স্বজন হারানোর কান্নায় আর কত নির্বাক হবো আমরা
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০১৪, ২১:১১
প্রতি বছর লঞ্চডুবিতে বিশাল সংখ্যক তাজা প্রাণ হারিয়ে যাচ্ছে। লাশের অপেক্ষা করতে করতে শুকিয়ে যাচ্ছে স্বজনের চোখের জলও। আর্তনাদ আর আহাজারিতে কেউবা নির্বাক-নিস্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এসব কি আমাদের বিবেককে একটুও নাড়া দেয় না? নাকি আমাদের মনুষ্যত্ব, বিবেক, মানবিকতাকে জলাঞ্জলি দিয়ে দিয়েছি। আমরা শুধু টাকার জন্য অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করতে বা নিয়ম বহির্ভূতভাবে জাহাজ তৈরিতে সম্মত হই। কিন্তু এতগুলো মানুষের জীবনের নিরাপত্তার কি কোনো প্রয়োজন নেই? মানুষ তো প্রকৌশলগত নকশা অনুযায়ী সামান্য একটি বাড়ি তৈরি করার তাগিদ বোধ করে, আর যেখানে এতগুলো মানুষের জীবনের নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত, সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রশ্নবিদ্ধ নজরদারি ও দায়বদ্ধতা কষ্ট দেয়। অর্থের লোভে না হয় অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই করা হয়। কিন্তু এসব অনিয়ম আর দুর্নীতি রোধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনও কি নীরব দর্শকের ভূমিকায় অবতীর্ণ?
বেসরকারি সংগঠন নৌ, সড়ক ও রেল খাত রক্ষা জাতীয় কমিটি (এনসিপিএসআরআর)-এর হিসাব অনুযায়ী ১৯৯৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত গত এই বিশ বছরে ৬৫৮টি লঞ্চ দুর্ঘটনায় মানুষ মারা গেছে প্রায় ৭ হাজার । কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের। এই সাধারণ মানুষগুলোর কান্নার করুণ আওয়াজ আর স্বজন হারানোর অসহ্য যন্ত্রণা তাদের পাষাণ হূদয়কেও গলাতে পারে না।
কিন্তু রাষ্ট্র কি তার এই দায়বদ্ধতা এড়াতে পারবে? নাকি প্রশাসনের তদারকি আর অব্যবস্থাপনা ফল ভোগ করেই গন্তব্যে পৌঁছতে নিরীহ মানুষকে মৃত্যুর মিছিলে শরিক হতেই হবে?
কুমিল্লা