প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০১৪, ২০:৩৩
অহংকারী ও অত্যাচারীর পরিণাম খুব ভয়াবহ হয়
বাংলা
মো. সুজাউদ দৌলা
প্রভাষক
রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ঢাকা
হাতি আর শেয়ালের গল্প
প্রশ্ন-৩। হাতিটা বনে ঢুকে কী ধরনের আচরণ করেছিল?
উত্তর: হাতিটা বনে ঢুকে যে ধরনের আচরণ করেছিল: হাতিটা বনে ঢুকেই তার শরীর আর শক্তির অহংকার দেখায়। বনের চারদিকে তোলপাড় শুরু করে। হাতিটা গলা ফাটিয়ে খুব জোরে গর্জন শুরু করে। বনের অন্য পশু ও পাখ-পাখালি হাতিটার আগমনে সুখ-শান্তি হারিয়ে ফেলে।
প্রশ্ন-৪। হাতির আস্তানায় ঢুকে শেয়াল হাতিটাকে কীভাবে, কী বলেছিল?
উত্তর: ‘হাতি আর শেয়ালের গল্প’-তে আমরা একটি অত্যাচারী হাতি ও একটি বুদ্ধিমান শেয়ালকে পাই।
হাতির আস্তানায় শেয়াল যেভাবে যা বলেছিল: শেয়াল পশুদের মধ্যে বুদ্ধিমান ছিল। বনের মধ্যে একদিন একটা হাতি প্রবেশ করে সব পশু-পাখির সুখ কেড়ে নেয়। একদিন বনের সমস্ত পশু-পাখিরা বুদ্ধি করে হাতিটার অত্যাচার থেকে একটা প্রতিকারের ব্যবস্থা করল। দায়িত্ব দেওয়া হলো বুদ্ধিমান শেয়ালকে। শেয়াল ভয়ে ভয়ে হাতিটার বসবাসের জায়গায় গেল। লেজ গুটিয়ে, হাঁটু গুটিয়ে হাতিকে সালাম দিল। তারপর বলল, হাতি মহাশয় আপনাকে বনের সব পশু-পাখি রাজা হিসেবে বরণ করে নিতে চায়।
বুদ্ধি এবং বিনয়ের ভাব থাকলে শত্রুর সঙ্গেও মেশা যায়। কৌশলে শত্রুকে ঘায়েল করা যায়।
প্রশ্ন-৫। অহংকারী ও অত্যাচারীর পরিণাম শেষ পর্যন্ত কী হয়?
উত্তর: অহংকারী ও অত্যাচারীর পরিণাম খুব ভয়াবহ হয়।
অহংকারী ও অত্যাচারীর পরিণাম যা হয়: ‘হাতি ও শেয়ালের গল্প’ থেকে আমরা জানি, হাতিটা ছিল খুব অহংকারী ও অত্যাচারী। তার মস্ত বড় শরীর ছিল বলে সে অহংকারী হয়ে ওঠে। বনের পশুরা মিলে হাতিটার অত্যচারের প্রতিকারের ফন্দি করে। একদিন শেয়ালের বুদ্ধিতে নদী পার হতে গিয়ে হাতিটা চোরাবালিতে তলিয়ে মারা গেল। হাতিটার মতোই অহংকারী ও অত্যাচারীর পরিণাম শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ হয়।
পৃথিবীতে মানুষ অহংকারী হলেই তার ধ্বংস অনিবার্য হয়।
কবিতা : শব্দদূষণ
প্রশ্ন-১। কবিতায় কোন কোন পশু ও পাখির কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: সুকুমার বড়ুয়া ‘শব্দদূষণ’ কবিতায় নানা পশু ও পাখির কথা বলেছেন।
যেসব পশুর কথা বলা হয়েছে: শব্দদূষণ কবিতার প্রথমে বলা হয়েছে গরুর কথা। গরু আমাদের গৃহপালিত পশু। তারপর বলা হয়েছে কুকুরের কথা। কারণে অকারণে কুকুর রাতের বেলা ডেকে ওঠে।
যেসব পাখির কথা বলা হয়েছে: কবিতার প্রথমে আছে গৃহপালিত পাখির কথা। হাঁস, কবুতর, মোরগ গ্রামের প্রত্যেক বাড়িতে পালন করা হয়। নানা পাখির গানে সকালের আলো ফোটে। দোয়েল, চড়ুই গান ধরে কিচিরমিচির। ডালে ডালে ডেকে ওঠে ঘুঘু। আর পাতার ফাঁকে ফাঁকে উড়ে ডাকে টুনটুনি। পাখির ডাকে গ্রাম মুখরিত হয়ে ওঠে। শহরের আবর্জনার স্তূপের পাশে দেখা যায় পাতি কাক।
এ পশু-পাখিগুলো কখনো কখনো বিরক্তির কারণ হলেও এগুলোই আমাদের প্রকৃতির সবচেয়ে বড় সম্পদ।