এশিয়াডে ‘বিশ্বকাপের দল’
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০১৪, ২১:৫৮
যে কোনো গেমসেই সেরা শক্তির ফুটবল বা ক্রিকেট দল পাঠানোর একটা বিধি-নিষেধ থাকে। সাধারণত যুব দলগুলো পাঠাতে হয় এখানে; তিনজন সিনিয়র খেলোয়াড় পাঠানো যায়। এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটে অন্তত এরকম কোনো বিধি-নিষেধ নেই। তারপরও গতবার চালু হওয়া এই খেলাটায় এর আগে কোনো টেস্ট খেলুড়ে দলই তার সেরা দল পাঠায়নি। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ এবার এই ধারাটা নতুন করে তৈরি করলো বলা যায়। এশিয়া গেমসে অংশ নিতে কার্যত গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা দলটিকেই পাঠিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ।
একই সঙ্গে ঘোষিত গেমসের জন্য বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলে গত এশিয়ান গেমসে অংশ নেয়া সাত ক্রিকেটার আছেন। গত এশিয়ান গেমসে এই সালমা খাতুনরাই বাংলাদেশকে এনে দিয়েছিলেন রৌপ্য পদক।
শুরুতে গুঞ্জন ছিল যে, এশিয়ান গেমসের ভেতর দিয়েই খেলায় ফিরতে পারেন সাকিব আল হাসান। শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। ফলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলা সাকিব নিষেধাজ্ঞার জন্য এশিয়াডে যেতে পারছেন না। এর বাইরে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম নিজের বিয়ের জন্য ছুটি পেয়েছেন। আর আব্দুর রাজ্জাকের জায়গা হয়নি দলে। এই তিন জনের বাইরে তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো খেলোয়াড় বাদ পড়েননি বিশ্বকাপের স্কোয়াড থেকে। হিসেব করে বললে বিশ্বকাপ খেলা ১০ জন খেলোয়াড়ই আছেন এই এশিয়ান গেমসের দলে।
এরকম শক্তিশালী দল পাঠানোর ব্যাপারে প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদের ব্যাখ্যা খুব পরিষ্কার, ‘এটা তো নীতিগত ব্যাপার যে, আমরা সেরা দল এখানে পাঠাবো কি-না। এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বোর্ড। তারা আমাদের বলেছেন, সেরা দল গঠন করতে। আমরা যাদের পাওয়া যাবে এমন ক্রিকেটারদের মধ্যে সম্ভাব্য সেরা দল গঠন করেছি।’
আর এই নীতিগত সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ফারুক নিজেও একমত। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বাংলাদেশের এশিয়ান গেমসের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার একটা চ্যালেঞ্জ থাকে বলেই মনে করছেন তিনি, ‘আমরা এই গেমসের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন। ফলে আমাদের তো শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার একটা ব্যাপার আছে। এবার শ্রীলঙ্কাও কিন্তু ভালো দল পাঠিয়েছে।’
এই এশিয়াডের দলে আছেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা তামিম ইকবাল, এনামুল হক বিজয়, সামসুর রহমান, সাব্বির রহমান রুম্মন, মাহমুদউল্লাহ, নাসির হোসেন, সোহাগ গাজী, মাশরাফি বিন মুর্তজা, আল আমিন হোসেন ও তাসকিন আহমেদ। বিশ্বকাপে ১৭ জনের স্কোয়াড থাকায় সাত জনের নাম এখানে পাবেন না। বদলে পাঁচ জন খেলোয়াড়কে নতুন পাওয়া যাচ্ছে। তারা হলেন—ইমরুল কায়েস, মোহাম্মদ মিঠুন, শুভাগত হোম চৌধুরী, আরাফাত সানি ও মুক্তার আলী।
এদের মধ্যে বিশেষ করে রাজ্জাককে বাদ দিয়ে সানিকে অন্তর্ভুক্ত করার একটু যুক্তি দিতে হল ফারুক আহমেদকে। তিনি শুধু সানির নয়, সবার অন্তর্ভুক্তিই যুক্তিযুক্ত বলে মনে করছেন, ‘রাজ্জাক অবশ্যই সেরাদের একজন। তবে এই ফরম্যাটে আমরা একজন বাঁহাতি স্পিনার রাখলে সেটা সানিকে রাখাটাই ঠিক বলে মনে করেছি। এর বাইরে শুভাগত ও মিঠুন এই ফরম্যাটে খুব কার্যকর হবে। মুক্তার আলী পেস বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবে অনেক ভালো করছে। আর ইমরুল গত কিছুদিনে যেখানেই সুযোগ পেয়েছে, ভালো করছে।’
সব মিলিয়ে যে দল করা হয়েছে, তাতে ফারুক আশাবাদী যে ইনচিয়ন থেকে আরেকবার স্বর্ণপদক নিয়েই ফিরবে বাংলাদেশ, ‘আমি আশাবাদী। যদিও টি-টোয়েন্টি খেলায় নিশ্চিত করে বলা যায় না কিছুই। এখানে ছোট দলগুলোও বড় হুমকি হতে পারে। তবে আমি আশাবাদী, ছেলেরা নিজের খেলাটা খেলে আসতে পারলে আমরা চ্যাম্পিয়ন হয়েই ফিরবো আবার।’
পুরুষ দল
তামিম ইকবাল, এনামুল হক বিজয়, ইমরুল কায়েস, মোহাম্মদ মিঠুন, সামসুর রহমান, শুভাগত হোম চৌধুরী, সাব্বির রহমান রুম্মন, মাহমুদউল্লাহ, নাসির হোসেন, সোহাগ গাজী, আরাফাত সানি, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মুক্তার আলী, আল আমিন হোসেন, তাসকিন আহমেদ।
নারী দল
রুমানা আহমেদ, শায়লা শারমিন, লতা মন্ডল, খাদিজা-তুল কুবরা, ফারজানা হক পিংকি, সালমা খাতুন, পান্না ঘোষ, নুসহাত তাসনিয়া, জাহানারা আলম, আয়েশা রহমান, ফাহিমা খাতুন, সানজিদা ইসলাম, শারমিন আক্তার সুপ্তা, সোহেলী আক্তার, শাহনাজ পারভীন।