ঘাম থেকে চার্জ হবে মোবাইলের ব্যাটারি
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০১৪, ২০:০৮
বহনযোগ্য বিভিন্ন ডিভাইসের জনপ্রিয়তার পাশাপাশি এগুলোর ব্যাটারি ব্যাকআপ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে দিন দিন। যে কারণে প্রচলিত চার্জারের সাথে সাথে বিভিন্ন মোবাইল ডিভাইসের ব্যাটারির বিকল্প চার্জিং ব্যবস্থা উদ্ভাবনে সময়, মেধা এবং শ্রম ব্যয় করে যাচ্ছেন গবেষকরা। এর ধারাবাহিকতায় এবারে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, স্যান ডিয়াগোর একদল গবেষক শরীরের ঘাম থেকে ব্যাটারি চার্জের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন। আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির এক সভায় এই প্রযুক্তি প্রদর্শন করেছেন গবেষকরা। এই প্রযুক্তির মূল্যে রয়েছে একটি ট্যাটু, যা মূলত কাজ করবে বায়োব্যাটারি হিসেবে। এটি ল্যাকটেট থেকে শক্তি সংগ্রহ করে থাকে। শারীরিক পরিশ্রমের ফলে মানুষের শরীর থেকে যে ঘাম নিঃসৃত হয়, তাতে স্বাভাবিকভাবেই উপস্থিত থাকে ল্যাকটেট। ফলে ঘামের উপস্থিতিতেই এই বায়োব্যাটারি চার্জিত হয়। হূদযন্ত্র মনিটর করার যন্ত্র থেকে শুরু করে ডিজিটাল হাতঘড়ি এবং এমনকি স্মার্টফোনের ব্যাটারিও এই পদ্ধতিতে চার্জ করা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট গবেষকরা। এই নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, স্যান ডিয়াগোর ড. ওয়েনঝাও জিয়া বলেন, ‘এর আগে বিভিন্নভাবেই ব্যটারি চার্জের পদ্ধতি নিয়ে অনেকেই কাজ করেছেন। তবে ঘাম থেকে ব্যটারি চার্জের প্রযুক্তি আমরাই প্রথম প্রদর্শন করেছি। এখন পর্যন্ত আমরা যতটুকু কাজ করতে পেরেছি তাতে উত্পন্ন বিদ্যুতের পরিমাণ অনেক কম—মাত্র চার মাইক্রোওয়াট। তবে এর পরিমাণ বাড়ানোর জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা আশা করছি খুব দ্রুতই এর মাধ্যমে ছোট ছোট ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস চার্জ করার মতো শক্তি উত্পন্ন করা সম্ভব হবে।’ তবে এর জন্য ঘামের মাত্রার মনিটরিং গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন ড. ওয়েনঝাও। সাধারণভাবে অস্থায়ী ট্যাটুর ওপর ছাপানো ল্যাকটেট সেন্সর ব্যবহার করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। এই সেন্সরটি ঘামের মাত্রা পরিমাপের সাথে সাথে বায়োব্যাটারি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করে থাকেন, তাদের শরীরে ঘামের মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম হয়। তাদের আশাবাদ, আগামী বছরের মধ্যেই হয়তো এই প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করে বায়োব্যাটারি বাজারে নিয়ে আসা সম্ভব হবে।