চট্টগ্রামে প্রবল বর্ষণে নগরবাসীর দুর্ভোগ
প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০১৪, ২২:৩৯
চট্টগ্রামে গত ২ দিনের বৃষ্টিপাতে নগর জীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই হালকা বৃষ্টিপাত শুরু হয়। তবে দিনভর হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হলেও সারারাত প্রবল বর্ষণ হয়েছে। এর ফলে নগরীর বাকলিয়া, চকবাজার, মুরাদপুর, কাতালগঞ্জসহ নিচু এলাকাগুলোতে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। শেষ রাতের দিকে এসব এলাকার বাসাবাড়ি ও রাস্তাঘাটে হাঁটু থেকে কোমর পরিমাণ পানি উঠলেও সকালে বৃষ্টির তোড় কমে আসার সাথে সাথে পানিও নেমে যায়। পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস কর্মকর্তা ওয়ারেসুন্নবী ইত্তেফাককে জানান, গতকাল শুক্রবার বিকাল ৩টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘন্টায় নগরীতে ১৩৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারী বর্ষণ আরো কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে তিনি জানান।
গতকাল শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টিপাতের কারণে বিভিন্ন রাস্তায় খানা-খন্দ সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে গাড়ি গর্তে আটকে গিয়ে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়। নগরবাসীকে দৈনন্দিন কাজকর্ম ফেলে বাসার ভেতর থেকে ময়লা পানি ও আবর্জনা বাইরে ফেলার কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। অনেক এলাকায় বৃষ্টির পানিতে ফ্রিজ, গাড়িসহ ঘরের মূল্যবান আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। প্রবল বর্ষণে নগরীর গরীবুল্লাহ শাহ মাজার, চৈতন্যগলি কবরস্থান, মিসকিন শাহ দরগাসহ বিভিন্ন কবরস্থানে নতুন-পুরাতন অনেক কবর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোথাও ভূমিধস অথবা প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে কর্ণফুলী নদীর জোয়ারের পানিতে নগরীর আগ্রাবাদ আবাসিক এলাকা ও চাকতাই-খাতুনগঞ্জ বাজার গত কয়েকদিন ধরে জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। ফলে এসব স্থানের বাসিন্দাদের ভোগান্তি অন্যদের তুলনায় বেশি। আগ্রাবাদ এলাকার বাসিন্দা ফজলুল হক ইত্তেফাককে বলেন, গত প্রায় ১০ দিন ধরে আগ্রাবাদ আবাসিক এলাকা জোয়ারের পানিতে ডুবে রয়েছে। তার ওপর গত ২ দিনের বৃষ্টিপাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
টেকনাফে ২০ গ্রামের মানুষ পানিবন্দী
টেকনাফ (কক্সবাজার) সংবাদদাতা জানান, অতি বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ও সাবরাং ইউনিয়নের কমপক্ষে ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
পাউবোর তথ্য মতে, উপজেলার নাফনদী বিপদসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া নাফনদী ও বঙ্গোপসাগরে তিন দশমিক ৩৪ মিটার উচ্চতার জোয়ার হয়, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩৮ সেন্টিমিটার বেশি। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার খোলা বাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে কমপক্ষে ২০টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসব এলাকার কমপক্ষে এক হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
গতকাল শুক্রবার হ্নীলা ইউনিয়নের আলীখালী ও রঙ্গিখালী গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ওই ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামের প্রায় ৪০০ পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে। বসতঘর বুকসমান পানিতে প্লাবিত হওয়ায় পরিবারগুলো মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। অনেক পরিবার বাঁধের ওপর আশ্রয় নিলেও জোয়ারের পানি বাঁধ ছুঁই ছুঁই অবস্থায় থাকায় পরিবারগুলো আতঙ্কে রয়েছে।
হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মীর কাশেম ও সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান বলেন, ‘ভাঙ্গা বেড়িবাঁধের অংশ দিয়ে প্রতিনিয়ত জোয়ারের লবণাক্ত পানি প্রবেশ করায় স্থানীয় বাসিন্দাদেরও দুর্ভোগের শেষ নেই। ’
পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী একেএম শফিকুল হক জানান, ভেঙ্গে যাওয়া বাঁধ মেরামত করা যায়নি। ফলে ভাঙ্গা বাঁধের স্থান দিয়ে পানি ঢুকে পড়ছে লোকালয়ে। জরুরি ভিত্তিতে কোনো বরাদ্দ না পেলে এসব বাঁধ সংস্কার করা সম্ভব নয়। এ ছাড়া অক্ষত বাঁধগুলোও অনেক পুরোনো হওয়ায় সেগুলোও খুবই নাজুক অবস্থায় রয়েছে।