পদ্মায় বিলীন হচ্ছে বিজিবি’র চর খানপুর ক্যাম্প
আনিসুজ্জামান, রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০১৪, ২১:১৩
এবার পদ্মায় বিলীন হতে যাচ্ছে ওপারে ভারতীয় সীমান্তবর্তী চর খানপুর বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) বর্ডার আউট পোস্ট (বিওপি)। পদ্মা বিজিবি ক্যাম্প থেকে মাত্র ২০/২৫ গজ দূরে চলে এসেছে। ইতোমধ্যে বিজিবি ক্যাম্প থেকে জরুরি মালামাল সরিয়ে নেয়া হয়েছে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বর্তমানে সেখান থেকেই চলছে বিজিবি ক্যাম্পের দৈনন্দিন কার্যক্রম।
এদিকে পদ্মার ভাঙন আর বন্যার আতঙ্কে রয়েছেন চরখানপুর এলাকার আরো পাঁচ হাজারের অধিক মানুষ। গত বর্ষায় ভারতীয় সীমান্তবর্তী রাজশাহীর পবা উপজেলায় চরখানপুর বিজিবি ক্যাম্প পদ্মার ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড গতবছর ২৫ জুলাই থেকে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৮০ মিটার ভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কাজ করে। কিন্তু পদ্মার ভাঙন রক্ষায় ওই উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কোনো কাজেই আসেনি। সরকার ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কথা দিয়েছিলেন শুষ্ক মৌসুমে ওই এলাকায় ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গড়ে তুলবেন। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে পদ্মার ভাঙন প্রতিরোধে কোনো কাজ এমনকি অর্থ বরাদ্দও দেয়া হয়নি।
অন্যদিকে গোদাগাড়ীর সুলতানগঞ্জে পদ্মার ভাঙন থেকে মাত্র প্রায় ৫শ’ মিটার দূরে অবস্থান করছে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহাসড়ক। পদ্মায় পানি বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উভয়পাশে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
গত শুক্রবার (১৫ আগস্ট) খানপুর বিওপি এলাকায় পদ্মার ভাঙন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন বিজিবির রাজশাহীস্থ সেক্টর কমান্ডার ফেরদৌস হোসেন, ৩৭ ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার আনোয়ার হোসেন, রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) দেওয়ান শাহরিয়ার ফিরোজ এবং পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ রাজ্জাকুল ইসলাম। তারা যখন ভাঙনকবলিত চরখানপুর বিজিবি ক্যাম্প পরিদর্শন করছিলেন, তখন পদ্মা ক্যাম্পের পশ্চিমে মাত্র ২০/২৫ গজের মধ্যে অবস্থান করছিল। এছাড়া পূর্বপাশ থেকে প্রায় ৫০ গজ এলাকা ভেঙে পদ্মা ভেতরে ঢুকে পড়েছে। বিজিবি সদস্যদের পাশাপাশি এখন চরখানপুর ও চরখিদিরপুর দুই গ্রামের সাধারণ মানুষও বাড়ি-ঘর ছাড়তে শুরু করেছে। বিজিবি-৩৭ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক আনোয়ারুল আলম বলেন, বর্তমানে ক্যাম্পের মাত্র ২০ গজ দূরে পদ্মার ভাঙন চলছে। দু’-একদিনের মধ্যেই ক্যাম্পটি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলেও জানান তিনি।
এ ব্যাপারে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ বলেন, বর্তমান ভাঙন পরিস্থিতির কথা ঢাকায় জানানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলেই ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গোদাগাড়ীতে কয়েক হাজার পরিবার হুমকিতে
গোদাগাড়ী (রাজশাহী) সংবাদদাতা জানান, রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পদ্মা নদীর পাড় ভাঙা অব্যাহত রয়েছে। ভাঙন রোধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় নদী পাড়ের মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ নদীর পাড় থেকে বাড়িঘর সরিয়ে নিচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এবার পদ্মা নদীতে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত ২ সপ্তাহ থেকে নদী ভাঙন আরো তীব্রতর হওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে উপজেলার ৫ হাজারেরও বেশি বাড়িঘর।
ভাঙন কবলিত সুলতানগঞ্জ গ্রামের বশির মন্ডল বলেন, বাড়িঘর থেকে নদী ভাঙ্গনের দূরত্ব মাত্র ২শ’ গজ। ভাঙন অব্যাহত থাকলে চলতি বছরেই সুলতানগঞ্জ, সারাংপুর ও ভগবন্তপুর গ্রামের প্রায় ২ হাজার বাড়িঘর, স্কুল, মসজিদ, পাকা রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর সুফিয়া খাতুন মিলি বলেন, গত ৩ বছর ধরে এই গ্রাম তিনটিতে মানুষ নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধের জন্য নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু আজও পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন-অর-রশিদ বলেন, গোদাগাড়ীতে নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলেই আগামী বছর নদীর তীর সংরক্ষণ বাঁধের কাজ শুরু হবে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে ভাঙ্গন রোধে জরুরিভাবে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
সুন্দরগঞ্জে তিস্তার ভাঙনে বাস্তুহারা সহস্রাধিক পরিবার
সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা জানান, উপজেলায় তিস্তা নদীর ভাঙনে সহস্রাধিক পরিবার বাস্তুহারা হয়েছে। খরস্রোতা তিস্তা নদীর পানি কমা- বাড়ার সাথে সাথে ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বেড়িবাঁধসহ হাজারও পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ফসলি জমি ও শতাধিক পান বরজ।
উপজেলার ভাঙন কবলিত এলাকাগুলো হচ্ছে- ছয়ঘড়িয়া, কালির খামার, উজান বোচাগাড়ী, কাশিমবাজার, কানি চরিতাবাড়ী, কাপাসিয়া, ভাটি কাপাসিয়া, উজান বুড়াইল, ভাটী বুড়াইল, পোড়ার চর, পূর্ব লালচামার। ইতোমধ্যে নদী ভাঙ্গনে বসত ভিটাসহ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় সহস্রাধিক পরিবার বাস্তুহারা হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় ছয়ঘড়িয়া থেকে কামারজানি পর্যন্ত বিস্তৃত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ছয়ঘড়িয়া, কালির খামার, উজান বোচাগাড়ি, লালচামার এলাকাসহ কয়েক হাজার পরিবার হুমকির মুখে পড়েছে।