিন্তু বর্তমানে এর জনপ্রিয়তা বেড়ে যাওয়ায় এটি হয়ে উঠেছে মতপ্রকাশ, জনমত তৈরি ও বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তর আলোচনা-গবেষণার উন্মুক্ত ক্ষেত্র হিসেবে। এ ওয়েবসাইটে ব্যবহারকারীরা নিজ নিজ ভাবনা, ক্ষোভ, স্বপ্ন, আবেগ, প্রতিক্রিয়া, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তাচেতনা, গবেষণা, ছবি, ভিডিও, অডিও সহজেই তুলে ধরতে এবং নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারছে। শুধু তাই নয়, সামাজিক আন্দোলন বা যে কোনো ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনমত তৈরির লক্ষ্যে ওই ওয়েবসাইট বিশেষ ভূমিকা পালন করছে, যা ব্লগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে বিরল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে। উদাহরণস্বরূপ আমরা বলতে পারি, আরব বসন্ত, অকুপাই ওয়ালস্ট্রিটের মতো বড় বড় আন্দোলনে জনমত সৃষ্টিতে তরুণ প্রজন্ম বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। ব্লগের মাধ্যমে পাকিস্তানের মালালা ইউসুফজাই আজ বিশ্বে নারী সাহসিকতার উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। বিশেষ করে চিরায়ত গণমাধ্যমগুলো যে বিষয়গুলোকে সহজে তুলে ধরতে পারে না, সেসব ঘটনা ওই ব্লগে তুলে ধরার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে, যা জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। আমরা বলতে পারি সামাজিক যোগাযোগ ও সমাজ পরিবর্তনে নিঃসন্দেহে এই ধরনের ওয়েবসাইট বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। যা দ্বারা সমাজ, দেশ তথা জাতির সার্বিক মঙ্গল সাধন হতে পারে। তবে তথ্য প্রচার ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে। পরিবেশিত তথ্য দেশ, জাতি, সমাজ ও ব্যক্তিজীবনে যাতে কোনো ক্ষতি সাধন না করে সে ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের সদিচ্ছা পাশাপাশি সাইবার অপরাধ বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি অধিক প্রয়োজন বলে মনে করি। তথ্য প্রাপ্তি ও প্রকাশের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা, গণমাধ্যমের অবাধ স্বাধীনতার পাশাপাশি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার যে অঙ্গীকার, তাকে বিনষ্ট করতে ও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে পরিচিত ব্লগকে বাধাগ্রস্ত করতে এর সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে অসুস্থ ব্লগিং চর্চা করতে কিছু অসাধু ব্যক্তি এ ধরনের ওয়েবসাইটে এক বা একাধিক ছদ্ম নাম ও ভিন্ন পরিচয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে অথবা কৌশলে অন্যের অ্যাকাউন্টের গোপন তথ্য জেনে অবৈধ ও অনৈতিক কার্যকলাপ ও অশ্লীলতার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত সাইবার অপরাধ করে যাচ্ছে এবং এ ধরনের যোগাযোগ মাধ্যম ও ব্যবহারকারীদের করছে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। মূলত যথাযথ আইনি দুর্বলতা, সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা, অপরাধ বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক অধিক কার্যক্রম গ্রহণ না করা, অপরাধীদের শনাক্তকরণে ব্যর্থতা, এক ব্যক্তি কর্তৃক ভিন্ন ভিন্ন নামে একাধিক অ্যাকাউন্ট করার সুবিধা পাওয়া; একদল অন্য দলকে নানাভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার সুবিধা পাওয়া, মানুষের ইমেজ নষ্ট করার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি ইত্যাদি কারণে এ ধরনের অপরাধ সমাজে বেড়েই চলেছে। এখন প্রয়োজন অধিক নজরদারির বিষয়টি নিশ্চিতকরণ। পাশাপাশি এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সার্বিক সহযোগিতাও একান্ত জরুরি বলে মনে করি। ঢাকা