চট্টগ্রামের পেয়ারা যাচ্ছে বিদেশে

প্রতিবছর দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়া, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও বাঁশখালীর পাহাড়ি অঞ্চলে উত্পাদিত হচ্ছে প্রচুর পেয়ারা। দেশের চাহিদা মিটিয়ে এই পেয়ারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। পেয়ারা চাষ ও বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত আয় দিয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছে কয়েক হাজার মানুষ। চন্দনাইশ উপজেলার হাশিমপুর ও কাঞ্চনাবাদের “পেয়ারা গ্রাম” নামে দেশ-বিদেশে বেশ পরিচিতি রয়েছে। কাঞ্চননগর গ্রামে উত্পাদিত পেয়ারার নাম হয়েছে কাঞ্চন পেয়ারা। এই পেয়ারা আকারে বড়, সুস্বাদু ও রসালো। দেশে-বিদেশে ব্যাপক চাহিদা। দেশের চাহিদা মিটিয়ে এ পেয়ারা মধ্যপ্রাচ্যের কাতার, বাহরাইন, দুবাই, ওমান, সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হচ্ছে। জানা যায়, দক্ষিণ চট্টগ্রামের উক্ত পাঁচ উপজেলায় চার হাজারের অধিক পেয়ারা বাগান রয়েছে। অধিকাংশ পাহাড়ি এলাকায় রয়েছে পেয়ারা বাগান। এক হাজার হেক্টরের অধিক জমিতে পেয়ারা চাষ হয়। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চননগর, হাশিমপুর, এলাহাবাদ, জামিজুরি, বরগুনিসহ বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলে কাঞ্চন পেয়ারার চাষ হয়। এছাড়া পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও ও শ্রীমাই, বাঁশখালী উপজেলার জলদী, বৈলছড়ি, কালিপুর ও গুনাগরি, সাতকানিয়া উপজেলার চুড়ামনি, মার্দাশা, সোনাকানিয়া, এঁওচিয়া ও পুরানগড় এবং লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি, কলাউজান, পুটিবিলা, পদুয়া ও বড়হাতিয়ার পাহাড়ি অঞ্চলে প্রতিবছর পেয়ারা চাষ হয়। জুলাই মাস থেকে পেয়ারা বাজারে বিক্রি শুরু হয়। একটানা ছয় মাস পর্যন্ত এ পেয়ারা বাজারে পাওয়া যায়। এ সময়ে প্রতিদিন গড়ে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার পেয়ারা পাইকারি ও খুচরা বিক্রি হয়। এই হিসেবে প্রতিবছর প্রায় পাঁচ কোটি টাকার পেয়ারা বিক্রি হয়। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার সড়কের চন্দনাইশের বাদামতল, গাছবাড়িয়া, বাগিচার হাট ও রৌশন হাটে প্রতিদিন সকালে পেয়ারা হাট বসে। লাল কাপড় মোড়ানো শত শত পেয়ারা ঝুড়ি করে বিক্রির জন্য রাখা হয় সড়কের উভয়পাশে। প্রতি ঝুড়িতে দু’শ থেকে আড়াইশ পেয়ারা থাকে। বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা এসে এখানে ভিড় জমায়। ছোট সাইজের পেয়ারা প্রতি ডজন ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মাঝারি সাইজের পেয়ারা প্রতি ডজন ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং বড় সাইজের পেয়ারা প্রতি ডজন ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। পেয়ারা চাষিরা জানান, শ্রমিকরা বাগান থেকে পেয়ারা ছিঁড়ে লাল কাপড় মুড়িয়ে ঝুড়িতে করে বাজারে নিয়ে আসে। বাজারে নিয়ে আসা পর্যন্ত একজন শ্রমিক তিন থেকে চারশ’ টাকা মজুরি পায়। ক্রেতাদের আকর্ষণ বাড়ানোর জন্য পেয়ারায় লাল কাপড় মোড়ানো হয়। পেয়ারা মৌসুমে আট হাজারের অধিক সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান হয়। কৃষিবিদরা জানান, দক্ষিণ চট্টগ্রামে প্রচুর পেয়ারা উত্পাদিত হয়। বিশেষ করে চন্দনাইশে উত্পাদিত পেয়ারা অত্যন্ত সুস্বাদু। পেয়ারা উত্পাদানে চাষিরা কোন প্রকার কীটনাশক ব্যবহার করে না। ফলে, এ অঞ্চলের পেয়ারা স্বাস্থ্যসম্মতও।