পদযাত্রায় রামপাল গিয়ে মার খেলেন সংস্কৃতি কর্মীরা

ঢাকা থেকে পায়ে হেঁটে বাগেরহাটের রামপালে গিয়েছিলেন ‘মৌলিক বাংলা সাংস্কৃতিক জনপদ’ নামের একটি সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাদের দাবি ছিল সুন্দরবনকে রক্ষার জন্য রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ বন্ধ করতে হবে। শুক্রবার দুপুরে রামপাল উপজেলার সাপমারী-কাটাখালী এলাকায় বিদ্যুেকন্দ্রের সীমানার ভেতরে পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের ওপর হামলা চালায় সরকারি দলের লোকজন। হামলায় ঐ সংগঠনের অন্তত দশজন কর্মী আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা কেড়ে নিয়েছে তাদের দুইটি ক্যামেরা ও কয়েকটি মুঠোফোন। সন্ধ্যায় আহতদের মধ্যে চারজনকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের সেখানে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়েছে। সংগঠনটির কর্মীরা গত আট আগস্ট ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে থেকে রামপাল পর্যন্ত পদযাত্রা শুরু করে। ১৪ আগস্ট শনিবার রাতে তারা রামপালের রাজনগরে পৌঁছায় এবং স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাত্রি যাপন করে শুক্রবার সকালে বিদ্যুেকন্দ্র এলাকা পরিদর্শনে গেলে বেলা ১২টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত এই হামলার ঘটনা ঘটে। ‘মৌলিক বাংলা সাংস্কৃতিক জনপদ’ এর উপদেষ্টা ও এই পদযাত্রা বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক শ্মশান ঠাকুর এবং সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক সবুজ মনা শুক্রবার সন্ধ্যায় খুলনা থেকে এই প্রতিবেদককে মুঠোফোনে জানান, রামপাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও রামপাল উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ এবং স্থানীয় রাজনগর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান ডাবলুর নেতৃত্বে ত্রিশ-চল্লিশ জন গ্রামবাসী বিনা উস্কানিতে লাঠিসোঁটা ও মাছ ধরা দেশি অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। তাদের কর্মীদের মারধর করার সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির সঙ্গে যাওয়া পুলিশ সদস্যরা দর্শকের ভূমিকা পালন করেন। পরে বেলা দেড়টার দিকে পুলিশ তাদের একটি ট্রলারে করে মংলা উপজেলার দিগরাজ এলাকায় পাঠিয়ে দেয়। সেখান থেকে বাসে করে তারা খুলনা পৌঁছে চিকিত্সার জন্য সন্ধ্যায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান। সবুজ মনা অভিযোগ করেন যে, শুক্রবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রশাসন তাদের কোন সহযোগিতা করেনি। খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অচেনা ব্যক্তিরা তাদের ভয় ভীতি দেখাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, তাদের সংগঠনটি একটি প্রগতিশীল ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সংগঠন। তাদের কার্যালয় ঢাকার কাটাবন এলাকায়। তরুণ কবি, সাহিত্যিক, লেখক, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ তরুণ ছাত্র, কর্মজীবী ও পেশাজীবীরা তাদের প্রতিষ্ঠানের সদস্য। তারা দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে এসে বর্বরতার শিকার হয়েছেন। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রউফ সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদককে মুঠোফোনে বলেন, খুবই অল্প বয়সের কিছু বহিরাগত ছেলে এলাকায় ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছিলো বলে স্থানীয়রা আমাকে জানান। ১৫ আগস্ট উপলক্ষে উপজেলার সব জায়গায় আমাদের দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি ছিলো। কোন অঘটন এড়াতে আমি রামপাল থানা থেকে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই এবং অল্প বয়সী ঐসব অচেনা ছেলেদের এলাকা থেকে চলে যেতে বলি। তাদের উপর কেউ হামলা করেনি। পুলিশ তাদের নির্বিঘ্নে ট্রলারে তুলে দেয়। রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী দাউদ হোসেন জানান, ঐ যুবকদের সম্পর্কে আমাদের কাছে আগাম কোন তথ্য ছিলো না। পুলিশ সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাদের নিরাপদে এলাকা ত্যাগ করতে ট্রলারে তুলে দেয়। ঘটনার পর থেকে তারা বা তাদের পক্ষে কেউ থানায় কোন অভিযোগ নিয়ে আসেনি।