নালিতাবাড়ী সীমান্তে হাতির তাণ্ডবে ১৯টি বসতঘর ভাংচুর
নালিতাবাড়ী (শেরপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৬ আগস্ট ২০১৪, ২১:৪৪
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী নাকুগাঁও স্থলবন্দর এলাকার কাটাবাড়ি গ্রামে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে বন্যহাতি রাতভর তাণ্ডব চালিয়ে ১১টি পরিবারের ১৯টি বসতঘর, বিধ্বস্ত করে আসবাবপত্র, গোলার ধান-চাল, শিমলা আলু ও ক্ষেতের ফসল খেয়ে সাবাড় করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এখন অন্যত্র আশ্রয় নিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। বন্যহাতি আতংকে এলাকার মানুষগুলো নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হচ্ছে, কার্তিনা ম্রংয়ের ২টি বসতঘর, রাইসা চিসিমের ২টি বসতঘর ও ১৬ মণ গোলার ধান, সুজয় মারকের ১টি বসতঘর, আঞ্জেন্দ্র চিসিমের ২টি বসতঘর ও ৫ মণ চাল, প্রভাত চিসিমের ২টি বসতঘর, শামছুল হকের ২টি বসতঘর, জলেন্দ্র মানকিনের ১টি বসতঘর, অরুন ম্রংয়ের ২টি বসতঘর, লেবেন মারাকের ১টি বসতঘর, নুরজাহানের ১টি মুদি দোকান ঘর ও হাজেরা বেগমের ৩টি বসতঘর ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত আঞ্জেন্দ্র চিসিম জানান, প্রায় ৫০টি অধিক বন্যহাতি তার বসতঘর ভাঙ্গার সময় তিনি দৌড়ে গাছে উঠে প্রাণ রক্ষা করেন। হাতির তাণ্ডবে তাদের প্রায় অর্ধ কোটি টাকার বাড়ি-ঘর ও ফসলের ক্ষতি হয়েছে।
বাতকুচি বনবিট কর্মকর্তা আমিনুল হক জানান, বন্যহাতির আবাসস্থলে মানুষ ঘর-বাড়ি বানানোর কারণে মানুষ বন্যহাতি দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বনবিভাগের ১০ সদস্য বিশিষ্ট একটি টিম ঘটনাস্থলে কাজ করছে।
ট্রাইবাল ওয়েল ফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মি. লুইস নেংমিনজা বলেন, এক যুগেরও অধিক সময় ধরে উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় বন্যহাতি তাণ্ডব চালাচ্ছে। তাই সরকারিভাবে এর স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।
নালিতাবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান মুকলেছুর রহমান রিপন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে আক্রান্ত এলাকায় রাতের বেলায় বন্যহাতি তাড়াতে মশাল জ্বালানোর জন্য ২শ’ লিটার কেরোসিন তেল বরাদ্দ দেন। তাছাড়া তিনি ক্ষতি নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সাহায্য প্রদানের ঘোষণা দেন।